জেলায় সারের বরাদ্দ ও সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২; সময়: ৭:৩০ pm |
জেলায় সারের বরাদ্দ ও সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলায় সারের বরাদ্দ ও সার ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা ইউনিট। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল’র হাতে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, রাজশাহী জেলায় ব্যাপক জমিতে চাষিরা ধান, আলু ও রবি শস্য চাষ করে থাকেন। চলতি বছরে বিভিন্ন ধরণের সার ইউরিয়া এক লাখ ৭৮হাজার ৭৮৩ মে.টন, টিএসপি ৫০ হাজার ১৭৮ মে.টন, ডিএপি ৭১ হাজার ৮১৩ মে.টন ও এমওপি ৯৭ হাজার ৮৩২ মে.টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায়, ইউরিয়া ৭০ হাজার ৪৯ মে.টন, টিএসপি ১৪ হাজার ৩০০ মে.টন, ডিএপি ৪৫ হাজার ২৪৪ মে.টন ও এমওপি ২০ হাজার ৩১৯ মে.টন। বর্তমানে সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা সন্তোষজনক হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় অনেক সময় ডিলারগণকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আবার একদিকে দেশের আবাদযোগ্য এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে প্রধানমন্ত্রীর আহবানে এবং অন্যদিকে এবারে অনাবৃষ্টি থাকায় নিচু জমিগুলোতেও আবাদ হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে সারের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও এ জেলায় কয়েকবছর থেকে যোগ হয়েছে আমবাগান, ফুলের বাগান, ছাদ বাগান, পুকুরে মাছ চাষে সার ব্যবহার।

এ জেলায় ৮৯ জন রাসায়নিক সার ডিলারগণ সরকারি নীতিমালা ইউনিয়ন পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিজস্ব খরচে কৃষকদের ডোরগোড়াই সার সরবরাহ করে থাকেন। তবে পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বাড়লেও প্রায় ২৮ বছর আগে ডিলারগণের নির্ধারিত কমিশনে এখন আর লাভ হচ্ছে না। অনেক সময়ে ডিলারগণকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৯৬ ইং থেকে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত কমিশনে ডিলারগণ কাজ করে যাচ্ছেন। দেশে বিভিন্ন কারণে সারের, জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারি বেতন, শ্রমিক খরচসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই সময় থেকে ডিলারগণের বেধে দেয়া কমিশন একই আছে। প্রেক্ষিতে ডিলারগণ মোটা অংকের পুঁজি খাটিয়ে অলাভজনক ব্যবসা করে আসছেন।

ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা ইউনিট স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে যে, যমুনা ও শাজালাল সার কারখানা হতে ইউরিয়া এবং নওয়াপাড়া ও নগরবাড়ি হতে নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ করাহ করা হয়। যমুনা কারখানা থেকে রাজশাহীতে প্রতি বস্তা সারের ভাড়া বর্তমানে সাড়ে ৮১ টাকা, নওয়াপাড়া থেকে রাজশাহীতে প্রতি বস্তা সারের ভাড়া বর্তমানে ৮৫ টাকা, নগরবাড়ি থেকে রাজশাহীতে প্রতি বস্তা সারের ভাড়া বর্তমানে ৭৮ টাকা। অথচ আমদানিকারকগণ আমদানিকৃত নন-ইউরিয়া নর্দান জোনের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরে ডাম্পিং করে সেখান থেকে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা ইউনিট একদিকে আমদানিকৃত নন-ইউরিয়া নর্দান জোনের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরে ডাম্পিং করে সেখান থেকে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ করতে এবং অন্যদিকে সারের বস্তা পরিবহন ও বিক্রয় কমিশন ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানান।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা ইউনিটের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সামসুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, ডিলার মো আবু সাইদ, খায়রুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, বিষ্ণুপদ সাহা, রাম কুমার সাহা, মো. আব্দুল খালেক প্রমুখ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে