দেওয়াল চিত্রে প্রসারিত হচ্ছে জানার জগৎ

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২২; সময়: ১২:৫৯ pm |
দেওয়াল চিত্রে প্রসারিত হচ্ছে জানার জগৎ

তানজিলা চৌধুরী: রঙ ভালোবাসে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। মানুষের জীবনে বৈচিত্র এনে দেয় রঙের আঁচড়। মনে দাগ কাটে নান্দনিকতার। রঙের মাঝে যেন আলাদাই এক শক্তি আছে মন ভালো করার।

রঙের ছোঁয়ায় রাজশাহীর পথে ঘাটের দেওয়াল থেকে রঙিন হয়ে উঠছে রেস্টুরেন্টসহ ঘর-বাড়ির দেওয়াল। বাদ পড়েনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। মহানগরীর বিভিন্ন দেওয়াল চিত্রকর্মগুলো রঙের ছোঁয়া দিয়েছে জনজীবনেও। যেন যান্ত্রিক এই কর্ম ব্যস্তময় জীবনে কিছুটা আনন্দঘন অনুভূতি দিচ্ছে এই চিত্রকর্মগুলো। আকর্ষণীয় স্থানে ছবি তুলতে পছন্দ করে এমন মানুষদের জন্যও এমন রঙিন দেওয়ালগুলো যেন বড় একটি পাওয়া।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার দেওয়ালগুলো থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের দেওয়াল, স্কুলের ভিতরের দেওয়াল, রেস্টুরেন্টের দেওয়াল বাদ পড়েনি কোনো কিছুই। স্থানানুযায়ী বিভিন্ন রকমের চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে দেওয়ালজুড়ে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেমন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে তাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে তেমনি প্রাইমারি স্কুলের দেওয়ালগুলোতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক উক্তি, চিত্রকর্ম আঁকিয়ে শিশুদের জ্ঞান প্রসারিত করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও আকর্ষণীয় চিত্রকর্ম করে ছবি প্রেমিক মানুষদের আকর্ষিত করে রঙিন অনুভূতি দিয়ে টেনে আনা হচ্ছে।

রাজশাহীর এই দেওয়াল চিত্রকর্ম সম্পর্কে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ জানান, ‘রাজশাহীতে নতুন একটি সূচনা। শহরের বিভিন্ন দেয়ালে বা রেস্তোরা গুলোতে দারুন ভাবে রং তুলিতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় চিত্রকর্ম করা হয়েছে। এটি শহর সৌন্দর্যে অন্য রকম মাত্রা তৈরি করেছে।

শুধু নগরীর শোভা বৃদ্ধি পেয়েছে তাই নয়, রাজশাহীর মানুষ আগের সেই রঙ-তুলি, আঁকা আঁকি, শিল্পকর্মের সংস্কৃতিতে মনোনিবেশ করতে পেরেছি। আবার কোথাও কোথাও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি, শিক্ষনীয় বিভিন্ন উক্তি ও প্রতিবাদী ভাষা লেখা হয়েছে যা সকল প্রজন্মকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাশাপাশি অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণা পাবে।’

মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাহাসিনা বলেন, ‘আমাদের কলেজের বাইরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে অনেক বিশিষ্টজনের ছবির চিত্রকর্ম। তাঁদের ছবি দেখলে আমরা তাদের অর্জন, আমাদের জন্য তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি, শ্রদ্ধার সাথে তাদের নাম মুখে নেই। বর্তমান প্রজন্মকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কার কি অর্জন,সফলতা সে সম্পর্কে জানতে উদ্বুদ্ধ করে। এতে আমাদের জানার জগৎ বিস্তৃত হয়।’

এই বিষয়ে সাগর আহম্মেদ বলেন, ‘বর্তমান তরুণ প্রজন্মের আমরা কোথাও যাওয়ার আগেই ভাবি সেখানে যেয়ে ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে কিনা। আর আমাদের এই চাহিদা পূরণে ভালো ভূমিকা রাখছে দেওয়াল চিত্রকর্ম। এখনকার অনেক রেস্টুরেন্ট তাদের সাজসজ্জায় আনছে দেওয়াল চিত্রকর্ম। বিভিন্ন নকশা, গ্রামীণ জনপদকে স্মরণ করানোর মত উপাদানের চিত্র, আকর্ষণীয় প্যাটার্ন ডিজাইন খুব সুন্দর রূপ দিচ্ছে সাধারণ একটি দেওয়ালকে ফটোজনিক করে তুলতে। অতিরিক্ত চাকচিক্যের বাইরে সুন্দর স্নিগ্ধ সাজসজ্জা।

তাছাড়া বাইরের দেওয়ালগুলোতেও এতো সুন্দর রঙিন চিত্রকর্ম যে হঠাৎ করে তা সামনে পড়লেই কর্মব্যস্ততার মাঝেও মন ভালো হয়ে যায়।’

এই বিষয়ে টেস্টি টাইম রেস্টুরেন্টের একজন স্বত্ত্বাধিকারী জানান, ‘আমরা যখন আমাদের রেস্টুরেন্টের দেওয়ালে চিত্রকর্ম করিয়েছিলাম তখন রাজশাহী শহরে দেওয়াল চিত্রকর্মের তেমন প্রচলন ছিল না। বিষয়টি অনেক আলাদা ছিল। একটা বাস্তবিক রূপ দেয় দেওয়ালকে এসব চিত্রকর্ম। যারা রেস্টুরেন্টে আসে তারাও এটা খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন অবশ্য রাজশাহীর অনেক রেস্টুরেন্টের দেওয়ালে নানা রকম চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে। নতুন রেস্টুরেন্টগুলো সাজসজ্জার ক্ষেত্রে দেওয়াল চিত্রকর্মকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে কারণ জনসাধারণের কাছে তা খুব সাড়া পাচ্ছে। তাই আমরাও চেষ্টা করছি আমাদের রেস্টুরেন্টের দেওয়ালগুলোর চিত্রকর্ম প্রতিনিয়ত আধুনিক করে তোলার।’

যারা রাজশাহীর দেওয়ালগুলোকে রঙের ছোঁয়া দিয়ে চলেছেন তাদের বেশিরভাগই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। তাদের সাথের একজন জানান,   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন এক রকম শখের বসে দেওয়াল রাঙিয়ে শুরু হয় তার এই কাজের শুরু।

ইতিমধ্যে বেশকিছু দেয়ালচিত্রের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেয়ালের বাইরে পেইন্টিংও করে রাঙ্গিয়ে তুলে আকর্ষণীয় করা হয়েছে।

শখের বসে কাজ করার পর সবার কাছে যখন আমার কাজ প্রশংসিত হওয়া শুরু করে তখন শখকেই পেশা হিসেবে বেছে নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে