মহাকাশে রহস্যময় সৌরজগতের সন্ধান

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২২; সময়: ১১:৪০ am |
মহাকাশে রহস্যময় সৌরজগতের সন্ধান

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মহাকাশে রহস্যময় সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যা আমাদের চেনা সৌরজগত থেকে অনেকটাই আলাদা।

বিজ্ঞানীরা প্রায় ৯০ আলোকবর্ষ দূরে ১০ ​​বিলিয়ন বছরেরও বেশি পুরনো সাদা বামন নক্ষত্রকে দেখেছেন। যা সূর্যেরই মতো একটি মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্ট উষ্ণ অংশ। সেটি গ্রহের ভাঙা টুকরোগুলির সমষ্টি দ্বারা বেষ্টিত, যাকে প্ল্যানেটসিমাল বলা হয়।

এই অস্পষ্ট তারকাটির সৃষ্টিও হয়েছে ওই টুকরো টুকরো বস্তুগুলো দিয়ে। তবে এই সৌরজগতটি আমাদের চারপাশের থেকে অনেক আলাদা। এটি লিথিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো উপাদানগুলো দিয়ে ভরপুর। কিন্তু আমাদের সৌরজগতের কোনও গ্রহেরই গঠন এমন নয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের আদি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এই প্রাচীনতম সৌরজগত কেন এতটা আলাদা ছিল? আর কীভাবেই লিথিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো বিরল উপকরণগুলো দ্বারা সমৃদ্ধ এই সৌরজগত?

রহস্যময় এই সৌরজগত নিয়ে গবেষণা করেছেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র অ্যাবিগেইল এলমস। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ম্যাশেবলকে বলেছেন, ‘এটি একটি সম্পূর্ণ রহস্য।’ গবেষণাটি এই সপ্তাহে রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মান্থলি নোটিস সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এলমস বলেছেন, ‘এই সৌরজগৎ পুরনো। অর্থাৎ শ্বেত বামন (যাকে ডাব্লিউ জে২১৪৭-৪০৩৫ নামে ডাকা হয়) এবং তার আশপাশের সৌরজগৎ গঠিত হয় এবং মারাও যায় সূর্য ও পৃথিবীর জন্মের আগেই। প্রকৃতপক্ষে, জে২১৪৭-৪০৩৫ এর চারপাশে প্রাক্তন গ্রহের খণ্ডগুলো হল প্রাচীনতম গ্রহের প্রাণী, যা আমাদের ছায়াপথে একটি সাদা বামনের চারপাশে পাওয়া গেছে।’

অবসার্ভেটরি ব্যবহার করে তারা মহাকাশে এই শ্বেত বামন এবং একই বয়সের আর একটি গ্রহ আবিষ্কার করেছেন, যার নাম গাইয়া। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময়, এই দূরবর্তী মহাকাশযানটি মহাজাগতিক নক্ষত্র এবং ছায়াপথগুলোকে ম্যাপ করছে। এই সাদা বামনগুলোকে চিহ্নিত করার পরে গবেষকরা চিলির উচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত ‘এক্স-শুটার’ নামের একটি যন্ত্রের সাহায্য নেন, যা তারার বায়ুমণ্ডলে কী রয়েছে এবং কী নেই-তা শনাক্ত করার কাজে লেগেছিল। এ প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভাল যে, ‘স্পেকট্রোমিটার’ নামক মূল্যবান জ্যোতির্বিদ্যার হাতিয়ারের একটি প্রকার হল এই এক্স-শুটার।

ডাব্লিউ জে২১৪৭-৪০৩৫-এ লিথিয়াম, পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো রাসায়নিক পদার্থগুলি বেড়েই চলেছে অথবা মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা এর চারপাশে জড়ো হয়েছে-প্রাচীন নক্ষত্রটিতে এই ধরনের উপাদানের সন্ধান পাওয়া সম্পর্কে এমনটাই বলছেন গবেষকরা।

শ্বেত বামনগুলো হাইড্রোজেন বা হিলিয়াম দিয়ে তৈরি, তাই গ্রহের পাথুরে অবশিষ্টাংশগুলো অন্যান্য উপাদান সরবরাহে এদের অবদান ছিল যথেষ্ট। আর সেখান থেকেই গবেষকরা ইঙ্গিত পেয়েছেন, এদের মধ্যে কীরকম ভাবে এমন বিভিন্ন উপাদান ছিল, যা আমাদের সৌরজগতে নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে