আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই : কাদের

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২২; সময়: ১০:০৩ pm |
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই : কাদের

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘১০ ডিসেম্বর ডাক দিয়েছেন মহাসমাবেশ করবেন, বহু মানুষের সমাগম ঘটাবেন। আমরাও প্রস্তুত আছি। শেখ হাসিনা সমাবশের ডাক দিলে লাখ লাখ লোক হবে। তখন আপনারা পালাবার পথ পাবেন না। পালানোর দল আওয়ামী লীগ নয়। আপনারাই পালিয়ে যাবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা তো উদার তাই বাইরে আছেন। বিএনপির সময়ে আমরা কেউ ঘরে থাকতে পারিনি। এখন এসি রুমে বসে আন্দোলন করছেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই। অপেক্ষা করুন আন্দোলন কত প্রকার ও কি কি আওয়ামী লীগ তা বুঝিয়ে দেবে। বাঁশের লাঠিতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে মাঠে নামলে এবার খবর আছে। আপনাদের আর এসব করতে দেওয়া হবে না। আগামী দিনে আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বিএনপির বিরুদ্ধে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে পুনরায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুক। অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লাফালাফি ও বাড়াবাড়ি করবেন না। টাকার বস্তার উপর বসে আছেন, দুবাইয়ের টাকা ওড়ে আকাশে বাতাসে। সেই টাকা উড়েছে বরিশালে। সেখানে টাকা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জনসভায় এনেছেন। সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছেন। যে সাধারণ মানুষের জন্য শেখ হাসিনা ঘুম হারাম করে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর গরিব দুঃখী ও মেহনতি মানুষকে জিম্মি করে আপনাদের চাওয়া ওই ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন। কিন্ত সেই ক্ষমতা আপনাদের নেই। বিএনপি নেতাদের ১৩ বছরে ১৩ মিনিটও আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখিনি। তারা আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার উদারতায় আজ বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত। খালেদা জিয়ার জন্যতো আপনার কখনও আন্দোলন সংগ্রাম করেননি। ডিসেম্বরে নাকি বিজয় মিছিল করবেন। তারেক রহমানকে দেশে আনবেন। সে তো মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আর কোনোদিন দেশে আসবে না ও রাজনীতি করবে না। শুনছি তার নেতৃত্বে নাকি আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে। হারানো ক্ষমতা ও হাওয়া ভবন ফিরে পেতে সেই টেমস নদীর ওপার থেকে রিমোট কন্ট্রোলে আন্দোলন হয় না। ১৩ বছরে পারেননি এখনও পারবেন না। তারেক রহমানের সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীই রাজপথে আন্দোলন করেছেন, জেল-জুলুম খেটেছেন, মামলা-মোকাদ্দমা মোকাবিলা করেছেন। আগামী দিনেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। লোকজনকে দেখানোর জন্য আন্দোলনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি। তারা প্রতিদিন উসকানিমূলক কথাবার্তা, স্লোগান ও কর্মসূচি দিচ্ছে। রাস্তাঘাট অবরোধ-আটকে মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তারা অহেতুক পুলিশের উপর আক্রমণ করে। প্রতিদিন আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। সরকারের দায়িত্ব মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, শান্তিশৃঙ্খখলা বজায় রাখা। সেটিই বর্তমান সরকার করছে।’

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাহজান খান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু, ছানোয়ার হোসেন, তানভীর হাসান ছোট মনির, হাসান ইমাম সোহেল হাজারি, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান খান, খান আহমেদ শুভ, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন প্রমুখ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর নাম আহ্বান করেন। চারজন সভাপতি ও সাতজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাম জমা দেন। পরে ড. আব্দুর রাজ্জাক আগামী তিন বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের নাম ঘোষণা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে