নিয়ামতপুরে দুর্বৃত্তের ছিটানো বিষাক্ত কীটনাশকে পুড়লো আমনক্ষেত

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২২; সময়: ২:০১ pm |
খবর > কৃষি
নিয়ামতপুরে দুর্বৃত্তের ছিটানো বিষাক্ত কীটনাশকে পুড়লো আমনক্ষেত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তের স্প্রে করা বিষাক্ত কীটনাশকে প্রায় ১৫ বিঘা জমির আমনক্ষেত পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ১৪ বর্গাচাষির। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬১ সাল থেকে ক্রয় সূত্রে নেহেন্দা মৌজায় চার দশমিক ৭৪ একর জমি উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নে চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান তোতা ভোগদখল করে আসছিলেন। তার ওই জমি স্থানীয় কৃষকরা বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন।

চন্দননগর ইউনিয়নের নটিপুকুর গ্রামের মৃত সখাতুল্লার ছেলে আব্দুস সামাদ ওই জমি নিজের দাবি করে আরএস খতিয়ান সংশোধনের জন্য ২০২১ সালে নওগাঁ তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন।

এরপর থেকেই আব্দুস সামাদ ওই জমি চাষাবাদের জন্য ভোগদখল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। চলতি আমন মৌসুমে বর্গচাষিরা জমিতে ধান রোপণ করলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন খালেকুজ্জামান তোতা। ওই জমির কিছু অংশে ধানের শীষ বেরিয়েছে এবং আরও কিছু অংশে বেরোনোর অপেক্ষায়। আগামী একমাস পর সব ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল।

রোববার বিকেলে সব ধান রোদে চকচক করছে ফোনে এমন খবর পেয়ে খালেকুজ্জামান ধানক্ষেতে যান। আগাছা দমনে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করায় ধানের এমন অবস্থা হয়েছে অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৫ বিঘা জমির অধিকাংশ পুড়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। এতে ওই জমির ১৪ জন বর্গচাষির পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নটিপুকুর গ্রামের বর্গাচাষি হাছেনা বানু বলেন, ‘তিন বছর থেকে খালেকুজ্জামান তোতার এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করে আসছি। আর একমাস পর ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এখন সবগুলো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু খড় হবে। জমিতে আবাদ করতে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সার ও কীটনাশকের টাকা এখনো দোকানে বাকি আছে। ছেলে ঢাকায় রিকশা চালায় তার টাকা দিয়ে আবাদ করা হয়েছিল। আবাদের পর অর্ধেক ধান জমির মালিককে দিয়ে বাকি অর্ধেক ধান সারা বছর খাওয়ার জন্য রাখা হতো। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেলো।’

তার মতো চন্দননগর গ্রামের বর্গচাষি আব্দুল হাই, নটিপুকুর গ্রামের বর্গাচাষি আশরাফ আলী, একরামুল, মোকছেদ আলী ও আল মামুন সহ আরও ১৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

খালেকুজ্জামান তোতা বলেন, ‘১৯৬১ সালে ১৩ জুন পুর্নচন্দ্র সাহার কাছ থেকে চার দশমিক ৭৪ একর জমি আমার বাবা মৃত খবির উদ্দিন আহম্মেদ কেনন। সেই জমি আমার এবং ছোট ভাই হারুন অর রশিদের নামে লিখে দেন। ছোট ভাই মারা যাওয়ায় সব সম্পত্তির মালিক আমি। গত কয়েক বছর থেকে ওই জমি নিজেদের দাবি করে নটিপুকুর গ্রামের আব্দুস সামাদ বিভিন্নভাবে হয়রানির সঙ্গে হুমকি দিয়ে আসছিল।

শনিবার রাতের কোনো এক সময় ওই জমিতে থাকা আমনক্ষেতে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে আব্দুস সামাদ পুড়িয়ে দিয়েছে। বর্গাচাষিরা দরিদ্র। তারা অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করে আসছিল। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কে কখন কীভাবে কীটনাশক স্প্রে করেছে তার দায় আমার ওপর চাপালে তো হবে না। সেটা প্রমাণ করতে হবে। ওই জমি একসময় আমাদের দখলে ছিল। খালেকুজ্জামান তোতা এখন জোর করে ওই জমি দখলে রেখেছে।’

চন্দননগর ইউনিয়নের চন্দননগর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই জমিতে আগাছানাশক বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে জমির মালিক খালেকুজ্জামান তোতা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে