১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে নানা শঙ্কা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬, ২০২২; সময়: ১০:৩০ am |
১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে নানা শঙ্কা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ১০ ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। দিনটিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলছে বাগ্যুদ্ধ। ডিসেম্বরে ঢাকার রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে দুদল। ওইদিন ঢাকা মহানগরকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করার পরিকল্পনা নিয়েছে আ.লীগ। বিএনপিকে ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশপথে বসানো হতে পারে চেকপোস্ট। ঢাকা জেলা আ.লীগের পক্ষ থেকে সাভারে জনসভা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মীরা। গণসমাবেশের আগে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে-এমন আভাস দিয়েছেন গণপরিবহণসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার গণসমাবেশে নানা বাধা আসবে-এমনটা ধরে নিয়েই ‘ঐতিহাসিক’ গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলে কীভাবে সমাবেশস্থলে আসবে সেই পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবাসিক হোটেলে আগতদের বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেসগুলোতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। পহেলা ডিসেম্বর থেকে বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনগুলোতে সতর্কাবস্থায় থাকবে পুলিশ।

সব মিলিয়ে এ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের আতঙ্ক। রাজপথে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে-এমন আশঙ্কা তাদের।

ঢাকাকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা

বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে রাজধানী ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। সরাসরি পালটা কর্মসূচি না দিলেও বিএনপিকে কৌশলে মোকাবিলার পরিকল্পনা নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। ১০ ডিসেম্বর ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে জনসমাবেশ করবে তারা। ওইদিন মহানগরেও আলাদা সমাবেশের চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি থানা-ওয়ার্ডগুলোতে মোড়ে মোড়ে সতর্কাবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া সমাবেশ ঘিরে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হবে-এমন আভাস দিয়েছেন পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সূত্রগুলো।

পাশাপাশি ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিট প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে নাশকতা মামলার আসামিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছে-তারা কোনো পালটা কর্মসূচি দিচ্ছেন না। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে তাদের কোনো আপত্তিও নেই। তবে বিশৃঙ্খলা করলে প্রতিহত করা হবে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির ছক তৈরি করছেন। দলীয় হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেলে চূড়ান্ত হবে এসব কর্মসূচি। তবে ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এ কর্মসূচি বিএনপির কর্মসূচির আশপাশে না করে আলাদাভাবে দূরে কোথাও করার কথা ভাবছেন তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোনো নির্দেশনা পায়নি সংগঠনটি।

অন্যদিকে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওইদিন সকাল থেকেই অবস্থান নেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এছাড়া ঢাকার প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাতেও জনসমাগমের কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। আর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশেরই থানা-ওয়ার্ডগুলোকে মোড়ে মোড়ে সংঘর্ষ এড়িয়ে সতর্কাবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ঢাকার মূল প্রবেশপথগুলোর একটি সাভারে জনসভা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে রাজধানীতে তিনটি শান্তি সমাবেশ করেছি। ১৯-২০ তারিখে উত্তরায় আরেকটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরের ১০ তারিখেও আমরা ঢাকায় একটি সমাবেশ করতে চাই। তবে এটা অবশ্যই বিএনপির কর্মসূচি থেকে দূরে। কারণ আমরা চাই না বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এ মাসে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। ডিসেম্বরে আমাদের মাসব্যাপী কর্মসূচি থাকবে। বিএনপি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও প্রতিহত করবে। ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সতর্কাবস্থানে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান বলেন, ১০ ডিসেম্বর সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানা মিলে আমরা সাভারে জনসভা করব। ১০ ডিসেম্বর ঘিরে আর কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করতে চায়, জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

আরও জানা গেছে, মূল দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোও ১০ ডিসেম্বর ঘিরে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর এবং ঢাকার আশপাশের জেলা শাখাগুলোর নেতাকর্মীরা ওই দিন সতর্কাবস্থানে থাকবেন। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, বিএনপি-জমায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ১০ ডিসেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে সতর্কাবস্থানে থাকবেন। বিএনপি যদি কোনো ধরনের নৈরাজ্য করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বিএনপি ওইদিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে করতেই পারে। কিন্তু তারা যদি আবার অতীতের মতো সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের পথে যেতে চায় তাহলে তাদের প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক ও সজাগ থাকবে। কাউকেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।

ঢাকা বিচ্ছিন্ন : ১০ ডিসেম্বর ঘিরে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে মনে করছে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সূত্রগুলো। তবে তারা এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সমাবেশের আগেই বাস ও লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তারা আভাস পাচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমানে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণক পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। অপরদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাদের রাজনৈতিক কারণেই পরিবহণ বন্ধ করে দেবেন বলেও মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সড়কে অনুকূল পরিবেশ থাকলে, দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলে আমরা অবশ্যই গাড়ি চালাব। কিন্তু পরিবেশ যদি অনুকূল না হয় তাহলে গাড়ি চালাব না। তিনি বলেন, কোনো বাস মালিক জেনেবুঝে তার মূল্যবান গাড়িটি ক্ষতির মধ্যে দিতে চাইবেন না। দেখা যাক, ১০ ডিসেম্বর ঘিরে পরিস্থিতি কেমন থাকে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গাড়ি বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস বন্ধ ছিল। তখনও আমাদের কোনো মতামত নিয়ে গাড়ি বন্ধ করা হয়নি।

রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাড়ি বন্ধের পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। তিনি বলেন, সমাবেশের আগে বাস বন্ধের সংস্কৃতি বিএনপি শুরু করেছে। ১৯৯৪ সালে ঢাকায় তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার জনসভার আগে সারা দেশে পরিবহণ ধর্মঘট করেছিল বিএনপি। এখন সেই ফাঁদে পড়েছে দলটি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে আমরা গাড়ি বন্ধের পক্ষে নই। তবে মালিকরা গাড়ি চালাতে না চাইলে শ্রমিকদের কিছু করার নেই। সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাড়ি ভাঙচুর হতে পারে এই ভয়ে মালিকরা তাদের গাড়ি নামাতে চান না।

পুলিশ তৎপরতা : ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকার সব আবাসিক হোটেলের তালিকা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। হোটেলে আগতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে। পাশাপাশি মেসগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতেও সতর্কাবস্থায় থাকবে পুলিশ। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে যে অনুমতি চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১০ ডিসেম্বর যদি বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে রিজার্ভ ফোর্স আনা হবে। তারা বিভিন্ন থানা পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। ওইদিন রাজধানীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। সমাবেশস্থল ছাড়াও বিভিন্ন কেপিআই পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাড়ানো হবে টহল ডিউটিও। সাদা পোশাকে তৎপর থাকবেন গোয়েন্দারা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রথমে পুলিশ ধৈর্য ধারণ করবে। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে নির্দশনা দেওয়া হয়েছে। আগাম তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পনামাফিক কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক সমাবেশকে ঘিরে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা তৎপর আছি।

সব বাধা মাথায় রেখেই বিএনপির প্রস্তুতি

ঢাকার গণসমাবেশ আয়োজনে কঠোর বাধা আসবে-এমন আশঙ্কা মাথায় রেখেই ‘ঐতিহাসিক’ গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে কর্মিসভা। শুধু ঢাকা নয়, বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক জেলায় শুরু হয়েছে প্রস্তুতি সভা। ১৮ নভেম্বর থেকে গণসমাবেশ সফলে শুরু হবে লিফলেট বিতরণ।

ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশের আগে মহানগর নেতাকর্মীদের রাজধানীর বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকমান্ড। দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন, ১০ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ব্যাপক ধরপাকড় হতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই গ্রেফতার এড়িয়ে গণসমাবেশের প্রস্তুতি নিতে হাইকমান্ড থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ঢাকার গণসমাবেশের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার কী করতে চাচ্ছে-তা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতারা মনে করেন, সরকার বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাহস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষেরও বিএনপির ওপর আস্থা ফিরে এসেছে। এ অবস্থা ধরে রেখে সামনের দিনগুলোতে কর্মসূচি ঠিক করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকার সমাবেশের দিন সারা দেশের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখবে বিএনপি। ওইদিন ক্ষমতাসীনরা ঢাকার সমাবেশে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে দলীয় সিদ্ধান্তে একযোগে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন সারা দেশের নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় ঢাকা বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগের নেতাকর্মীদের রাজধানী ঢাকায় আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে।

দলটির নেতারা বলেন, অন্যান্য বিভাগের মতো রাজধানী ঢাকায়ও তারা একটি সমাবেশ করবেন; কোনো অবস্থায় মহাসমাবেশ নয়।

দলের একাধিক নেতা বলেন, সরকারের পতন আন্দোলনে যাওয়ার আগে পরিকল্পনামাফিক এগোতে হবে। আবেগ দিয়ে তো আগুনে ঝাঁপ দেওয়া যাবে না। এই আন্দোলন আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও তার সরকারের বিরুদ্ধে। সরকার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও দলগতভাবে এখনো তার অবস্থান ভালো। যে কোনো আন্দোলন সফল করতে গেলে দেশি-বিদেশি সবার আন্দোলনের প্রতি সায় থাকতে হয়।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অন্যান্য বিভাগের মতো ১০ ডিসেম্বর ঢাকায়ও আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। কারও ফাঁদে পা দেব না। আশা করি এই সমাবেশে সরকার বাধা দেবে না। বাধা দিলে কী হয় সরকার তো অন্যান্য বিভাগে দেখেছে। ঢাকাও তার ব্যতিক্রম হবে না।

এদিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। সমাবেশের অনুমতি ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করতে মঙ্গলবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ছয়টি বিভাগীয় শহরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সমাবেশের জন্য আমরা অনুমতি চেয়েছি। তারা বলেছেন, আলাপ-আলোচনা করে আমাদের জানাবেন। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিএনপির দরখাস্ত পেলেও এখনো অনুমতি দেয়নি। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর অনুমতির বিষয়টি জানানো হবে। তবে সেটি কবে নাগাদ জানানো হতে পারে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘ঐতিহাসিক’ গণসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানায় শুরু হয়েছে প্রস্তুতি সভা। গণসমাবেশ সফলে প্রস্তুতি সভা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিতে পারে তাই কৌশল হিসাবে কর্মিসভার নামে চলছে প্রস্তুতি। প্রতিদিন একাধিক ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সভা। গণসমাবেশে নেতাকর্মীদের ভূমিকা কী হবে, কারা কোথায় অবস্থান করবেন-সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬টি থানাকে আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি থানা ও জোনভিত্তিক প্রস্তুতি সভা শেষ করা হয়েছে। দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানাকে আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। থানা ও জোনভিত্তিক প্রস্তুতি সভা শেষ করেছে মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। মহানগর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এসব প্রস্তুতি সভায় যোগ দিচ্ছেন।

প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীদের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সমাবেশের দিন কারা কোথায় থাকবেন, কীভাবে সমাবেশে আসবেন সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুতি সভায় গ্রেফতারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, শুধু ঢাকা মহানগর নয়, বিভাগের সব জেলা নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা করা হচ্ছে। সোমবার সব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে ঢাকায় প্রস্তুতি সভা করেছেন গণসমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার বাসায় অনুষ্ঠিত এ যৌথ সভায় গণসমাবেশ সফলে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় নেতারা ১১টি সাংগঠনিক জেলায় প্রস্তুতি সভা করবেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকারের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। ঢাকার বাইরে বিএনপির গণসমাবেশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। ওইদিন পুরো ঢাকা শহরে জনতার ঢল নামবে। সরকার এমনটা বুঝতে পেরে এখন থেকেই নানা কৌশলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রস্তুতি সভা শেষে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অহেতুক যাতে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা না হয় সে বিষয়টি দেখতে ডিএমপি কমিশনারকে আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, এসব করে নেতাকর্মীদের আটকাতে পারবে না। এ সরকারের পতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।

সূত্র জানায়, ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশের আগে মহানগরের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঢাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশ ছাড়া কেউ ঢাকা ছাড়লে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাইকমান্ডের এমন কঠোর নির্দেশের পর ঢাকার বাইরে বিভাগীয় গণসমাবেশে মহানগরের নেতারা যাচ্ছেন না। মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল হাইকমান্ডের অনুমতি নিয়ে ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে অংশ নেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, অন্যান্য বিভাগের মতো আমরা ঢাকায়ও শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওইদিন নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এতে যোগ দেবেন বলে আশা করি। সমাবেশ সফলে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু সমাবেশ বানচালের সরকার ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অহেতুক গ্রেফতার ও হয়রানি না করার অনুরোধ জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ঢাকায় গণসমাবেশের আগে মহানগর নেতাকর্মীদের রাজধানী না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই ঢাকার বাইরে কোনো সমাবেশে মহানগর নেতারা যাচ্ছেন না। আমাদের মূল লক্ষ্য ঢাকার গণসমাবেশ সফল করা।

সূত্র জানায়, ঢাকার গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগ থেকে সারা দেশে গণপরিবহণ ধর্মঘট ডাকতে পারে বলে আশঙ্কা বিএনপির হাইকমান্ডের। ধর্মঘট ডাকা হলে সারা দেশে থেকে নেতাকর্মীরা কীভাবে আসবেন তা নিয়ে এখনই ভাবছেন তারা। ধর্মঘট ডাকার আগেই সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা যাতে নিরাপদে ঢাকায় আসতে পারেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। মঙ্গলবার জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সবাইকে বলা হয়েছে যে কোনো মূল্যে সমাবেশে যেতে হবে। পরিবহণ বন্ধ করা হলে প্রয়োজনে হেঁটে আমরা ঢাকায় যাব। তবে কবে, কীভাবে যাব তা এখনই বলতে চাই না।

ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ : সকাল ১০টায় মিন্টো রোডের ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে যান বিএনপির নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন-যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সদস্য সচিব আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনুসহ আরও কয়েকজন।

কোথায় অনুমতি চেয়েছেন জানতে চাইলে আমানউল্লাহ বলেন, আমরা আমাদের দপ্তর থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চেয়েছি। এখানে আমরা আগেও সমাবেশ করেছি। আমরা বলেছি, সমাবেশটি হবে শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তার বিষয়টি তারা দেখবেন বলে আমরা চিঠিতে বলেছি।

আগের সমাবেশগুলোর অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামে বাসসহ সব পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরে আরও পাঁচটি বিভাগীয় সমাবেশেও একই কাজ করা হয়েছে। আমরা বলেছি, এ ধরনের পরিবহণ বন্ধ করা যাবে না। এ বিষয়টি তাদের দেখতে অনুরোধ করেছি। আমাদের সমাবেশে যারা আসবেন, তারা যেন কোনো বাধার সম্মুখীন না হন। তাদের ওপর যেন কোনো ধরনের আক্রমণ না করা হয়। আমরা কমিশনারকে বলেছি, আপনি আওয়ামী লীগের কমিশনার নন, বিএনপির কমিশনার নন, আপনি সরকারের কমিশনার। আপনি সরকারি কর্মকর্তা।

এদিকে লক্ষ্য রেখে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। ডিএমপি কমিশনারের কাছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় বলে জানান আমানউল্লাহ আমান।

এদিকে দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা লিখিত দরখাস্ত পেয়েছি, এখন সেটি বিবেচনা করে দেখব অনুমতি দেওয়া যায় কি-না। আমাদের যে গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখব কোনো ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি-না। গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ অনুমতি দেওয়া যাবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

নেতাকর্মীদের ধরপাকড় বিষয়ে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমরা ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এরকম কাউকে গ্রেফতার করিনি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই তাদের গ্রেফতারে অভিযানও চলছে না। তবে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা আছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব, তাদের গ্রেফতার করব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে