পরিবার নিয়ে ভাঙা ঘরেই রাত কাটে সাত্তার মিয়ার

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২; সময়: ৬:১৫ pm |
পরিবার নিয়ে ভাঙা ঘরেই রাত কাটে সাত্তার মিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কচুয়া : পুরানো কবরস্থানের উপর দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন নিরীহ সাত্তার মিয়া।

স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কবরস্থানের উপর কোনো মতে ভাঙ্গা একটি ঘরে দিনযাপন করছেন তারা। সহায় সম্বলহীন হওয়ায় কোনো স্থানে ঠাই হয়নি তাদের।

বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ২নং পাথৈর ইউনিয়নের আটোমোড় গ্রামের অধিবাসী সহায় সম্বলহীন বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়ার কথা।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানের উপর একটি জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিয়ে বসবাস করছেন। বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়ার আকুতি দীর্ঘদিন একটি ভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করায় এখন একটি সরকারি ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

নিরীহ বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, আটোমোড় গ্রামের উত্তর পূর্বপাড়া আড়ী হাজী বাড়িতে ৪ শতাংশ পুরানো পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে।

ওই ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত পুরানো কবরস্থানের উপরেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে স্ত্রী ও ২ ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছি।

তিনি বলেন, বয়সের ভারে এখন কাজকর্ম করতে পারছি না। তবে বাড়ির পাশে তারনি বাজারে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান ছোট একটি দোকান সাজিয়ে পান সিগারেট বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

দুই ছেলে থাকলেও তারাও কর্মহীন। তাই কিছু ভূমি, একটি সরকারি ঘর অথবা বিত্তবানদের সহযোগিতায় একটি ঘর পেলে বাকী জীবন আনন্দে কাটিয়ে যেতে চাই।

এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,কচুয়ার সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি ও উপজেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

তার স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, আমি স্বামী ও ছেলেদের নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। জমি ও ঘর না থাকায় ভাঙা ঘরে থাকার কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারব না।

বর্তমানে যুগে কেউ কবরের উপর বসবাস করে তাও আমার জানা নেই। আমরা এখন কী করব, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ছি।

আটোমোড় গ্রামের অধিবাসী ডা. মোশারফ হোসেন, শাহজাহান, আরব আলী জানান, বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মিয়া খুবই নিরীহ একজন ভূমিহীন গরীব মানুষ। তাকে একটি সরকারি ঘর ও জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করলে তার পরিবার পরিজন উপকৃত হবে।

আমাদের দাবি সরকারি-বেসরকারি যেকোনোভাবে একটি ঘর দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মিয়াজী বলেন, আব্দুস সাত্তার মিয়া খুবই নিরীহ মানুষ। বয়সের কারণে সহায় সম্বলহীন এ মানুষটি কর্ম করতে পারেননি। তাকে সরকারি ঘর ও ভূমি পেতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আক্কাস আলী মোল্লা বলেন, নতুন করে ঘরের বরাদ্দ আসেনি। তবে আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাত্তার মিয়াকে ঘর দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে