দাঁতরাঙা: ঝোপঝাড়ে হাস্যোজ্জ্বল এক বুনোফুল

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২২; সময়: ১০:২৩ am |
দাঁতরাঙা: ঝোপঝাড়ে হাস্যোজ্জ্বল এক বুনোফুল

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চারপাশে সবুজ পাতার মাঝে হাসিমুখে উঁকি দিয়ে আছে বেগুনি রঙা ফুল। পাপড়ির গড়ন অন্য ফুলের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। বেগুনি পাপড়ির ঠিক মাঝ বরাবর আছে হলুদ রঙের কেশর। ফুলের শরীরে শিশির কণা পড়লে তার সৌন্দর্য যেন বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফুলটির নাম কী? ভেবেছেন অনেকবার। চেনা চেনা তবু যেন অচেনা।

পথের পাশে ঝোপে দেখা মেলা এই ফুলটির রয়েছে হরেক নাম। সবচেয়ে বেশি পরিচিত নাম দাঁতরাঙা। এলাকাভেদে এটি লুটকি, বন তেজপাতা নামেও পরিচিত। চাকমা ভাষায় ফুলটি মুওপিত্তিংগুলো নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম মালাবার মেলাস্টোম (Malabar melastome)।

দাঁতরাঙার গাছটি বেশ ঝোপালো হয়। উপযুক্ত জায়গা পেলে উন্মুক্ত জায়গায় এটি সহজেই বেড়ে উঠতে পারে। পাহাড় কিংবা লাল মাটি রয়েছে এমন জায়গায় গাছটি ভালো জন্মে। তাই টিলা/পাহাড়, নদীর ধার, রাস্তার কিনার, জঙ্গল, ঝোপঝাড় ইত্যাদি স্থানে এই গাছ বেশি চোখে পড়ে।

বাংলাদেশে পঞ্চগড়, গাজীপুর, সিলেট, কাশিমপুর, শ্রীপুরে এই গাছ বেশি দেখা যায়। বান্দরবান ও টেকনাফে এর আরও কয়েকটি জাতের দেখা মেলে। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভারত, মালয়েশিয়া ও নিউগিনি, ফিলিপাইন এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় ফুলটির দেখা মেলে।

দাঁতরাঙা এক ধরনের গুল্মজাতীয় গাছ। এটি আগাছা হিসেবেও পরিচিত। ফুলের কোনো গন্ধ নেই। পাহাড়ি এলাকায় প্রায় সারাবছরই গাছটি জন্মে থাকে। তবে গ্রীষ্ম আর বর্ষা দাঁতরাঙা ফুল ফোটার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

নামকরণের গল্প

বুনো এই ফুলটির নামগুলো কিছুটা ভিন্ন। এর পেছনে কারণও রয়েছে। বলা হয় এর ফল খেলে দাঁত বেগুনি হয়ে যায়। আর তাই এর নাম ‘দাঁতরাঙা বা দাঁতরাঙ্গা’ রাখা হয়। যদিও বেরিজাতীয় এই ফল মূলত পাখি আর প্রজাপতির খাবার। আবার গাছটির পাতাগুলো দেখতে অনেকটা তেজপাতার মতো। আর তাই একে ‘বন তেজপাতা’ বলা হয়। এই ফুলটির আরেকটি নাম রয়েছে। কথিত আছে, বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার নাকি এই ফুল খুব প্রিয় ছিল। তিনি এই ফুলটির নাম দেন ‘বেগম বাহার’।

বুনোফুল হলেও দাঁতরাঙার কিন্তু ঔষধি গুণ রয়েছে। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হতো। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দাঁতরাঙা ব্যবহার করা হয়। এর পাতার নির্যাস ক্যানসার ও হৃদরোগরোধে সহায়ক বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

দাঁতরাঙা পাতার রস আমাশয়, পেটেরব্যাথা ও বাত জ্বর কমাতে পারে। লোক চিকিৎসায় এটি দাঁত ব্যথা, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বমি ও জোঁকের কামড় থেকে রক্ত বন্ধ করতে এর ব্যবহার হয়। এর পাতা বাতজ্বর সারাতে উপকারি ভূমিকা রাখে।

এছাড়া থাইল্যান্ডে মেওহিল আদিবাসীরা দাঁতরাঙার শেকড়ের নির্যাস গরম পানিতে ফুটিয়ে প্রসব পরবর্তী জটিলতায় ব্যবহার করে। ফিলিপাইনে এর বাকল ব্যবহৃত হয় সর্দিজনিত গলবিল প্রদাহ এবং মুখের পচনে।

এই গাছের আরেকটি চমৎকার গুণ রয়েছে। যে জায়গায় দাঁতরাঙা জন্মে, সেই জায়গাটিকে চা চাষের জন্য উপযুক্ত হিসেবে ধরা হয়। তাই একে চা নির্দেশক বা টি ইন্ডিকেটর শ্রেণির উদ্ভিদ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে