ফেসবুককে রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে : অ্যামনেস্টি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২; সময়: ২:০৫ pm |
ফেসবুককে রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে : অ্যামনেস্টি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মিয়ানমারে নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারে ভূমিকা রাখায় ফেসবুককে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি বলছে, একাধিক অভিযোগ পাবার পরও ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা বিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো বন্ধ করেনি। বরং বিদ্বেষপূর্ণ এসব বক্তব্য মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

এছাড়া ২০১২ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মিয়ানমারের কর্মীরা। তখনও আমলে নেয়নি। এ কারণে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত সাড়া জাগানো ‘ফেসবুক পেপারস’-এ উঠে আসা বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, কোম্পানির নির্বাহীরা জানতেন সাইটটি জাতিগত সংখ্যালঘু ও অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ামারের রাখাইন, মংডুসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায় দেশটির সামরিক বাহিনী।

হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে সেসময় সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

ভিকটিমদের অ্যাসোসিয়েশন এবং মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরোধী সহিংসতা বেড়েছে। চরমপন্থী বিভিন্ন কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। যা ক্ষতিকর, বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে উৎসাহিত করে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, দমন-পীড়নের শুরুর দিকে এবং পরবর্তী বছরগুলোয় ফেসবুকের অ্যালগরিদমগুলো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে তীব্র করে তুলেছিল। যা সহিংসতায় ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছিল, তখন মেটা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানের এখন দায়িত্ব হচ্ছে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

অ্যামনেস্টির এমন গুরুতর অভিযোগ ও দাবি নিয়ে মেটার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা দাবি করেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিসংতা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছিল ফেসবুক।

২০২১ সালের শেষের দিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বহু রোহিঙ্গা শরণার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের একটি মামলা করেছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে