অকৃতকার্য হয়েও পোষ্য কোটায় ৬০ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ রাবিতে

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২২; সময়: ১১:০৮ am |
অকৃতকার্য হয়েও পোষ্য কোটায় ৬০ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ রাবিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর পেতে ব্যর্থ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ৬০ সন্তানকে ওয়ার্ড কোটার অধীনে ভর্তি করার ও পোষ্য কোটায় পূর্ব নির্ধারিত ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (৬ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে।

প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০ নম্বর প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানরা ওয়ার্ড কোটায় ভর্তি হতে পারবেন।’ মোট আসনের ৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত বলেও জানান তিনি।

এর আগে, ২৪ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে ভর্তি উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পোষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ‘সি’ ইউনিটে আবশ্যিকে ২৫ ও ঐচ্ছিকে ১০ নম্বর পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে পারেননি এমন পোষ্য কোটার শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বেশির ভাগ সদস্য এতে অসম্মতি জানালে প্রস্তাবটি সভায় পাস হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর (২০২১-২২ সেশন) রাবিতে কোটাসহ ৪ হাজার ৬৪১ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০। প্রতি বছর পোষ্য কোটায় মূল আসনের ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেলে ভর্তির সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের বিশেষ বিবেচনায় এই সুযোগ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোটার আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরা এমনিতেই নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এরপরেও পাস নম্বর কমানোর কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে আরমান বাশার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উত্তম হয় উচ্চমাধ্যমিক কোনো মতো পাশ করতে পারলেই এ কোটায় ভর্তি করানো।

ধিক্কার জানাই, এসব সুবিধা ভোগীদের, যারা সরকারি বেতন-ভাতা পেয়েও সন্তানের উপযুক্ত করতে পারে না, আবার কুঠিলতার সুযোগ নেয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বড় অনিয়ম হয়, তাহলে ভর্তিচ্ছু সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে