তাড়াশে জাল দলিল করে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২; সময়: ১:০৬ pm |
তাড়াশে জাল দলিল করে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে জাল কাগজ দিয়ে সরকারি সম্পত্তি বেহাত করার অভিযোগ উঠেছে। আরএস রেকর্ডে সরকারি স্বার্থ থাকার পরও যোগসজসে ওই সম্পত্তি প্রতারক চক্রটি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন।

অথচ এখন পর্যন্ত সরকারি নথিতে সরকারের স্বার্থ রয়েছে মর্মে উপজেলার তালম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ খান নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্র ও সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, উপজেলার তালম ইউনিয়নের চাঁদপুর মৌজার আরএস-১৩ নং খতিয়ানে মোট সম্পত্তির পরিমান-১১২১ শতাংশ। ওই খতিয়ানের আবু জাফর সরকার, সত্য নারায়ন গিরি গোসাই ও আশুতোষ গোসাইর নামে ১০০ হিস্যা দেখা যায়। এরমধ্যে সত্য নারায়ন গিরি গোসাই ও আশুতোষ গোসাই ভারত প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের নামে রেকর্ড ভূক্ত হয়।

উল্লেখিত খতিয়ানের আরএস-১০১ নং দাগে ১৫০ শতাংশ ভূমি লিপিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি ‘খ’ তফশীল ভূক্ত হওয়ায় এবং আবু জাফর সরকার জমিদারের পত্তনী মূলে সম্পত্তির মালিক দাখিলকার থাকায়, তার অংশের সম্পত্তির অবমুক্তির আবেদন করেন। এবং তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৩ খতিয়ানের ১০১ নং দাগের ১৫০ শতাংশের মধ্যে থেকে .৩১৫ হিস্যায় আবু জাফরের নামে ৯৩ শতাংশ সম্পত্তি অবমুক্ত করেন। অবশিষ্ট ৫৭ শতাংশ সম্পত্তি সরকারি তালিকায় রয়েছে।

এই সুযোগে স্থানীয় একটি প্রতারক চক্র রংপুরের সদরের গোসাই বাড়ি এলাকার জনৈক রবীন্দ্র নাথ গোস্বামীর ছেলে বিপুল গোস্বামী কে দাতা সাজিয়ে, যোগসাজসে তথ্য গোপন করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর তাড়াশ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো: আফাজ উদ্দিনের ছেলে মো: শাহীন আলমের নামে ৪৯৬৯ নং একখানা বিক্রয় কবলা দলিল মূলে ৫৭ শতাংশের কাতে ৫৬ শতাংশ ভূমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়।

সম্প্রতি সরকারি স্বার্থ থাকার পরও দলিলটি সম্পাদিত হয়েছে মর্মে মো: আবু জাফর সরকারের ছেলে মো: আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেছেন।

সম্পাদিত দলিলটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দাতার বয়স ৬০ বছর ও গ্রহিতার বয়স ৩২ বছর হলেও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার না করে, ব্যবহার করা হয়েছে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মৌজার জেএল নং-২৭ হলেও, দলিলে লেখা হয়েছে-৩৭, ভূমির মূল্য ২ লাখ ৩ হাজার ধরা হলেও এর প্রকৃত মূল্য আরোও বেশি। এ ছাড়াও বিপুল গোস্বামী কার ওয়ারীশ বা কোন সূত্রে তিনি সম্পত্তির মালিক তার কোনো বর্ণনা দলিলে নেই। এ ছাড়াও আরএস রেকর্ডে সুস্পস্টভাবে সরকারি স্বার্থ থাকার পরও ‘খ’ তফশীল অবমুক্ত ছাড়াই আবু জাফর গঙয়ের খাজনার চেক দাখিলা সংযোজন করে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। যা সরকারির স্বার্থের বিপরীতে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে তিনটি মামলা করে ডিক্রি নিয়ে ২০১৪ সালে “খ” তফশীল অবমুক্ত করে আমারা সম্পতি নিষ্কটক করেছি। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা নি:শ্ব হয়েছি। অথচ সরকারি স্বার্থ থেকে অবমুক্তি না নিয়েই একই সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তান্তর হয়েছে জেনে অবাক হয়েছি। এ নিয়ে আমরা আদালতে যাবো।

তাড়াশ উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিষ্ট্রার ফারহানা আজিজের কাছে উল্লেখিত দলিল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দলিলটি তথ্য গোপন করে জাল কাগজ উপস্থাপন করে রেজিষ্ট্রি করিয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি স্বার্থ থাকায় এ সম্পত্তি হস্তান্তর যোগ্য নয়। অবশ্যই বেআইনী ভাবে উল্লেখিত দলিল সম্পাদিত হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে