মান্দায় সভাপতির জাল স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২২; সময়: ৩:২৬ pm |
মান্দায় সভাপতির জাল স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা :  নওগাঁর মান্দায় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে কলেজের বিভিন্ন পদে ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে ভূয়া  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও যোগসাজসী বোর্ড গঠন করে ওইসব পদে নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ‘মান্দা মহানগর কলেজ’ অধ্যক্ষ রুহুল আমিন।

বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সামন্ত কুমার সরকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। গত জুলাই মাসে কলেজটি এমপিওভূক্ত হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মান্দা মহানগর কলেজ ২০১২ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সামন্ত কুমার সরকার।

এসময়ে কলেজের বিভিন্ন পদে ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২০ সালে ৬ মাসের জন্য এডহক কমিটির প্রধানের পদে ছিলেন তিনি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে সাবেক সভাপতি সামন্ত কুমার সরকারের দায়িত্বকালে কলেজটিতে আরও ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ব্যানবেইস এর ওয়েবসাইড থেকে কলেজের অতিরিক্ত পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি জানাজানির পর তোলপাড় শুরু হয়।

কলেজের সাবেক সভাপতি সামন্ত কুমার সরকার বলেন, ‘আমার কার্যকালে অতিরিক্ত পদে আর কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর কলেজ অধ্যক্ষ রুহুল আমিনকে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র দেখাতে বলেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তিনি টালবাহানা করছেন। এতে আমার সন্দেহ আরও বেড়ে গেছে।’

সাবেক সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন তৈরি করা হয়েছে। এরপর ভূয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ যোগসাজসী বোর্ড গঠন করে ওইসব পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ রুহুল আমিন। বিষয়টি তদন্তের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মান্দা মহানগর কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ রুহুল আমিনকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও রিসিভ করেন না।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে