রাবিতে সন্ধ্যার পর আড্ডা দিলেই প্রক্টরিয়াল বডির শোকজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২; সময়: ৫:২৯ pm |
রাবিতে সন্ধ্যার পর আড্ডা দিলেই প্রক্টরিয়াল বডির শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পরে আড্ডা দিলেই প্রক্টরিয়াল বডির শোকজের স্বীকার হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, সন্ধ্যায় পরেই ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে হাজির হন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রশ্নসহ সেই স্থান ত্যাগ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

এমতাবস্থায় গত ২৭ আগস্ট রাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহনাজ রহমানের সাথে তর্কে জরায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। এরপর শাহনাজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট চিঠি পাঠানো হয়।

তবে প্রক্টরিয়াল বডির আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন শাহনাজ। তিনি জানান, হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে প্রেরিত ঐ চিঠিতে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন ও প্রশাসন বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।

তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমরা ২জন মেয়ে এবং ৭জন ছেলে মমতাজউদ্দিন ভবনের সামনে বসেছিলাম।

আমরা সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ হিসেবে একটা গান তোলার চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় প্রক্টরিয়াল বডি তাদের গাড়িসহ এসে আমাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। আমরা সকলেই পরিচরণ দেখাই এবং জানাই যে আমরা ক্যাম্পাদের শিক্ষার্থী। এরপরও আমাদের সেখান থেকে তারা উঠে যেতে বলেন।

তখন আমি জানাই যে, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস, চাকুরী এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজ শেষে সন্ধ্যায় এই স্থানে বসে গান করে থাকি।

এ কথায় সম্মানিত সহকারী প্রক্টরবৃন্দ আমাদের ধমক দিয়ে বলেন, ‘এটা কি গান করা সময়? এরপর তারা আমাদের ধমক দিয়ে সেখান থেকে উঠে যাওয়ার আদেশ করলে আমরা উঠে যেতে রাজি হই।

আমি ছাড়াও সেখানে আরও ৮জন উপস্থিত থাকলেও বিশেষভাবে আমার পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং আমি আমার নাম ও রোল নম্বর তাদের কাছে হস্তান্তর করি।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে আমি প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে অসদাচরণ করেছি। এই অভিযোগে বিষয়ে আমি বিস্মিত ও বিব্রত বোধ করছি।

তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান শাহনাজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বাকি বিল্লাহকে একইভাবে শোকজ করা হলে বিল্লাহ জানান প্রক্টরিয়াল বডি তাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

তিনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি আমার ডিজিটাল আইডি দেখতে চাইলে আমি আমার হল আবাসিক কার্ড দেখাই। কারণ আমার ডিজিটাল আইডিটি কার্ড নষ্ট হয়ে গেছে।

এরপর আমাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে ধমকের সুরে পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। সবাই নিজ নিজ আইডি কার্ড দেখায় ও পরিচয় দেয়। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশ্চিত হবার পরে তিনি আমাদের সবাইকে সেখান থেকে নিজ নিজ হলে চলে যেতে বলেন এবং বিশেষভাবে মেয়েদের তাড়াতাড়ি হলে চলে যেতে বললে তারা হলের দিকে চলে যায়।

এই সময় আমি জিজ্ঞেস করি ঠিক কী কারণে আমাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলছেন। তিনি বলেন, তোমরা এখানে বসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে পারো আমরা সন্দেহ করি। তাছাড়া রাত ১০ টা বাজে একজন শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে না থেকে আমতলায় থাকবে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও লেখা নাই।

তুমি কেমন স্টুডেন্ট, তোমার সিজিপিএ কতো বলে ব্যক্তি আক্রমণ করে আমাকে বলেন, “তোমার নাম বাকি বিল্লাহ, তোমাকে আমরা ভালোভাবে চিনি ও জানি। তুমি শিক্ষকদের সাথে বেয়াদবির চূড়ান্ত পর্যায়ের ব্যবহার কর।”

আমি তাদের এধরনের অপ্রাসংগিক কথা না টেনে আনতে বললে চিৎকার করে ধমক দিয়ে বলেন, ” একদম স্টপ তুমি। তোমার সম্পর্কে বহু জানি। তোমার কার্ড দাও।” ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আমার কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাই।

তারপর তিনি আমাকে বলেন, “তুমি কার্ড দিতে বাধ্য। দাঁড়াও তুমি কার্ড দিবা না দেখছি” বলে একজনকে ফোন দিতে উদ্বত হন। আমি তাকে বলি কাকে ডাকবেন আপনি ডাকেন। এরপর তিনি আমাকে পরের দিন সকালে প্রক্টর অফিসে ডাকবেন বলে গাড়িতে উঠেন।

উপরোক্ত ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে আমার বিরুদ্ধে ৪ জন সহকারী প্রক্টর কিসের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সম্মান ক্ষুন্ন, অশালীন বাকা ব্যবহার ও প্রক্টোরিয়াল দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন তা আমার বোধগম্য নয়। কোন নিয়মের লঙ্ঘন বা আইন শৃঙ্খলার পরিপন্থী কোন কাজ বা কথাবার্তা আমার দ্বারা সংঘটিত হয়নি বলে দাবী করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. হাকিমুল হক বলেন, আমরা যখন তাদের কাছে যাই তখন রাত পৌনে ১১টা বাজে। তখন দুইজন মেয়েসহ কয়েকজন ছেলে গান গাইছিল। সেসময় আমাদের মধ্যে একজন সহকারী প্রক্টর গিয়ে তাদের হলে ফিরে যেতে বলেন।

তখন সেই মেয়েটি বলেন ‘আমরা একটা লাইফ আছে। আমার স্বাধীনতা আছে। আমার লাইফ আমি ইনজয় করব’। এরপর তার পরিচয়পত্র চাওয়া হয়। কিন্তু সে না দিয়ে রোল নম্বর দেন আমাদের। ওই মেয়ের সঙ্গে থাকা এক ছেলেও আমাদের সঙ্গে বেয়াদবি করে। সে পরিচয়পত্র না দেখিয়ে আমাদের হল কার্ড দেখায়।

তিনি বলেন, আমরা সেই মেয়েটাকে যেই প্রশ্নগুলো করেছি তার প্রত্যেটির উত্তর ছিল ‘নেগেটিভ’ এবং ‘ভয়ঙ্কর’। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম-কানুন মানেন না। তার কথাবার্তা এবং আচরণ ছিল ‘আক্রমণাত্মক’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমার কয়েকজন সহকারী প্রক্টর সেদিন রাতে তাদের দায়িত্ব পালন করছিল। এসময় এক ছাত্রী তাদের সঙ্গে ‘অশোভন’ আচরণ করেন।

তার প্রেক্ষিতে সহকারী প্রক্টররা আমাকে লিখিত অভিযোগ দেয়। এবিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর বক্তব্য জানতে আমরা তাকে শোকজ করেছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • জায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে নবজাগরণ ফাউন্ডেশন
  • ঢাবির কবি সুফিয়া কামাল হলে ৩ শিক্ষার্থী পেলেন স্বর্ণপদক
  • যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
  • বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতা এবং ইতিবাচক মনোভাব বিষয়ক সেমিনার
  • সাত কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে ২৫ অক্টোবর
  • প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পাবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী
  • ইবির টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা
  • নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির-২০২২ সেশন শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ
  • রাবি উপাচার্যের সাথে ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারের মতবিনিময়
  • চিরকুট লিখে রাবি ছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
  • স্বামীর বাসা থেকে রাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
  • প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা
  • রাবিতে ইইউ’র ইরাসমাস বৃত্তি বিষয়ক কর্মশালা
  • ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি
  • বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
  • উপরে