আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স যখন নিজেই ‘রোগী’

প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২২; সময়: ১:৩১ pm |
আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স যখন নিজেই ‘রোগী’

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভারত সরকারের দেয়া আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দুটি অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত পড়ে আছে চুয়াডাঙ্গায়। প্রয়োজনীয় লোকবল ও অপ্রতুল যন্ত্রপাতির কারণে এক বছরেও অ্যাম্বুলেন্স চালু সম্ভব হয়নি। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স চালানো ব্যয়বহুল হওয়ায় উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দামি অ্যাম্বুলেন্স দুটি খোলা আকাশের নিচে গ্যারেজবন্দি রয়েছে। রোগী বহনের মতো পরিস্থিতি নেই। ফলে আইসিইউযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স দুটি চালু হলে জেলায় স্বাস্থ্যসেবায় কিছুটা গতি ফিরবে।

অনেকেই অভিযোগ তুলে বলছেন, যা চালানোর ব্যবস্থা নেই, তা নিয়ে খেলনার মতো ঘর বোঝাই করে রাখার দরকার নেই। জেলার মানুষের যদি কোনো কাজেই না লাগে, তাহলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলছেন তারা।

২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে একই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স দুটি ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অ্যাম্বুলেন্স আনার পর যেখানে রাখা হয়, ঠিক সেভাবেই সেখানে পড়ে রয়েছে। সচল রাখতে শুরুতে স্টার্ট দেয়া হলেও এখন সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যাটারি ডাউন হওয়ায় সেটি সচল হচ্ছে না। একই অবস্থা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটিরও।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে করোনাকালীন ভারত সরকার বাংলাদেশে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। আইসিইউ সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স চুয়াডাঙ্গার দুটি প্রতিষ্ঠান পায়। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স দুটি পরিত্যক্ত। সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি সিভিল সার্জন অফিসের ভেতরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। আর পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি গাড়ির গ্যারেজে রাখা আছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন সচল না করায় অনেকটা অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষিত প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকা ও ব্যয় বহন সম্ভব না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম কখনো আলোর মুখ দেখবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় দক্ষ জনবল সংকট, রোগী পরিবহন ব্যয়বহুল হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এর কার্যক্রম। জীবনরক্ষায় অসুস্থ রোগীদের বহনকারী অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দুটি আজও চালু হয়নি। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অর্ধেক রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত রোগী নিতে ৪০-৫০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। ফলে কোনো কাজেই আসছে না ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্তৃপক্ষকে দেয়া অ্যাম্বুলেন্সটি। যেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটী।

উদ্বোধন শেষে পৌরসভার গাড়ির গ্যারেজে সেই থেকে অলস পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। বন্দিদশায় থেকে মরিচা পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্সটি যেন মাকড়সা ও পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এদিকে সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চারটি চাকাও নষ্ট হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, লোকবলের অভাবে হাসপাতাল চালানো অসম্ভব। রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতিরিক্ত লোক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা কেমন করে দেবে। তাই অ্যাম্বুলেন্স দেখে রাখতে হলে নিয়মিত একটি লোক দিতে হবে। লোকবলের অভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ বলেন, এই অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনে ৪০-৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এত টাকা খরচ করে কারো পক্ষে রোগী ঢাকায় নেয়া সম্ভব হবে না। পৌরসভার পক্ষে লাখ লাখ টাকা ভর্তুকিও দেয়া সম্ভব নয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক সাকো বলেন, গাড়ি রাখার ছাউনি না থাকায় বাইরে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। এভাবে গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাড়িটি গ্যারেজে রাখতে পারলে ভালো হতো।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরোক চৌধুরী বলেন, প্রয়োজন না থাকলে অন্যত্র দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হোক। নয়তো যে জেলায় মেডিকেল কলেজ আছে সেখানে পাঠানো হোক।

চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক বলেন, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের খরচ তিন গুণ। এ পর্যন্ত কেউ ভাড়া নিতে আসেনি। যন্ত্রপাতির স্বল্পতা রয়েছে। তা দিয়ে চালানো সম্ভব নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে