রাণীনগরে অভিযোগের কপি দেয়ালে দেয়ালে

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২২; সময়: ২:৩২ pm |
রাণীনগরে অভিযোগের কপি দেয়ালে দেয়ালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের ১২জন ব্যক্তিকে এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, জেএমবি সদস্য আখ্যা দিয়ে তাদের বিচার দাবি করে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন মোড়ে, দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারিং করা হয়েছে। ৫টি দপ্তরে অভিযোগের আদলে বৃহস্পতিবার রাতে এসব কপি পোস্টারিং করা হয়।

দেয়ালে সাটানো অভিযোগে আমিরপুর গ্রামের মৃত আরফান আলীর ছেলে আফজাল সরদার(৬০)কে সন্ত্রাসী দলের সরদার উল্লেখ করে বলা হয়, গত ২০০৫-৬ ইং সালে গ্রামের ১২জন লালবাহীনি জেএমবি কায়দায় খুন,খারাপি ও চাঁদাবাজী এবং নারী ধর্ষণ কাজ সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করেছিল। ঐসময় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করলে প্রশাসনের কর্মকর্তা তাদের পক্ষীয় হওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তিতে প্রশাসন উক্ত কুখ্যাত জেএমবিদের বিভিন্ন কায়দায় খুন-খারাপি ও চাঁদাবাজী এবং নারী ধর্ষণ বন্ধ করে। বর্তমানে ২০২১সাল থেকে ঐসব সন্ত্রাসীরা আবারও অপকর্ম চালু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মূখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা।যে কোন সময় এলাকায় ভয়াবহ অশান্তি বা খুন খারাপি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তাই কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।এছাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ্য ও নির্যাতিত”আখ্যা দিয়ে ১৯জনের নাম ও ফোন নাম্বার দেয়া হয় ওই কপিতে। বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কাহারা এলাকাবাসীর বরাদ দিয়ে আমিরপুর,গুয়াতা,চিলাগাড়ী এলাকায় বিভিন্ন মোড়ে,দেয়ালে দেয়ালে দূর্নিতী দমন অফিস,পুলিশ সুপার নওগাঁ,জেলা প্রশাসক নওগাঁ,রাণীনগর থানা এবং সাংবাদিক অফিস রাণীনগর বরাবর পৃথক পৃথক ৫টি দপ্তরে অভিযোগের আদলে এসব কপি লাগানো হয়।

পোস্টারে ক্ষতিগ্রস্থ্ অখ্যায়িত আলাউদ্দীন বলেন, জেএমবির সময়কালে আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কপিতে যাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে বলা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই জেএমবি ছিল।কিন্তু বর্তমানে গ্রামে সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। তবে কারা এই পোস্টারিং করেছে বা পোস্টারে নাম দিয়েছে তা বলতে পারছিনা।

এব্যাপারে পোস্টারে কুখ্যাত সন্ত্রাসীর সরদার আখ্যায়িত আফজাল হোসেন বলেন, প্রতিহিংসা বসত আমাদের নামে এসব পোস্টারিং করেছে।জেএমবি বা সন্ত্রাসী কোন সংগঠনের সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

রাণীনগর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন পোস্টারে যাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে বলা হয়েছে আমরা তাদের অনেকের সাথে কথা বলেছি।

সন্ত্রাসী কোন কর্মকান্ড নেই এবং শান্তিতে বসবাস করছি জানিয়ে তারা বলেছেন কারা পোস্টারিং করেছে বা পোস্টারে তাদের নাম দিয়েছে তা বলতে পারেনি। বর্তমানে রাণীনগর উপজেলায় এরমক কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নজির নেই। পোস্টারিং কারা করেছে,কেন করেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে