বাইকার রুমনের ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ, ঘুরতে চান সারা বিশ্ব

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২২; সময়: ১:৫০ pm |
বাইকার রুমনের ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ, ঘুরতে চান সারা বিশ্ব

মাসুদ রানা, পত্নীতলা : থাকবো না কো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগতটাকে, পুরো জগত না দেখলেও পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছে এক যুবক। তাও আবার মটর বাইক নিয়ে। ইচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে পুরো জগৎ ঘুরতে চান, খুব ছোট থেকেই ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে তার, অজানাকে জানা আর অদেখা কে দেখবার বাসনায় পুরো বাংলাদেশকে দেখবার জন্য “মিশন ৬৪” শুরু করেন, সফলভাবে সারাদেশ ঘুরে ঘরে ফিরেছেন সুস্থ্যভাবেই।

নাম রুমন, পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ন, দেশের উত্তরের জনপদ নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার প্রত্যতন্ত ঝলকাহার গ্রামের আব্দুল খালেকের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট তিনি। সে স্থানীয় নজিপুর বাইক রাইডারস এর অন্যতম সদস্য।

একান্ত আলাপচারিতায় রুমন বলে ছোট বেলা থেকেই ঘুরাফিরা পছন্দ করতেন কিন্তু ফ্যামিলি সাপোর্ট ও টাকা না থাকায় দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় নি তার। ২০১১ সাল থেকে বাইক চালায়, এলাকায় ওয়ান ডে ট্যুরে অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে।

নওগাঁর পাহাড়পুর, স্বপ্নপুরি, ভিন্নজগৎ, চাপাইনবয়াবগঞ্জ সোনা মসজিদ, নাটোরের রাজবাড়ী,সহ স্থানীয় দর্শনীয় স্থানে, সে সময় মনে প্রবল ইচ্ছে আসে লং টাইম বাইক চালানোর দূরে কোথাও ট্যুরে যাবে এই চিন্তা থেকে ২০১৯ সালে জীবনে প্রথমবার লং ট্যুরে ১০০সিসি বাইক নিয়ে সিলেট গিয়েছিল। সে সময় তার কাছের মানুষেরা ভয় দেখিয়েছিল। তবে ভয় কে জয় করে ভালো মতোই ঘুরে এসেছিল কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। সেখান থেকেই স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়, এবার বাইক নিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমন কারার ইচ্ছে তাকে পেয়ে বসে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৫০ সিসি পালসার বাইক কিনে ২০২০ সালে এরই মধ্যে দেশে করোনা ভাইরাস চলে আসে আর কোথাও যাওয়া হয়নি তার। তবে তিনি থেমে যায়নি, স্বপ্নকেও ভুলে যায়নি । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলো, এবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে ঘরে থেকে বের হবে “মিশন ৬৪” সফল করতে।

বিভিন্ন চিন্তায় মাথায় ঘুরপাক খায়, মনস্থির করে আর ভাবে এক বাইকে দুই জন যাবে আর দুইজনই বাইক চালাবে কিন্তু ট্যুর পার্টনার নিয়ে সমস্যায় পড়ে যায় এরকম কাউকে পায়নি এরপর সিদ্ধান্ত নেন একাই ৬৪ জেলা রাইড করবে। তবে একজন পিলিয়ন নিয়ে এরপর সে পিলিয়ন হিসাবে তার ঢাকার বন্ধুকে সাথে নিয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে উত্তরবঙ্গ দিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু করে।

চার দিনে দশটি জেলা ভ্রমন করে তারপর মার্চে দক্ষিণবঙ্গে ছয় দিনে ১৫ জেলা ভ্রমণ করে । তারপর মে মাসে ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা গুলিতে ২২ দিন ভ্রমন করে, এরই মধ্যে তার ৫৯ জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে ৬ দিনে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ভ্রমনের মধ্য দিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন সম্পন্ন করে ।

একজন পিলিয়ন নিয়ে আমি একাই সারা বাংলাদেশ রাইড করেছি চারটি ভাগে মোট ৩৮দিনে ৬৪ জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করে, এতে তাকে মোট প্রায় ৮হাজার ৫শ কি:মি: রাস্তা বাইক চালাইতে হয়েছে। ভ্রমনে রাতে জেলা শহরের আবাসিক হোটেলে থাকতো। কখনো কোন সমস্যা হয়নি যেখানেই গেছেন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন দেশের মানুষ সহজ সরল এবং খুব আন্তরিক বলে তার মন্তব্য।

এই ভ্রমণে সে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩ হাজার প্লাস উচ্চতার সর্বোচ্চ ১০ টি পাহাড় সামিট করে এখন তার স্বপ্ন আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন নেপালের এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প ও বাইকে বিশ্ব ভ্রমণ করবে।

প্রথম টার্গেট বাইকে ভারতের কাশ্মীর ও লাদাখ। দ্বিতীয় টার্গেট নেপাল ও মুক্তিনাথ যা পৃথিবীর অন্যতম ডেঞ্জেরাস রোড মুলত সে এ্যাডভেনঞ্চার পছন্দ করে ভ্রমণ তালিকায় প্রধান্য দেয় ইতিহাস ঐতিহ্য দর্শনিয় স্থান ও পাহাড় পর্বত।

দুরন্ত এ বাইকার রুমন নতুন প্রজন্মের বাইকারদের জন্য বলেন, ভ্রমণ করুন, আমাদের দেশ অনেক সুন্দর কখনো নিজের দেশকে ছোট করবেন না আর দেশর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন এবং বাইক চালানোর সময় হেলমেট ও সেফটি গিয়ার ব্যাবহার করবেন।

যারা বাইক নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমন করতে চান তাদের কে বলতে চাই, প্রথমে আপনার ধারণা থাকতে হবে যে যায়গায় যাচ্ছেন যে সেটা সম্পর্কে। তারপর যে এলাকায় যাচ্ছেন তাদেরকে সম্মান দিতে হবে । তাদের হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না সবার সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করতে হবে।

রাতে বাইক না চালানো উত্তম রাস্তায় কারো সাথে বাইক প্রতিযোগিতা করা যাবেনা যে রাস্তায় বাইক চালাবেন সেখানকার গাড়ির সাথে তাল মিলিয়ে বাইক চালাবেন। আমি ভ্রমন করেছি আপনারাও ভ্রমন করেন। সকলের ভ্রমণ নিরাপদ হোক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে