যুব সমাবেশ ঘিরে শোডাউনের ব্যাপক প্রস্তুতি যুবলীগে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২২; সময়: ৯:৫৮ am |
যুব সমাবেশ ঘিরে শোডাউনের ব্যাপক প্রস্তুতি যুবলীগে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আওয়ামী যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে যুবলীগে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ১০ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটাতে চায় দলটি। সেই লক্ষে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে গণসমাবেশ করছে। নানা বাধা পেরিয়ে সেগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটছে। এতে দলটি বেশ উজ্জীবিত। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে জবাব দিতেই এই যুব সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী এই সংগঠনটি। কর্মসূচিটি যুবলীগের হলেও সেখানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকবে। জনগণ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আছে সেটা দেখাতে তারা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুব সমাবেশকে সফল করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিটিং মিছিল, আলোচনা সভা ও যৌথসভা করেছে আওয়ামী যুবলীগ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারাদেশে জেলা থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সমাবেশকে শতভাগ সফল করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগ নেতাকর্মীর জন্য ৭৫ হাজার টি-শার্ট তৈরি হয়েছে। মহানগর উত্তর যুবলীগ সবুজ ও দক্ষিণ যুবলীগকে লাল রঙের ক্যাপ পরিধানের জন্য নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগ অনুযায়ী নেতাকর্মীদের বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে নগরজুড়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুবলীগ। ১১ নভেম্বর সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় যুব মহাসমাবেশ করার জন্য যা যা করার দারকার তাই করা হচ্ছে।

বুধবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ দেশের যেকোনো সংকটে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ১১ নভেম্বরের পর যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াত ও তাদের অনুসারীরা যদি রাজপথে নৈরাজ্য করার চেষ্টা করে তবে তা প্রতিহত করা হবে।

পরশ বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ৯২ দিনের হরতাল দেশবাসী ভুলে যায়নি। হরতাল চলাকালে বিএনপি-জামায়াত চক্র অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং মোট ৫৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

যুবলীগের মহাসমাবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, যুব সমাবেশ সফলভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য মোট ১০টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেট থাকবে।

আয়োজকরা জানান, যুব সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা, যুবলীগের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া সংসদের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের যুব সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের সমাগম যেহেতু ব্যাপক হবে তাই দিনটি শুক্রবার হওয়ায় সমাবেশস্থলে জুমার নামাজের আয়োজন করবে যুবলীগ। বিকেলে সমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন।

ক্যাসিনোকাণ্ডে বিপর্যস্ত যুবলীগকে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব পান শেখ ফজলে নূর পরশ এবং মইনুল ইসলাম মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর যুবলীগকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচিয়ে সংগঠনের ইমেজ তৈরির চেষ্টা করে আসছেন। তাদের দায়িত্বকালে এটাই সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। এজন্য এই কর্মসূচি সফল করাকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে