রাবি ছাত্রলীগে ‘লোকাল সিন্ডিকেট’, হতাশ নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২২; সময়: ১১:১২ pm |
রাবি ছাত্রলীগে ‘লোকাল সিন্ডিকেট’, হতাশ নেতাকর্মীরা

খুর্শিদ রাজীব, রাবি : বিগত প্রায় ৩০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজশাহী জেলার নেতারাই দায়িত্ব পেয়ে আসছেন। কেবল স্থানীয় না হওয়ায় যোগ্যতা সত্ত্বেও অন্য জেলার নেতাকর্মীরা শীর্ষ এই দুই পদে আসতে পারছেন না। এবারও স্থানীয়দেরই নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে গুঞ্জন চলছে। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলছেন, বাহিরের জেলার নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও কেবল স্থানীয়রাই শীর্ষ দুই পদের প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত উৎসাহ হারিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক নেতাই আর রাজনীতিতে থাকছেন না। এর ফলে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরীতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সাল থেকে অদ্যাবধি রাবিতে ছাত্রলীগের ২৫টি কমিটি গঠিত হয়। শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলার নেতারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেও ১৯৮৮ সাল থেকে ক্রমেই তা রাজশাহী বিভাগে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ২০১৩ সাল থেকে শীর্ষ দুই পদে দায়িত্ব পাওয়া ৬ জন নেতারই বাড়ি রাজশাহী জেলায়। বর্তমান কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি ক্যাম্পাসসংলগ্ন বুধপাড়ায় ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর পবা উপজেলায়।

এর আগে ২০১৫ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু ও সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের বাড়ি ক্যাম্পাসসংলগ্ন মেহেরচণ্ডি ও কাজলায়। ২০১৩ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান রানার বাড়ি বাগমারা ও সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের বাড়ি বাঘা উপজেলায়। এছাড়া ২০১০ সালের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপুর বাড়ি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন তালাইমাড়িতে।

১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক হন নগরীর কাটাখালির শরীফুল ইসলাম শরীফ, ১৯৯২ সালে বাঘা উপজেলার লায়েব উদ্দিন লাভলু, ১৯৯৭ সালে নগরীর পঞ্চবটির আহসানুল হক পিন্টু, ২০০২ সালে আহবায়ক হন ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুরের কামরুজ্জামান চঞ্চল, ২০০৪ সালে সাধারন সম্পাদক হন মোহনপুর উপজেলার আয়েন উদ্দিন।

১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে পদপ্রার্থীদের বেশিরভাগই ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকার। নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা ছাত্রলীগ নেতা কাজী আমিনুল হক লিংকনের বাড়ি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেহেরচণ্ডিতে, শাহিনুল ইসলাম সরকার ডনের বাড়ি নগরীর বুধপাড়ায়, এনায়েত রাজুর বাড়ি নগরীর ভদ্রায়, মেহেদী হাসান মিশুর বাড়ি নগরীর কাটাখালিতে, আসাদুল্লা-হিল-গালিবের বাড়ি ক্যাম্পাস সংলগ্ন কাজলায়। স্থানীয় এই নেতাদের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।

এদিকে রাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত দিয়েছেন অন্য জেলাগুলো থেকে আসা নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মেজবাহুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিক তাহমিদ তন্ময়, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তাওহিদ দুর্জয় প্রমূখ। যোগ্যতা থাকলেও অন্য জেলার কেউ শীর্ষ দুই পদে পাবেন না বলে শঙ্কা তৈরী হয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

আসন্ন কমিটির পদপ্রার্থী সহ-সভাপতি মেজবাহুল ইসলাম বলেন, রাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে দীর্ঘদিন অন্য জেলার নেতারা মূল্যায়িত না হওয়ায় একটা দীর্ঘশ্বাস আছে। অন্য জেলার কেউ আসলে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু সঠিক মূল্যায়ন না হলে অনেকে রাজনীতি থেকে সরেও যায়।

রাবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাহানুর শাকিল বলেন, স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ মেলানোর জন্য রাবিতে সবসময় স্থানীয় নেতাদের পদায়ন করা হয়। রাজশাহীর নেতারা হয়ত মনে করছেন, এখানে স্থানীয় নেতা বের করতে পারলে তাদের হাত শক্ত হবে। বাহিরে থেকে এসে রাবিতে জীবন হাতে রেখে রাজনীতি করতে হয়। যখন শীর্ষ পদ পাওয়ার সুযোগ থাকে না তখন অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামীলীগেরই নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে