অন্ধকার মহাসড়ক, ডাকাতির আস্তানা

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২২; সময়: ১:৫৩ pm |
অন্ধকার মহাসড়ক, ডাকাতির আস্তানা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে বারবার ঘটছে রোমহর্ষক ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট না থাকা ও টহল পুলিশের কার্যক্রমে শিথিলতাকেই দায়ী করছে নাগরিক সমাজ।

তবে হাইওয়ে পুলিশের দাবি, নিয়মিত চলে টহল। আর জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ কায়ছার জানান, দ্রুত অপরাধীদের ধরতে নতুন কৌশল অবলম্বন করা হবে।

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চল। দিনের বেলাতেও সুনসান নীরবতা। আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই একেবারে ভুতুড়ে পরিবেশ। এটাকে টার্গেট করেই সক্রিয় অপরাধীচক্র। বারবার সংগঠিত হচ্ছে চলন্ত বাসে ডাকাতি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন রোমহর্ষক ঘটনা।

বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর থেকে উত্তরবঙ্গের ২১ জেলাসহ ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করছে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেসের চলন্ত বাসটি ডাকাত দলের সদস্যরা প্রায় ৩ ঘণ্টা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়ায়। এরপর যাত্রীদের হাত পা বেঁধে টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার লুট করার পর চলন্ত বাসেই এক গৃহবধূকে ৬ জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুন নামের এক নারীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের জলছত্র এলাকায় চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ের সময় বাসন্তি মাংসাং নামের প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ডাকাতরা।

ভুক্তভোগী ও এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট ও টহল পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকার কারণেই বারবার ঘটছে এমন বড় বড় অপরাধ।

বিভিন্ন পরিবহনের চলকরা বলছেন, রাতে যখন তারা যাতায়াত করেন তখন মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট কিংবা টহল টিমের দেখা পান না।

অবশ্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লাহ টুটুল বলেন, মির্জাপুর থানার জোয়া ব্রিজ থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় আমরা ডিউটি করি। এখানে আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিমে ৫ জন এবং চেকপোস্টে ৪ জন পুলিশ সদস্য ডিউটি করে।

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, এখন থেকে আমরা সব পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলব। যাতে করে তারা পথিমধ্যে কোনো যাত্রী না ওঠায়।

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বেশির ভাগই আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের সদস্য বলে জানায় পুলিশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে