মেয়েকে খাবার খাওয়াতে ‘মা রোবট’ বানালেন বাবা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২; সময়: ২:০০ pm |
মেয়েকে খাবার খাওয়াতে ‘মা রোবট’ বানালেন বাবা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মেয়েকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই ‘মা রোবট’ নামে একটি রোবট বানিয়ে ফেললেন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গোয়ার (Goa) বাসিন্দা বিপিন কদম।

মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় নিজে হাতে খেতে পারে না। তাই স্ত্রী খাইয়ে দিতেন মেয়েকে। পরে তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় ‘মা রোবট’ নামে একটি রোবট বানিয়ে ফেলেন বিপিন।

পেশায় দিনমজুর বিপিনের এমন কাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ভারতের এই সৈকত রাজ্যে। এরমধ্যে চমকে দেওয়া সাফল্যের স্বীকৃতও পেয়েছেন ওই বিপিন।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিপিনের এই কাজকে ‘অসাধ্য সাধন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এই অভিধা একটুও অতিরঞ্জিত নয়। প্রযুক্তি বিজ্ঞান সম্পর্কে যার কোনওরকম ধারণা ছিল না, তিনি কিনা বানিয়ে ফেলেছেন একটি পুরোদস্তুর রোবোট!

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিপিন জানান, এক সময় তার স্ত্রী খাইয়ে দিতেন তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৪ বছরের মেয়েকে। কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় মেয়েকে খাওয়ানো নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

বিপিন জানিয়েছেন, মেয়েকে খাওয়াতে না পেরে শুয়ে শুয়ে কান্নাকাটি করতেন স্ত্রী। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে বিপিনই মেয়েকে খাওয়াতেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পথ খুঁজতে গিয়েই আশ্চর্য আবিষ্কার।

সংবাদমাধ্যমকে বিপন কদম বলেন, রোবটটি তৈরি করতে তার এক বছর সময় লেগেছে। তবে শুরুতে অবশ্য রোবট তৈরির পরিকল্পনা ছিল না তার; বরং ওই ধরনের যন্ত্রের খোঁজে ছিলেন, কিনবেন ভেবেছিলেন। যদিও হাজার খুঁজেও খাবার খাইয়ে দেওয়ার যন্ত্রের সন্ধান মেলেনি।

তারপরই যন্ত্র নিয়ে পড়াশুনো শুরু করেন বিপিন। অনলাইনে রোবট তৈরি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করেন, সেই মতো কাজে হাত দেন। তারপর সব কাজ ফেলে যন্ত্র তৈরিতে মগ্ন হন। একেক দিন একটানা ১২ ঘণ্টাও কাজ করেছেন।

শেষ পর্যন্ত ফল মেলে পরিশ্রমের। মেয়েকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি রোবট বানিয়ে ফেলেন বিপিন এবং স্ত্রী ও সন্তানের সংকটের কথা মাথায় রেখে সেই রোবটের নাম দেন ‘মা রোবট’। যা দেখে এরমধ্যে তাক লেগে গেছে সবার।

গোয়া স্টেট ইনোভেশন কাউন্সিল এরমধ্যেই তার কীর্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন নিজের তৈরি রোবটটি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চান বিপিন কদম, যেন তার মেয়ের মতো শারীরিকভাবে অক্ষমদের সেটি কাজে লাগে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে