ঈশ্বরদীতে এইচএসসির আগেই ঝরে পড়েছে ১২৭৭ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২২; সময়: ৩:৩৫ pm |
ঈশ্বরদীতে এইচএসসির আগেই ঝরে পড়েছে ১২৭৭ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সারাদেশের মতো পাবনার ঈশ্বরদীতে আগামীকাল ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার উপজেলায় এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। অর্থাৎ, এসব শিক্ষার্থী এইচএসসি প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করলেও পরীক্ষার জন্য ফর্ম পূরণ করেনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় বলছে, এ বছর ঈশ্বরদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট অংশ নেবে ৩ হাজার ৭১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা শাখায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৬৬, মাদ্রাসা শাখায় ১৬০ এবং কারিগরি শাখায় ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী। মোট ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থী ছিল ৪ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৮ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫৮৩ জন। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে ৩ হাজার ৮০ জন। বাকি ১ হাজার ২৬৮ জন ফরমই পূরণ করেনি। তারা ঝরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঈশ্বরদী উপজেলায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ২ হাজার ২৯৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৩৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার ৫৮ জন পরীক্ষার্থী কমেছে।

পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে কলেজের এক অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৫০ জন পরীক্ষার্থী কম এইচএসসিতে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব; সেই সময় শিক্ষার্থীরা অনেক ঝরে পড়েছে।

এছাড়া বাল্যবিবাহও দায়ী। ইন্টার লেভেলের শিক্ষার্থীদের বিবাহ মানে বাল্যবিবাহ। অনেকের বাল্যবিবাহ হয়েছে। আমাদের অনেক ছাত্রী সন্তান নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে।

আরেকটি কারণ জীবিকার তাগিদে কাজে যুক্ত হওয়া। অনেকেই সাংসারিক চাপে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছে। পড়াশোনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে বলে এই শিক্ষক জানান।

পরীক্ষার্থী কমার বিষয়ে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি ও পেপার মিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, করোনার সময়ে প্রচুর পরীক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। জন্মনিবন্ধন পরিবর্তন করে এই বিবাহগুলো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিবাহর রেজিস্ট্রিও হয়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, এত শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার বিষয়টি ভাবনার। কী কারণে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না তাও বের করা দরকার। আমরা কলেজগুলোতে নির্দেশনা দেব। ধারণা করা হচ্ছে করোনার জন্য এমন হতে পারে। আবার অনেক শিক্ষার্থীর বিবাহও হয়ে গেছে। আমরা এগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করব।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে