কৃষি মন্ত্রণালয় সায় দিলে ডিম আমদানি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২; সময়: ৯:৫৫ am |
কৃষি মন্ত্রণালয় সায় দিলে ডিম আমদানি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কৃষি মন্ত্রণালয় পজিটিভ হলে ডিম আমদানি করা হবে। দাম নির্ধারণ হবে আলোচনার মাধ্যমে। ভারত থেকে ডিম আমদানি করে কম মূল্যে ভোক্তাদের দেওয়ার পক্ষে আমি। আজই কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম নির্ধারণ বিষয়ে কাগজ পাঠাব। তবে কৃষকদের স্বার্থের বিষয়টিও দেখতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার ‘মিট দ্য ওকাব উইথ টিপু মুনশি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন টিপু মুনশি। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠুর সঞ্চালনায় সভায় ছিলেন ওকাবের আহ্বায়ক কাদির কল্লোল, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের ভোক্তা ও কৃষক উভয়কেই দেখতে হবে। যথেষ্ট হিমাগার না থাকায় অনেক পেঁয়াজ পচে যায়। ফলে সেপ্টেম্বরে আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজ উৎপাদন করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমরা চীন থেকে কিছুটা সরে আসছি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমেছে। তারপরও আমাদের আমদানিতে চীন-ভারতের ওপর নির্ভরতা আছে। মূলত আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ নির্ভরশীলতা থাকবে। বৈশ্বিক চাওয়া মেন মেইড ফাইবার আমাদের নেই। তাই বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

ভিন্ন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যে যাবে না, তা এখন বোঝা যাচ্ছে। যাই হোক, আমরা সমস্যাগুলো অ্যাডজাস্ট করেই এগিয়ে যাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মাধ্যমেই মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। মিয়ানমারে কিছু গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ থাকলেও তা আমাদের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে না। গতবারের তুলনায় এবার ২০ শতাংশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই তৈরি পোশাক খাত তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখুক। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়া খাতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ১০ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমাদের রপ্তানি বাড়বে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি এটি বাড়াতে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে কতগুলো আশাব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, আজকের কাগজে দিয়েছে, সামনের বছর আরও মন্দার দিকে যাবে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সামনের বছরটা পৃথিবী আরও খারাপের দিকে যাবে। সার্বিক অবস্থাটা যে স্বস্তিদায়ক তা কিন্তু নয়। এজন্য আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। এখানে ক্রাইসিস হলে বড় রকমের বিপদ আছে আমাদের। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনে যদি আমরা ভালো করি, দেশের প্রয়োজনটুকু যদি মেটাতে পারি তাহলে আমরা বড় রকমের বিপদ থেকে রক্ষা পাব। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে যদি পণ্যের চাহিদা কমে যায়-সেটি চিন্তার ব্যাপার।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার সচেতন আছে। আমদানি কমানোতে জোর দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশপাশের দেশগুলো ভারত ও চীনে যদি কিছুটা রপ্তানি বাড়াতে পারি। সেটা একটা ভালো খবর হবে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি যদি উন্নত না হয় তাহলে আমরা এ পরিস্থিতি খুব শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারব বলে মনে হয় না।

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রচুর ‘র’ ম্যাটেরিয়ালস আনতে হয় ভারত ও চীন থেকে। এজন্য বাণিজ্য ঘাটতি। আমাদের এখানে যদি এসব শিল্পকারখানা করতে পারি তাহলে কিছুটা কমে আসবে। তা না হলে ভারত ও চীনের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে যাবে।

২০২৬ সালের পর থেকে আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যাচ্ছি, সে লক্ষ্যপূরণে নতুন কোনো পলিসি সরকার নিচ্ছে কিনা? উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেখুন আমরা বৈশ্বিক পরিস্থিতির শিকার, নিজেরা চেষ্টা করে যে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারব, এমনটা মনে হয় না। আমাদের বিপদ সামনে রেখে কতটুকু করা যায় সেটাই চিন্তার বিষয়। যেমন গ্লোবাল মার্কেটে কিছু জিনিসপত্রের দাম কমেছে। অন্যদিকে ট্রান্সপোর্টের খরচ বেড়েছে। ফলে কমার সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।

সেফা চুক্তির ফলে কি সুবিধা পেতে পারি? মন্ত্রী বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আমরা আরও ৩ বছর বিভিন্ন সুবিধা পাব। এরপর কিন্তু আমাদের বিপদ আছে। সে কথা মাথায় রেখেই চেষ্টা করা হচ্ছে পিটিএ, এফটিএ, সেফার মতো চুক্তি করার। তবে আমরা যদি এখনই পিটিএ ও এফটিএ চুক্তিতে সই করি তাহলে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে যে সুবিধাটা পাই সেটার ওপর চাপ পড়বে।

তারপরও ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের বিষয়টি মাথায় রেখেই এখন থেকেই পিটিএ, এফটিএ চুক্তি করা দরকার। কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সোমবার ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি দল আসবে এ নিয়ে কথা বলার জন্য। এতে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে। নিজেদের শক্তিশালী করার জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। সেফা হচ্ছে সে রকমই একটি চুক্তি। ভারতের সঙ্গে সেফা এখনই হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। ডিসেম্বরের মধ্যে দুপক্ষ বসে ঠিক করে নেব।

ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার কি কাজ করছে? মন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ইউরোসহ অন্যান্য মুদ্রার কথা এসেছে। এটা খুবই টেকনিক্যাল বিষয়, সম্ভব কিনা জানি না। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় চিন্তা করছে। আশা করছি ভালো একটা রেজাল্ট আসবে।

৩০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী চাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, চিনি, মসুর ডাল, রড ও সিমেন্টের দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। ১৫ দিনের মধ্যে তা কার্যকরের কথাও বলেন তিনি। শুক্রবার সে সময় পেরিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি কৃষি মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে অ্যান্টি ডাম্পিং ট্যারিফ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুদেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ভারত অ্যান্টি ডাম্পিং ট্যারিফ বসাতে পারে না। আন্তর্জাতিক আদালতে না গিয়ে আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন বিষয়টি সমাধানের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে