পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে জুনে

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২২; সময়: ১২:৪২ pm |
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে জুনে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আর মাত্র সাত মাস পরেই মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা যাবে যাত্রীবাহী ট্রেন। নতুন ইঞ্জিন কোচে আগামী বছরের জুনে চালু হচ্ছে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন। এমন লক্ষ্য নিয়েই পুরোদমে চলছে প্রকল্পের প্রথম পর্বের কাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রেন চলবে কমলাপুর থেকে মাওয়া পর্যন্ত।

এ সময়ের মধ্যে ক্রমান্বয়ে আরও চারটি ট্রেন চালু হবে এ রেলপথে। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ কোচ নির্মাণ হচ্ছে চীনের তাংশানে। সেখান থেকে প্রথম চালানটি এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে। এদিকে এ পথে ট্রেনে পদ্মা সেতু পার হতে যাত্রীপ্রতি ৬০ কিলোমিটারের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে।

ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার রেলপথ। অর্থাৎ ভাড়া দিতে হবে ৯৯ কিলোমিটারের। প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন ও রেলওয়ের অতিরিক্ত (অপারেশন) মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে এখন দিন-রাত যান চলাচল করছে। আগামী বছরের জুনে এ সেতু হয়ে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চালবে।

বাণিজ্যিকভাবে এ পথে ট্রেন চালাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। আশা করছি, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে চীন থেকে ১০০ কোচ আসতে শুরু করবে। এক বছরের মধ্যে সব কোচ রেলবহরে যুক্ত হবে। ২০২৪ সালে ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত ট্রেন চলবে। এ লাইনে ট্রেনের গতি বাড়বে। কোচ ইঞ্জিনগুলো ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতি নিয়ে চলবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, কমলাপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মোট ১০টি স্টেশন রয়েছে। শুরুতে আন্তঃনগর ট্রেন চালানো হবে। কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে মাওয়া, পদ্মা হয়ে ভাঙ্গা স্টেশন পর্যন্ত মোট তিনটি স্টেশনে বিরতি করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি চীনে গিয়ে কারখানা পরিদর্শন করে এসেছি। চুক্তি অনুযায়ী কোচ তৈরি করা হচ্ছে। কিছু কোচ তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেন চালাতে জনবল ও যন্ত্রাদি বৃদ্ধি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ প্রকল্পে শ্যামপুর থেকে মাওয়া পর্যন্ত রেলপথে প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথে স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুতে লাইন বসানোর কাজ চলছে। আমরা আশা করছি আগামী বছরের মে’র মধ্যেই লাইন স্থাপন, স্টেশন নির্মাণসহ ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার রেলপথ ট্রেন চালানোর জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করতে পারব।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে একটি ট্রেন (গ্যাংকার) ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকা থেকে পদ্মা সেতু রেলস্টেশন পর্যন্ত চালানো হয়। ট্রেনটি প্রায় ৩২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পদ্মা স্টেশন পার হয়ে সেতুর অগ্রভাগের ভায়াডাক্ট পর্যন্ত যায়। এদিকে ঢাকার শ্যামপুর-কেরানীগঞ্জ হয়ে মাওয়া পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথের প্রায় ৭ কিলোমিটার লাইন বাসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশে দ্রুততার সঙ্গে লাইন স্থাপন করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্পের কাজ ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত একসঙ্গে হওয়ার কথা ছিল। এখন তিনটি পর্বে কাজ চলছে। প্রথম পর্বে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া, দ্বিতীয় পর্বে কমলাপুর থেকে মাওয়া এবং তৃতীয় পর্বে যশোর পর্যন্ত কাজ শেষ হবে। আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাড়াহুড়ো করে এমনটা করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টদের কাজের চাপ বাড়ছে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, ভাঙ্গা-মাওয়া ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্টেশন মাস্টার ও চালকসহ অন্য জনবল নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, কমলাপুর থেকে ভাঙ্গা কিংবা ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া অন্যসব রুটে চলা আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়ার মতোই হবে। তবে এ পথে পদ্মা সেতু পার হতে প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে সেতুর দূরত্ব অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে।

যমুনা সেতু দিয়ে যেসব ট্রেন চলে, সেসব ট্রেনে যাত্রীপ্রতি মূল ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ কিলোমিটার রেলপথের ভাড়া যুক্ত করা হয়। যমুনা সেতু পাঁচ কিলোমিটার আর পদ্মা সেতু ছয় কিলোমিটার। ফলে এ পথে ৬০ কিলোমিটারের ভাড়া মূল ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে আমরা এসব নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে