জীবনের ৭০ ও রাজনীতির পঞ্চাশে ভালোবাসায় সিক্ত এমপি বাদশা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২২; সময়: ১০:৩৩ pm |
জীবনের ৭০ ও রাজনীতির পঞ্চাশে ভালোবাসায় সিক্ত এমপি বাদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জীবনের সত্তর ও রাজনীতির পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে রাজশাহীতে হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে বাদশা উপস্থিত হলে আদিবাসী নারীরা তাকে সাংস্কৃতিক নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে স্বাগত জানান।

পরে রাজশাহীর শতাধিক স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা ফজলে হোসেন বাদশাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় রাজশাহীর বিশিষ্টজনরা বাদশার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন।

বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা বলেন, ফজলে হোসেন বাদশা আমার ছাত্র ছিলেন। নিজের ছাত্র যখন ভবিষ্যতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, দেশের নাম উজ্জ্বল করে; তখন শিক্ষক হিসেবে তা অত্যন্ত গর্বের। আমি বাদশাকে নিয়ে গর্ব করি। একই ধারায় টানা পঞ্চাশ বছর রাজনীতিতে সক্রিয়তা শক্তিশালী চেতনা ও আদর্শের পরিচয় বহন করে। ফজলে হোসেন বাদশা কখনোই তাঁর আদর্শ থেকে তিল পরিমাণ বিচ্যুতি হননি। তাঁর একনিষ্ঠ দেশপ্রেম ও সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ভবিষ্যত তরুণ প্রজন্মের অনন্য অনুপ্রেরণা ।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, রাজশাহীর প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে ফজলে হোসেন বাদশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু রাজনীতিই নয়, রাজশাহীকে শিক্ষা নগরীতে পরিণত করতেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। যতদিন রাজশাহী থাকবে ততদিন ফজলে হোসেন বাদশাকে সাধারণ মানুষ পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল আকাঙ্ক্ষা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফজলে হোসেন বাদশা এখন জাতীয় রাজনীতিক। রাজনীতিতে তাঁর পঞ্চাশ বছর; শুধুমাত্র কোন সংখ্যা নয়, একটি সুদীর্ঘ পরিক্রমা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চুড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের জন্য ফজলে হোসেন বাদশা প্রয়োজনে আরও পঞ্চাশ বছর রাজনীতি করবেন।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আব্দুল হাদী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ফজলে হোসেন বাদশা গণমানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনীতি করেছেন। কখনো কৃষক শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ, আবার কখনো আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নিগোষ্ঠীদের নিয়ে লড়াই করেছেন নিরলসভাবে। রাজশাহীর মানুষ হিসেবে তাঁকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।

এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই সেদিন আমাকে মুক্তিযুদ্ধের যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিনিময়ে কখনোই কিছু প্রত্যাশা করিনি। চেয়েছি শুধুমাত্র একটি সমতাভিত্তিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ। যা এখনো পুরোপুরি ভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এটি বাস্তবায়নে এখনো আমাদের লড়াই চলমান। যতদিন বেঁচে থাকবো, এই লড়াইও চলমান থাকবে। আজকের দিনে রাজশাহীর মানুষ আমাকে যেভাবে স্মরণ করেছে, তা আমার আজীবনের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।

সাবেক ছাত্রনেতা মনজুর মোরশেদ হাসান চুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে