প্রসাধনী পণ্যেও উর্ধ্বগতির থাবা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২২; সময়: ৩:৩৮ pm |
প্রসাধনী পণ্যেও উর্ধ্বগতির থাবা

মনীষা আক্তার : বাজারে যখন বিভিন্ন পণ্যের দামের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ নাজেহাল ঠিক তখনও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রসাধনীরও দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন নিন্মবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকলেই। তাছাড়াও পণ্যের দাম দফায় দফায় আরো বাড়তে পারে এমনটায় বলছেন বিক্রেতারা।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন আধুনিক সুপার শপগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে এমন উর্ধ্বগতির চিত্র।

জানা গেছে, একবারে না বেড়ে কয়েক দফায় বেড়েছে প্রসাধনীপণ্যের মূল্য। বাজারে পণ্য কিনতে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বাড়তি খরচ সামাল দিতে না পেরে প্রসাধনীপণ্য কিনতে বিপাকে পড়ছেন। দাম জেনে চলে যাচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষই। ঘুরছেন দোকান থেকে দোকানে।

সাবান, শ্যাম্পু, ক্রীম, লোশন, পাউডার, কেশতেল ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ব্রাশসহ সব ধরনের প্রসাধনীপণ্যের দাম বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০-২০০ টাকা পর্যন্ত। ১৫ দিন আগে ৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ১২৫ গ্রামের ডেটল সাবান বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। ১০০ গ্রামের লাক্স সাবান নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায় যা কিছুদিন আগেও ছিলো ৬৫ টাকা। ৪০ টাকা বেড়ে ১ কেজি হুইল পাউডারের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, ১৪০ টাকার রিন পাউডার বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, ৫০০ গ্রামের লিকুইড ভিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বল সাবানের দাম ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকা করে।

বলা যায় প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তি। দুইমাস আগে যে সাবান ৩৫ টাকা ছিল সেটা এখন ৫৫ টাকা, যেটা ৫৫ টাকা ছিল সেটা এখন ৭৫ টাকা। সাবান ছাড়াও বেড়েছে শ্যাম্পুর দাম। ২০০ মিলি গ্রাম ওজনের সব ধরনের শ্যাম্পু ৫০-১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এছাড়া হারপিকের দামও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। ১৬০ গ্রাম ওজনের টুথপেস্ট বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত। ২০০ মি.লি. ওজনের নারিকেল তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে জানা যায়, গত দুই মাসে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রসাধনীপণ্যের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসব পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আভাস দেন তারা।

বাজার করতে আসা ক্রেতা মোরশেদ জামান বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০-৪০ টাকা করে বাড়ছে সব ধরনের প্রসাধনীপণ্যের দাম। কিছু দিন আগেই তিব্বত পাউডার নিয়েছিলাম ৭০ টাকায় এখন সেটা ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কোনো কিছুর দাম বাড়লে সেটা আর কমার কোনো নজির নেই। সবকিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের মতো নিন্মবিত্তের মানুষদের প্রসাধনী পণ্য ব্যবহার করাই ছেড়ে দিতে হবে।’

ডিটারজেন্ট পাউডার কিনতে আসা আরেক ক্রেতা ইউসুফ হোসেন। পেশায় বেসরকারি ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানান, ‘আগের বার ১২০ টাকা দিয়ে এককেজি ডিটারজেন্ট পাউডার নিয়েছি। আজ ১৩৫ টাকা দিয়ে কিনলাম। এতদিন চাল, ডাল, তেল বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এখন সাবানও বেশি দামে কিনতে হবে। সামনে আর কোন কোন পণ্যের দাম বাড়ে কে জানে। সব কিছুর দামই তো বাড়ছে। আমাদের বেতন কেন বাড়ানো হচ্ছে না। ব্যয়ের সঙ্গে আমাদের আয় বাড়লে তো অসুবিধা নেই। কিন্তু তা কখনোই করা হচ্ছে না। শুধু আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে।’

প্রসাধনী বাজারের এমন উর্ধ্বগতি সম্পর্কে নগরীর আরডিএ মার্কেটের মেহেদী বিতানের বিক্রেতা জানান, ‘দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পর পরই এসব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বাজারে বেশি দামের নতুন পণ্যই সরবরাহ করা হচ্ছে। আগের দামের কোনো পণ্য বাজারে এখন নেই। দাম বাড়ার পেছনের কারণ মূলত কাঁচামালের দাম ও আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি।’

অন্যদিকে শীতের আবির্ভাবের সাথে বাড়ছে ভ্যাসলিন, লোশন, গ্লিসারিনসহ শীতে ব্যবহৃত সকল প্রসাধনসামগ্রীর দাম। গত শীতে নিভিয়া লোশনের দাম ছিল ৩৮০ টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮০ টাকা। ভ্যাসলিন লোশনের দাম ১৮০ ছিলো আগে কিন্তু এখন তা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্লসারিন এর দাম ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলী ১৮ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জ্বালানি তেলের কথা উল্লেখ করে বিক্রেতা রাব্বি জানান, ‘এখন যেই পণ্যের অর্ডার দেই সব কিছুই আগের চেয়ে ১০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে নতুন দামের ক্লোজআপ টুথপেস্ট বিক্রি করছি ১২০ টাকায় অথচ একমাস আগেও ১১০ টাকা বিক্রি করেছিলাম। বাজারের এমন উর্ধ্বগতিতে আমরাও ভালো নেই। বেচা বিক্রি তো প্রায় অর্ধেক। ১০ জন ক্রেতা আসলে দাম শুনে কিনছেন ৪জন বিক্রেতা। বেশিরভাগই না কিনেই চলে যাচ্ছেন।’

এবিষয়ে রাজশাহী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে সবকিছুর উর্ধ্বগতিতে প্রতিটি মানুষের নাভি:শ্বাস উঠেছে। সবকিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অপরদিকে সকল মানুষের আয় আনুপাতিক হারে বাড়েনি। যারা ধনী তারা ধনী হচ্ছে আর যারা গরীব তারা গরীব থেকে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে এখনই সরকার কে মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা উচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে