হাওয়া সিনেমায় বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন, দাবি বন কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২; সময়: ১১:১৬ am |
হাওয়া সিনেমায় বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন, দাবি বন কর্মকর্তাদের

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : হাওয়া সিনেমার একটি দৃশ্য নিয়ে ৩৩টি পরিবেশবাদী সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে জানিয়েছে, সিনেমায় শালিক পাখিকে খাঁচায় বন্দি রাখা, মেরে খাওয়া কিংবা শাপলা পাতা মাছ ধরার দৃশ্যগুলো আইন লঙ্ঘনের নজির। যার ফলে সিনেমাটি দেখেছেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা। সিনেমা দেখার পর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সিনেমায় বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের চার কর্মকর্তা বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দেখেন। এর আগে গত ২৯ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পায় হাওয়া। দীর্ঘদিন পর দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সাড়া ফেলার পাশাপাশি এ সিনেমায় বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আসে।

সিনেমা দেখা শেষে ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, সিনেমাটি দেখলাম। ঘটনা সত্য। সিনেমায় মাছ ধরা, নৌকায় দীর্ঘসময় একটি শালিক পাখিকে খাঁচায় বন্দি রাখা হয় এবং শেষে পাখির মাংস খাওয়া হয়, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ এর সুস্পষ্ট বিরোধী। কেননা বন্যপ্রাণীকে খাঁচায় আটক রাখা কিংবা বন্দি রাখা আইনের লঙ্ঘন।

শালিকের মাংসই খাওয়া হয়েছে কিনা এবং গল্পের প্রয়োজনে এ ধরনের দৃশ্য দেখানোর দরকার হলে করণীয় কী- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তদন্ত করার আগে বলা যাচ্ছে না। এখন বলতে চাই, যে পাখিটাকে আটকে রাখা হয়েছে, সেটা সত্যিকারের শালিক পাখি। এরমধ্য দিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন হয়েছে। পাখির মাংসই খাওয়া হয়েছে কি না, তদন্ত শেষে সেটা বলা যাবে। সিগারেট খাওয়ার দৃশ্যে পর্দায় লেখা ওঠে- ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমার মনে হয়, সিনেমা কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণীর বিষয়েও এমন সতর্কবার্তা রাখতে পারতেন। কিন্তু সিনেমার শুরুতে এমন কোনো বার্তা চোখে পড়েনি।

এই বন কর্মকর্তা বলেন, আমরা রিপোর্ট পেশ করব। আশা করি, আইন অমান্যকারীকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। শাস্তির বিষয়টা আদালত দেখবে। আইন লঙ্ঘন হয়েছে, এটা আমরা বলতে পারব। তবে আইনে বলা আছে, বন্যপ্রাণীকে খাঁচায় লালন পালন বা নিজের দখলে রাখলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের জেল হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ড আলাদা একটি বোর্ড। তারা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দিয়ে থাকে। তারা কী দেখে অনুমতি দেবেন কী দেখে দেবেন না, সেটা তাদের বিষয়। আমরা বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটাই দেখতে এসেছি। ছবিতে যা দেখানো হয়েছে, তাতে মাংসটা যে মুরগির, তা দর্শক বুঝবেন না। দর্শককে বোঝানো হয়েছে এটি শালিক পাখিরই মাংস। এতে করে উপস্থিত এক দেড় হাজার দর্শকের মাঝে ভুল বার্তা গেছে। এভাবে সিনেমার লাখ লাখ দর্শক বুঝবেন যে, মাছ ধরার নৌকায় শালিক পাখি রাখতে হবে, যাতে মাঝির নৌকা হারিয়ে গেলে পাখির মাধ্যমে সাগরের তীর খোঁজা যাবে এবং দুঃসময়ে পাখির মাংসও খাওয়া যাবে।

এসময় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল সাদিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে হাওয়া সিনেমার নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। জানার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে