বাংলাদেশ সীমান্তে থেমেছে গোলাগুলি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২; সময়: ১১:১৯ pm |
বাংলাদেশ সীমান্তে থেমেছে গোলাগুলি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বান্দরবানের ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে থেমেছে গোলাগুলি, আকাশে উড়েনি হেলিকপ্টার বা করা হয়নি গুলিবর্ষণ। কিন্তু ভারি অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমার সৈন্যরা টহলের পাশাপাশি অবস্থান করছে ব্যাংকারে।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে কাটছে না উৎকণ্ঠা। তবে স্থানীয় লোকজনসহ শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিরাজ করছে আতংক।

রোববার দুপুরে দেখা যায়, ঘুমধুম কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দলে দলে টহল দিচ্ছে সৈন্যরা। হাতে রয়েছে অস্ত্র, কাঁধে রয়েছে ব্যাগ। সৈন্যদের টহল দেয়ার সারি যেন ১০ মিনিটেও শেষ হয় না।

এদিকে, সীমান্তের ৩৩-২ নম্বর পিলার, এই পিলারের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তৈরি করা হয়েছে ব্যাংকার। যেখানে দেখা যাচ্ছে ভারি অস্ত্র, অবস্থান করছে সৈন্যরা।

সীমান্তের এমন পরিস্থিতিতে শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গারা রয়েছেন আতংকে। শূন্যরেখার বাসিন্দা রোহিঙ্গা মোহাম্মদ রহিম বলেন, শূন্যরেখায় সাড়ে ৪ হাজার বাসিন্দা রয়েছে। আমরা কেউ শান্তিতে নেই। এখন আতংকে দিন কাটছে

শূন্যরেখার আরেক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের সরকারের সৈন্যরা গোলাগুলি বেশি করছে। এতে আমরা বেশি ভয়ে আছি। সীমান্তে সৈন্যও বাড়িয়ে দিয়েছে। দিন-রাত সৈন্যরা টহল দিচ্ছে। রোববারও শতাধিক সৈন্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অস্ত্র হাতে নিয়ে টহল দিয়েছে। তাদের কাছে কোনো রাত দিন নেই, যখন যেখানে খুশি তারা তাদের ইচ্ছে মতো গুলি করছে।

সীমান্তের স্থানীয় লোকজন জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে গোলাগুলি, গোলা বর্ষণ ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেছে মিয়ানমার সৈন্যরা। যার কারণে এখনো উৎকণ্ঠা কাটছে না সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না ঘর থেকে, অনেকেই গোয়ালে রশি দিয়ে গবাদি-পশুও বেঁধে রেখেছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, গোলাগুলি আতংকে এখন বাচ্চাদেরও স্কুল যেতে দিচ্ছে না। গরু-ছাগলও রশি দিয়ে ঘরের আঙ্গিনায় বেঁধে রেখেছি। আর আমাদেরও ঘর থেকে বের হতে ভয় লাগে।

তুমব্রু উত্তরপাড়ার বিলকিস খাতুন বলেন, শনিবার বেশি গোলাগুলি হয়েছে। ৩ বার হেলিকপ্টার নিয়ে এসে গোলাবর্ষণ করেছে। যার কারণে আমরা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতেও পারছি না। ক্ষেত-খামারেও যেতে পারছি না।

গেল ২৮ আগস্ট একটি মর্টার শেল এসে পড়ে তুমব্রু উত্তরপাড়ার নুর আহমদের বাড়ির আঙ্গিনায়। পরে নিষ্ক্রিয় করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নুর আহমদের স্ত্রী নুর জাহান বলেন, গোলাগুলি হলেও আগে তেমন ভয় পেতাম না। কিন্তু যেদিন বাড়ির সামনে মর্টার শেল পড়েছে সে দিনের পর থেকে বেশি ভয়ে আছি। মিয়ানমারের সৈন্যরা হেলিকপ্টার নিয়ে গুলি করছে। আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানালেন, সীমান্তের বাসিন্দাদের নিষেধ না থাকলেও ভয়ের কারণে ক্ষেত-খামারে যাচ্ছে না।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে মর্টার শেল, উড়োজাহাজ, জেড বিমান বা হেলিকপ্টার এসে গোলাবারুদ নিক্ষেপ করছে। ভয় তো স্বাভাবিকভাবে থাকবে।

মানুষ মরণশীল, কিন্তু মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। যার কারণে অনেকে হয় তো নিজের ইচ্ছাতেই ক্ষেত-খামারে যাচ্ছে না। কেউ নিষেধ করেনি। কিন্তু সচেতন হয়ে হয় তো যাচ্ছে না। পরিস্থিতি তো এরকম থাকবে না। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেলে আবারও সবাই যে যার যার মতো ক্ষেত-খামারে গিয়ে কাজ করবে।

বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছে ২২ হাজারের বেশি। আর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে