বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২২; সময়: ২:৫৭ pm |
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির শোকের দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদতবার্ষিকী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৬ বছর আগে এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক-এর নেতৃত্বে সূর্যোদয়ের সাথে জাতীয় পতাকা দন্ডের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হয় এবং নামিয়ে অর্ধনমিত অবস্থায় বেঁধে রাখা হয়।

এরপর সকাল ১০ টার দিকে কাজলা ভবনের সেমিনার কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৭ তম শাহাদতবার্ষিকী পালন এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর আলোচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও ‘মুজিব আমার পিতা’-অ্যানিমেশন ফিল্ম পরিবেশনের আয়োজন করে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক ড. নিবেদিতা রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফয়জার রহমান, সাংবাদিকতা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর জনাব শাতিল সিরাজ ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মো. সাদী।

বঙ্গবন্ধু কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০০ জন বাছাইকৃত শিক্ষার্থী। কুইজ প্রতিযোগিতার শেষে তাদের দেখানো হয় অ্যানিমেশন ফিল্ম-মুজিব আমার পিতা।

সে সময় উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব সুরঞ্জিত মন্ডল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আলোচনা অংশে উপস্থিত অতিথিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন কর্মের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য প্রদান করেন। সাংবাদিকতা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর জনাব শাতিল সিরাজ তার বক্তব্যে বাঙালির আরো অনেক বিখ্যাত নেতাদের সাথে তুলনামূলক আলোচনায় বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দুরন্ত, সাহসী এবং প্রতিবাদী। অন্যায়কে কখনোই তিনি প্রশ্রয় দিতেন না।

তিনি ছিলেন, একাধারে সাহসী, নিঃস্বার্থ, মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়ীক, উদার ও জাতীয়তাবাদী নেতা। পৃথিবীর অনেক দেশে অনেক রাজনৈতিক নেতা আছে, বিপ্লবী নেতা আছে, জাতির পিতা আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বহুমাত্রিক নেতা নেই।’

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক বলেন, ‘জাতির পিতার সাহসিকতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ।’

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফয়জার রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙ্গালির শোকের দিন। কিন্তু শোকটাকে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পেরেছি, অনুপ্রেরণায় রূপান্তরিত করতে পেরেছি, সেটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’

আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেওয়া হয়। বিদেশি ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করে থাকেন। বিবিসির জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনার শেষে বঙ্গবন্ধু কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে থেকে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ীরা হলেন, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়েজ কুরনী, ইংরেজি বিভাগের সালমা সাবিহা এবং ইইই বিভাগের আরিফ হোসেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে