পাবনায় নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ, আটক ২

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২; সময়: ৫:০৮ pm |
পাবনায় নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনায় এক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ২ জন অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। সদর উপজেলা বলরামপুরে ্একটি ফুড কারখানায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে।

রবিবার (৬ নভেম্বর) সকালে এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বলরামপুরের একটি বেভারেজ কোম্পানির পেছনে এঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি ফুড এন্ড বেভারেজের ফ্লোর সুপারভাইজ হিসেবে কাজ করেন ফেøারা খাতুন (ছদ্মনাম)। প্রতিদিন কাজ শেষে কারখানার আরেক কর্মী সাব্বির এর সঙ্গে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু শুক্রবার সাব্বিরকে আগেভাগেই ছুটি দেন কারখানার আরেক সুপারভাইজার শাহ আলম। সাব্বির বিকেলে বাড়ি ফেরায় রাত ৯টার দিকে একাই বাড়ি ফিরছিলেন শ্যামলী। এসময় শাহ আলম তাকে বাড়ির পথে এগিয়ে দেয়ার কথা বলে তার সঙ্গে রওনা হয়। কিছু দূর গিয়ে নির্জন স্থানে প্রথমে শাহ আলম তাকে জড়িয়ে ধরে এবং অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টা করে।

এসময় ফ্লোরা তাকে ধাক্কা দিলে শাহ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়, একটু দূরে গিয়ে কারোর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। এর মাত্র ১-২ মিনিটের মধ্যেই সেখানে আরও ৭-৮ জন যুবক এসে তাদের ঘিরে ধরে।

যুবকরা প্রথম ফ্লোরার গলা ধরে আরেকটু জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় সে চিৎকার দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে খবর দিয়ে সেখানে হাজির করা হয় সাব্বিরকেও। সাব্বির ও শাহ আলমকে আটকে রেখে ফ্লোরার গলায় ছুরি ধরে তাকে কয়েকজন নিয়ে যায় ফুড এন্ড বেভারেজে কোম্পানীর পেছনে। সেখানে তাকে গন ধর্ষণ করে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যেও আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের নাম-ঠিকানা কিছু পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। খুব শিগগিরই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ অন্যান্যদের নাম প্রকাশ না করলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্তার মেম্বারের ছেলে বাদশা, দলু খাঁর ছেলে আতিয়ার, রশিদ মুন্সির ছেলে রাজিব, আমজাদ খাঁর ছেলে মনির, শুকুর ধুরার ছেলে আশরাফ, বশির শেখের শেখ সাদী ও কাসেম শেখের ছেলে সাঈদ শেখ। তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনার পর থেকেই তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে