আয়-ব্যয়ের দাঁড়িপাল্লায় কোথায় আছে বাংলাদেশ?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২; সময়: ৯:২৯ am |
আয়-ব্যয়ের দাঁড়িপাল্লায় কোথায় আছে বাংলাদেশ?

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বড় রকমের সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব। তবে এর মধ্যেই দেশে বেড়েছে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও রিজার্ভের ওপর চাপ এখনো অব্যাহত।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে (আগস্ট) রফতানি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। আগস্টে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের আগস্টে এ রফতানি আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের এ সময়ে রফতানি আয় বেড়েছে ৩৬.১৮ শতাংশ।

এদিকে রফতানির পাশাপাশি বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা হিসাবে)।

চলতি অর্থবছরের টানা দুমাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর মধ্যে গত আগস্টে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ ডলার এবং তার আগের মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

রফতানি ও রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বেড়ে যাওয়া আমদানি ব্যয় ও রিজার্ভের স্বস্তি ফিরে না আসায় সব ধরনের অর্জনের মধ্যে একটি ‘কিন্তু’ থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাজারে ডলারের নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর বেড়ে গেছে আমদানি খরচ। ডলারের দাম ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দেয়ায় একেক ব্যাংক একেক দামে ডলার বিক্রি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যাংকগুলো ১০১ টাকা থেকে ১০৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে। এর বিপরীতে রফতানিতে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেই ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৯ টাকা দরে। আমদানি-রফতানিতে ডলার বিক্রিতে বড় রকমের তারতম্য থাকায় দেশের মুদ্রাবাজারে এক ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক ইউয়ানে মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করলেও বাজারে এখন পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব নেই।

গ্লোবাল ইকোনমিক ডেটার (সিইআইসি) দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই অবধি এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রিজার্ভ কমেছে সবচেয়ে বেশি। এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের রিজার্ভ কমেছে ১৮.৭৫ শতাংশ। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে কমে হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হকের। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে, সমস্যা হওয়ার পর আমরা পদক্ষেপ নিই। করোনা থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও সবশেষ শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটার পর আমরা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। তবুও আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাই, তারা অন্তত বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের মতো বড় সমস্যাগুলো আমরা সম্মিলিতভাবে কাটিয়ে উঠছি। যদিও জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ টাকা কমানোতে বাজারে বড় রকমের কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় নিয়ে রুমানা হক বলেন, ‘বাজারে যেহেতু ডলারের দাম বেশি, এখন ডলার টাকায় ভাঙালে প্রবাসীরা সুবিধা পাচ্ছেন। এতে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে। একইভাবে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় রফতানিতেও আয় বেড়েছে। কিন্তু আমদানির দিকে যদি তাকাই, সেখানে কিন্তু বাড়তি টাকা দিয়ে ডলার কিনে পণ্য আনতে হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে ঠিক রাখতে হলে আমাদের মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থায় একটি সুবিধাজনক স্থিতিশীলতা আনতে হবে। রেমিট্যান্সের ধারা বজায় রাখতে হলে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। যেহেতু আমরা আমদানিনির্ভর দেশ, এ ক্ষেত্রে ডলারের দাম সামঞ্জস্য করার কোনো বিকল্প নেই।’

বাজারে ডলার সংকট কাটাতে ইউয়ানে মুদ্রা বিনিময় হার কতটা কার্যকর হবে–জানতে চাইলে রুমানা হক বলেন, ‘মাত্র সিদ্ধান্তটি এসেছে। এটা আসলে এখনই বলা যাবে না। ইউয়ানের ব্যাপারে কী কী সিদ্ধান্ত আসে, কীভাবে ডলারের বিপরীতে কিংবা পাশাপাশি নতুন মুদ্রা ব্যবহার করা হয়, এর ওপর নির্ভর করছে দেশের মুদ্রাব্যবস্থায় নতুন এ সিদ্ধান্ত কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
topউপরে