মাকে গুলি করে হত্যার কারণ জানালো ছেলে

প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২২; সময়: ১০:২৫ pm |
মাকে গুলি করে হত্যার কারণ জানালো ছেলে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বাবার পিস্তল ব্যবহার করেছিলেন ছেলে মাঈনুদ্দীন মো. মাঈনু (২৯)। গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের কাছে হত্যার কারণ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাঈনুকে গ্রেপ্তার পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে ১৭ আগস্ট বিকেলে নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি পরিবহন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৭ একটি দল।

র‍্যাব জানায়, মাঈনুল ছোটবেলা থেকেই বেশ বখাটে প্রকৃতির ছেলে ছিল। তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কাজ করে। মাঈনু মাকে হত্যার পরও শান্ত ছিল। মানুষ হত্যা করলে সাধারণত বিচলিত হয়ে যায়। কিন্তু মাইনুল কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছিল। সে হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি কোমরে নিয়েই ঘর থেকে বের হয়। পরে সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদামঘরে সেটি লুকিয়ে রাখে। একজনের সহযোগিতায় একটি ফ্যাক্টরির গোডাউনে রাত কাটায়। পরদিন টিকিট না নিয়ে কেরানীহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেয়।

গত ১৩ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক প্রথম মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মাস্টার। তার বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। মৃত্যুর পর থেকেই সম্পত্তি নিয়ে মাঈনুলের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ছোট ভাই ও বোনের সাথে বিরোধ দেখা দেয়। গত ঈদুল ফিতরের সময় তার দুই প্রবাসী দুই ভাই-বোন দেশে আসলে তারা করোনার কারণে আর ফিরতে পারেননি।

এর মধ্যে তাদের সাথে মাঈনুলের প্রায় সময় ঝগড়া হতো। ফলে পরিবারের সাথে তার বেশ দূরত্ব তৈরি হয়। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মায়ের সাথেও প্রায় সময় ঝগড়ায় লিপ্ত থাকতো মাইনুল।

১৬ আগস্ট দুপুরেও একই কারণে মা ও বোনের সাথে ঝগড়া হলে মাইনুল প্রথমে কোমর থেকে পিস্তল বের করে তার বোনকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে মা জেসমিন আক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি করলে গুলিটি তার মায়ের চোখের নিচ দিয়ে ভেদ করে বের হয়ে যায়। পরে মাঈনুলের বোন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার বলেন, মাঈনুল সন্দেহ করেছিল তার বাবার সব সম্পত্তি তার মা দুই ভাই-বোনকে দিয়ে তাদের সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। এ খবর পাওয়ার পর থেকেই সে তার মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। সে মাদকাসক্ত ছিল। তার পিস্তলটি সে তার বাবার ড্রয়ার থেকে পেয়েছে। সেটি সে ব্যবহার করতো। তার নামে আগে থেকেই পৈতৃক সম্পত্তি কম ছিল। কারণ তার বাবারও তার ওপর ভরসা ছিল না। কেননা সে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন করতো।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পটিয়ায় পৌরসভার নিজ বাড়িতে ছেলে মাঈনুরের গুলিতে তার মা (পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার) নিহত হন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই পটিয়া থানায় মাঈনুকে একমাত্র আসামি করে বোন শায়লা শারমিন নিপা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে