কেশরহাটে সার ডিলারের মজুদ কৌশলে অসহায় কৃষকরা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০২২; সময়: ১১:০৭ am |
কেশরহাটে সার ডিলারের মজুদ কৌশলে অসহায় কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স সরদার ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে সার-কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। রোববার ১৩ নভেম্বর সকালে কৃষকরা সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্টের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে মোহনপুর থানার পুলিশ সদস্যরা এসে সার বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সার ডিলার মেসার্স সরদার ট্রেডার্সের মালিক বজলুল করিম নিজের প্রয়োজনীয় সার পেতে ডিলারশিপ নিয়েছে। এজন্য তিনি সাধারণ কৃষকদের সার না দিয়ে বিভিন্ন নামে মেমো কেটে নিজের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলেছে সার না পাওয়া কৃষকরা। এরআগে কৃষকদের ক্ষোভের মুখে অবরুদ্ধ হোন সারের ডিলার।

পরে থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা আব্দুর রব এসে প্রাথমিকভাবে কৃষকদের শান্ত হতে বলেন। এরপর কৃষকদের দাবির মুখে ডিলারের মেমো চেক করেন তিনি। এসময় মেমোতে থাকা এক নাম্বারে ফোন করে জানতে পারেন যে তিনি সার পাননি। তাহলে এই সার গেলো কোথায়?

এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খেতে খেতে ঘটনাস্থলে আসেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম বাদশাহ ও ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান। এর কিছুক্ষণ পর হাজির হোন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন। সকলকে নিয়ে সার সংকটের কারণ যাচায়ে ডিলারের গোডানে ঢুকে দেখা যায়, ৪১ বস্তা এমওপি মজুদ রয়েছে।

এছাড়াও ডিএপিসহ অন্যান্য সার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এসময় কৃষকদের পরিমাণের সাথে সমন্বয় করে মজুদকৃত সার বিতরণ করার স্বীদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন ডিলালের পক্ষ নিয়ে মাত্র ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি করার নির্দেশ প্রদান করেন কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন।

কৃষকরা সামান্য ১০ কেজি এমওপি সার নিয়ে তাদের জমির চাহিদা পূরণ হবেনা বলে দাবি জানালে, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মোহনপুর থানার (ওসি) সেলিম বাদশাহ সকল সার উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ভাগ করে বিতরনের অনুরোধ জানায়। তবুও কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন ডিলারের সুবিধার কথা চিন্তা করে নানান কারন তুলে বলেন ১০ কেজি এমওপি নিলে নেন তাছাড়া এখান থেকে চলে যান। এতে কিছু সংখ্যক কৃষকরা সার নিলেও অনেকে মনে কষ্ট নিয়ে চলে যায়।

ভুক্তভুগি কৃষকরা জানায়, সার আমরা ন্যায্য মূল্যে কেনার জন্য আসলে ডিলার কারসাজি করে দোকানে সার না রেখে গোডাউনে লুকিয়ে রাখে। সার পেতে যদি ভুগান্তি পড়তে হয় তাহলে ফসল উৎপাদন করবো কি করে। এগুলো কথা কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তো আমাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন আপনারা সার নিয়ে বাহিরে বিক্রি করবেন নাকি? ওনাকে জমির খোঁজ নিতে বল্লে তিনি তো আমাদের কথা না শুনে উল্টা পাল্টা কথা বলে তাড়িয়ে দেয়।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪১ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়। সেখান সকল কৃষকদের মাঝে সার দেওয়া জন্যে ১০ কেজি করে সার বিক্রি করার কথা বলেছি। এতে তাদের চাহিদা পূরণ না হলে বাজারে অন্যান্য ডিলারের কাছ থেকে সার নিতে বলেছি।

সেই ডিলারের কাছে ৪১ বস্তা সারের মধ্যে থেকে বিক্রির পর কত বস্তা সার মজুদ রয়েছে আর অসহায় কৃষকের সারের চাহিদা কিভাবে পূরণ হবে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সেই গোডাউনে এখন কত বস্তা সার মজুদ আছে, তার হিসাব এখনো আমার নেওয়া হয়নি। তবে মোহনপুরে সারের কোন ঘাড়তি নাই, বাকি সকল ডিলারের কাছে অসংখ্য সার মজুদ আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে