গভর্নরদের সভায় একঘণ্টা পরামর্শ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২২; সময়: ১১:৫১ am |
গভর্নরদের সভায় একঘণ্টা পরামর্শ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জাতির জনক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সবশেষ বড় বৈঠকে সকল প্রকার স্বজন তোষণ ও দুর্নীতির উর্ধ্বে থেকে দুঃখি মানুষের কল্যাণে কাজের আহ্বান জানান এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পরামর্শ দেন। ১৯৭৫ সালের ২১ জুলাই তিনি নবনিযুক্ত গভর্নরদের নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু বলেন, নতুন ব্যবস্থার সুফল জনগণের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। গভর্নরদের লক্ষ্য হবে সেবার, মনোভাব হবে সেবকের। তারা কোনও মতে শাসক নন, তারা হবেন সেবক।

সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সেটি সবচেয়ে বড় সমাবেশ ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেদিন তিনি একঘণ্টাকাল বক্তৃতা করেন এবং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নানা বিষয়ে পরামর্শ ও সতর্ক করেন।

ওইদিন বঙ্গবন্ধু বঙ্গভবনের দরবার কক্ষে নবনিযুক্ত ৬১ জন গভর্নরের ২৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জাতীয় দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী, জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিলসহ আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচি সফল, দুর্নীতি দমন এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গভর্নরদের কাজ করতে হবে।

পরিবর্তন দরকার ছিল

সেদিন বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পুনর্গঠন দরকার ছিল। কোনও স্বাধীন দেশে ঘুণে ধরা উপনিবেশিক শাসক ব্যবস্থা চলতে পারে না। কারণ, জনগণের কল্যাণ সাধন নয়, এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল শাসন ও শোষণ করা।

তিনি বলেন, যারা পুরনো শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাও জানেন, এই ব্যবস্থা জনগণ থেকে কত বিচ্ছিন্ন ছিল। যারাই সরকারি কর্মচারী হয়েছেন তারাই নিজেদের মনে করেছেন মুরুব্বি। জনগণ শুধু তাদের আদেশ পালন করবেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শূন্যতা দূর করার জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ক্ষমতা অনেক বেশি

রাষ্ট্রপতি পরিষ্কার ভাষায় সেদিন জানান, সাবেক ডেপুটি কমিশনারদের চেয়ে এখন গভর্নরদের ক্ষমতা অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে। সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন চালান দুনিয়ায় এমন নজির নেই। আমাদের এখানে এটা নতুন পরীক্ষা। গভর্নরদের বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কারণ, তারা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সব দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন কাউন্সিলের সচিব হবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া এসপি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা থাকবেন। গভর্নরদের যোগাযোগ থাকবে সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে।

পার্টি সেক্রেটারির ক্ষমতা কম নয়

একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, জেলা পর্যায়ে পার্টির সেক্রেটারিরও কম ক্ষমতা থাকবে না। তিনি বলেন, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সকলকে কাজ করতে হবে। গভর্নর আহুত প্রশাসন কাউন্সিলের সভায় পার্টির সেক্রেটারি এবং সেক্রেটারি আহুত পার্টির সভায় গভর্নর উপস্থিত হবেন।

প্রশাসন চালাতে গিয়ে গভর্নরদের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার উপদেশ দেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং এ ব্যাপারে গভর্নরদের সহনশীল ও সংযমী হতে হবে।

তিনি গভর্নরদেরকে সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপদেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, গভর্নররা নীতি নির্ধারণ করবে এবং তা বাস্তবায়িত হবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে।

গভর্নরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের একটা খারাপ কাজ জনগণকে শত ভালো কাজের কথা ভুলিয়ে দেবে। কাজেই সজাগ থাকতে হবে।

যেসব সংসদ সদস্য গভর্নর হয়েছেন বঙ্গবন্ধু বিশেষভাবে তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ আপনারা নির্বাচিত প্রতিনিধি।

তিনি তাদের সকল প্রকার স্থানীয় দলাদলিদের ঊর্ধ্বে থাকার উপদেশ দেন। তিনি বলেন, আপনাদের নির্বাচনকালে জনগণ আশা করেছিল— আপনাদের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়ন হবে। এবার সে সুযোগ আপনাদের দেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন কর্মসূচি তদারক করবেন

নিজস্ব জেলার জেলা গভর্নরদের উন্নয়ন কর্মসূচি এবং গ্রামের কার্যক্রম তদারক করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধু বলেন, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। জনগণ সংগঠিত না হলে শুধু অর্থ বরাদ্দে কাজ হবে না। একইসঙ্গে হিসাব রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দে যথাযথ ব্যবহারের জন্য গভর্নররা দায়ী থাকবেন। জনগণের জ্ঞাতার্থে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ এবং খরচের হিসাব-চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য গভর্নরদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রশাসন ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ে বেশকিছু পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে পরিকল্পনা নিতে হবে সে বিষয়েও বঙ্গবন্ধু সেদিন কথা বলেন।

তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন থেকে বৃহত্তর জনসংখ্যা লাভবান হয় কিনা। বরাদ্দের টাকা দিলেই উন্নয়ন হয় না।

যেসব সরকারি কর্মচারী গভর্নর নিযুক্ত হয়েছেন তাদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, আপনারা এখন শুধু সরকারি কর্মচারী নন, পার্টির সদস্যও।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছেন, যারা তার ডাকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তারা নতুন ব্যবস্থা সফল করে জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • দেশে প্রবীণ বৃদ্ধির হার বাড়ছে
  • গল্পটা ৪৪ বছরের…
  • ‘পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে’
  • রাজশাহীতে ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কে গবাদিপশুর খামারিরা
  • ৭৫ বছর পর ভারতের যে গ্রাম পেল প্রথম সরকারি চাকুরে
  • জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাসিক মেয়রকে আচরণবিধির চিঠি
  • বারবার আঘাত এলেও লক্ষ্যে অটুট শেখ হাসিনা
  • শেখ হাসিনা: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি নারী
  • দুই মাস ধরে নিখোঁজ রাজশাহীর রাহাত আলী
  • রাজশাহীতে আবারও ধান ক্ষেতে পানি না দেয়ার অভিযোগ
  • রাজনীতিকে বিদায় বলছেন ড. কামাল!
  • রাজশাহী জেলা পরিষদে কে কোন প্রতীক পেলেন
  • ইলেকট্রনিক ইমুনাইজেশন কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা রাসিকের
  • জেলা পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ২৭ প্রার্থী
  • টেকনাফ সীমান্তেও মিয়ানমারের উত্তেজনা, কৌশলী অবস্থানে বিজিবি
  • উপরে