রাজশাহীর সমাবেশে সর্বোচ্চ লোকসমাগমের প্রস্তুুতি : সাবেক এমপি সিরাজ সরদার

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২২; সময়: ৫:১১ pm |
রাজশাহীর সমাবেশে সর্বোচ্চ লোকসমাগমের প্রস্তুুতি : সাবেক এমপি সিরাজ সরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গণসমাবেশে পাবনা জেলা থেকে সর্বোচ্চ লোক নিয়ে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার।

একই সঙ্গে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী অনুপ্রবেশকারী হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রতিহতেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী হাসেম আলী মিলনায়তনে গণসমাবেশে যোগদান উপলক্ষে কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, স্বৈরাচারী এই সরকারের পতন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও আমরা সেই আন্দোলন সফল করব ইনশাল্লাহ। সেই আন্দোলনের অংশ হিসাবে আমরা রাজশাহী গণসমাবেশে অংশগ্রহণ করব। সমাবেশের দুই দিন আগেই হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে রাজশাহীতে অবস্থান গ্রহণ করব। এজন্য আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে।

অনুপ্রবেশকারী হাবিবকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব একজন অনুপ্রবেশকারী। সে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন। যারা ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় বিএনপির জন্ম দিয়েছেন, যারা রক্ত দিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী, আওয়ামী লীগ, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কমিটি করছেন। এই সব কমিটি ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বয়কট করেছেন এবং অনুপ্রবেশকারী হাবিবকে প্রতিহতের শপথ নিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারী বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই হাবিবকে ও তার নৌকাকে পরাজিত করেছিলাম। তখন উনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি ছিলেন। সেই নির্বাচনে হাবিব জিতত তাহলে আজকে বিএনপির সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হতো। ১৯৯৬ সালে যদি শেখ হাসিনা তাকে আরেকবার মনোনয়ন পেতেন তাহলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার অত্যাচারে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। অথচ সেই হাবিব আজকে বিএনপি বিএনপি করেন।

ঈশ্বরদী বিএনপি’র ৪৭ নেতাকর্মীর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নেপথ্যে হাবিবের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করে সিরাজ সরদারের বলেন, সেদিন শেখ হাসিনার গাড়িতে ছিলেন এই হাবিব। হামলার নাটক সাজিয়ে এইসব বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। সে সেই হামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে অন্যতম স্বাক্ষী ছিলেন। বিএনপির এইসব ত্যাগী নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক জেলে থাকলেও তাদের কোনো খোঁজখবর তিনি নেন না।

ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আখতার আনজাম হোসেন ডনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক শফিউদ্দিন মন্ডল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরদার, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সেনটু, উপজেলার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মুলাডুলি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবলু, উপজেলার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান ও পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাকিউল ইসলাম তপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ঈশ্বরদী যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আতিয়া রহমান, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শরিফুজ্জামান বাবু প্রমুখ।

কর্মী সমাবেশ থেকে আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভাগীয় গণসমাবেশে অংশগ্রহণ ও সফল করতে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি গঠন করে সমাবেশে সর্বোচ্চ লোকসমাগম করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে