বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা যে পরিকল্পনা করেছিল

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২; সময়: ৯:১৮ am |
বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা যে পরিকল্পনা করেছিল

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বংশ এবং বাংলাদেশ থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন। এই দুই প্রধান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে পরিবার-স্বজন সবাইকে একই সময়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসাসহ একেক বাসায় আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন একেকজন। সিদ্ধান্ত হয়— ৩২ নম্বরের বাড়িটিকে ঘিরে দুটো বৃত্ত তৈরি করা হবে। ভেতরের বৃত্তের সদস্যরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করবেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় এ এফ এম মহিতুল ইসলাম, আব্দুর রহমান শেখ (রমা), মো. সেলিম (আব্দুল), অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার মো. কুদ্দুস শিকদার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল হামিদ, সাবেক সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ, আয়েনউদ্দিন মোল্লার সাক্ষ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব তথ্য জানা যায়।

এ পর্যন্ত ঘাতকদের ৬ জনের ফাঁসি হয়েছে। বাকি আছেন আরও ৫ জন। তারা হলেন— আব্দুর রশীদ, শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এবিএমএইচ নূর চৌধুরী। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী ক্যানাডায় অবস্থান করছেন। ১৫ আগস্ট তাদের কার কী দায়িত্ব ছিল, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— দলে দলে ভাগ হয়ে তারা প্রত্যেকের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। আর মানুষ যেন প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামতে সাহস না করে, সে জন্য গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে এনে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের জন্য ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিনশ’ সাধারণ সৈনিককে প্রস্তুত করা হয়।

কে কোন দায়িত্বে

অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন মেজর ফারুক। তিনিই অফিসারদের অপারেশনের পরিকল্পনা জানান। সিদ্ধান্ত হয়, ওই বাড়িকে ঘিরে দুটো বৃত্ত তৈরি করা হবে। ভেতরের বৃত্তের সদস্যরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করবেন।

বাইরে থেকে রক্ষীবাহিনী বা ভেতর থেকে সেনাবাহিনীর কোনও আক্রমণ এলে তা ঠেকানোর দায়িত্বে থাকবে বাইরের বৃত্তের সদস্যরা। বাইরের বৃত্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর নূর ও মেজর হুদাকে।

এক কোম্পানি সেনাসহ রেডিও স্টেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউ মার্কেট এলাকার দায়িত্বে ছিলেন মেজর শাহরিয়ার। পিলখানায় বিডিআরের তরফ থেকে কোনও ধরনের আক্রমণ হলে তা প্রতিহত করার দায়িত্বও ওই গ্রুপকে দেওয়া হয়।

২৮টি ট্যাংক নিয়ে শেরেবাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নেন মেজর ফারুক নিজে। সেসব ট্যাংকে গোলা না থাকলেও মেশিনগানে প্রচুর গুলি ছিল।

ভোর সোয়া ৫টার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসায় আক্রমণ হয়। শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ঘাতকরা। প্রাণে বেঁচে যান শেখ মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস।

ডালিমের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বেবী, ১২ বছরের ছেলে আরিফ, চার বছরের নাতি বাবু (আবুল হাসনাত আবদুল্লার ছেলে), ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আবদুল নইম খান রিন্টু, তিন অতিথি এবং চার জন গৃহকর্মীকে।

আক্রমণে মেজর রশিদ সরাসরি কোনও দায়িত্ব ছিলেন না। তার দায়িত্ব ছিল হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমন্বয় করা।

৩২ নম্বরে আক্রমণ

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করামাত্র বাড়ির দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কথায় গৃহকর্মী আব্দুল আর রমা নিচে নেমে মূল ফটকের বাইরে গিয়ে দেখেন, সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগোচ্ছে। আব্দুল ও রমা ফিরে এসে সবাইকে জানালে ঘটনা শুনে শার্ট-প্যান্ট পরে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। জামা-কাপড় পরে শেখ জামাল তার স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কক্ষে যান। আর বঙ্গবন্ধু তখন সেনাপ্রধানসহ নানা জায়গায় সহযোগিতা চেয়ে কল করছেন। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জে চেষ্টার এক পর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই কথা শুরু করতেই শুরু হয় গুলি। বিস্মিত স্তম্ভিত বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছো?’ এ কথা বলে বঙ্গবন্ধু দোতলায় চলে যান।

ঠিক এর পরপরই শেখ কামাল নিচে নামার চেষ্টা করলে তার ওপরে মেজর বজলুল হুদা ব্রাশফায়ার করেন। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল। একটা গুলি তার সঙ্গে থাকা মহিতুলের হাঁটুতে, আরেকটা নুরুল ইসলামের পায়ে লাগে।

এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে যায়। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে। সেসময় বঙ্গবন্ধুর ঘরে তিনি ছাড়াও ছিলেন— স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী পারভীন জামাল রোজী। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে অবস্থান নেয়। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসতেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে।

মেজর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গের সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে? তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি। বেয়াদবি করছিস কেন?’ বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে মহিউদ্দিন ঘাবড়ে যান। এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান নেন বজলুল হুদা ও নূর। স্টেনগান দিয়ে গুলি করলে বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে।

বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই ছিলেন শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ সবাইকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেন আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • দেশে প্রবীণ বৃদ্ধির হার বাড়ছে
  • গল্পটা ৪৪ বছরের…
  • ‘পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে’
  • রাজশাহীতে ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কে গবাদিপশুর খামারিরা
  • ৭৫ বছর পর ভারতের যে গ্রাম পেল প্রথম সরকারি চাকুরে
  • জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাসিক মেয়রকে আচরণবিধির চিঠি
  • বারবার আঘাত এলেও লক্ষ্যে অটুট শেখ হাসিনা
  • শেখ হাসিনা: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি নারী
  • দুই মাস ধরে নিখোঁজ রাজশাহীর রাহাত আলী
  • রাজশাহীতে আবারও ধান ক্ষেতে পানি না দেয়ার অভিযোগ
  • রাজনীতিকে বিদায় বলছেন ড. কামাল!
  • রাজশাহী জেলা পরিষদে কে কোন প্রতীক পেলেন
  • ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা রাসিকের
  • জেলা পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ২৭ প্রার্থী
  • টেকনাফ সীমান্তেও মিয়ানমারের উত্তেজনা, কৌশলী অবস্থানে বিজিবি
  • উপরে