রাবিতে প্রক্সি দিয়ে প্রথম স্থান অতঃপর

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২২; সময়: ৮:২৯ pm |
রাবিতে প্রক্সি দিয়ে প্রথম স্থান অতঃপর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি ভাড়া নিয়েছিলেন তানভীর আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী। তাঁর হয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন রাবিরই ফোকলোর বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী বায়েজিদ খান। পরীক্ষা শেষে ধরাও পড়েছিলেন। তারপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রক্সি ভাড়া নেওয়া তানভীর আহমেদ ‘এ’ ইউনিটের গ্রুপ-২-এ প্রথম হয়েছেন। তাঁর রোল নম্বর ৩৯৫৩৪। প্রাপ্ত নম্বর ৯২ দশমিক ৭৫। ফলাফলে তানভীরের পজিশন লেখা হয় ১। তবে এটি নিয়ে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হলে জরুরি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ফল বাতিল করে।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রদীপ কুমার পাণ্ডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ফল বাতিলের কথা জানিয়েছেন।

ভর্তি পরীক্ষার্থী তানভীরের হয়ে পরীক্ষায় বসা বায়েজিদ ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা তন্ময় তাঁকে এই পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে তন্ময় পলাতক। এমন প্রক্সিকাণ্ডের পরও খাতা বাতিল না করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তানভীর আহমেদের প্রথম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এ’ ইউনিটের সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, তানভীরের হয়ে কেউ প্রক্সি দিয়েছে এই তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি। প্রক্সি ধরা পড়লে তাঁর খাতা আলাদা করে ফেলা হয়। কিন্তু এটি আমাদের অবহিত করা হয়নি। সে জন্য তাঁর নাম চলে আসে।

গত ২৬ জুলাই ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে বায়েজিদসহ ধরা পড়েন চারজন। প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. এখলাসুর রহমান। তিনি ভর্তি পরীক্ষার রোল ১৭২২৮-এর পরীক্ষার্থী লিমনের হয়ে প্রক্সি দেন।

আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মেহজাবিন ভর্তি পরীক্ষা রোল ৬২৮২৮-এর পরীক্ষার্থী ইশরাত জাহানের হয়ে প্রক্সি দেন। এ ছাড়া খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. সমীর রায় ৮৪৬৪৮ রোল নম্বরের রাহাত আমিন নামের এক শিক্ষার্থীর হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বসেছিলেন। চোখ ফাঁকি দিতে সমীর হাতে-মুখে ব্যান্ডেজ লাগিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও ধরা পড়ে কারাগারে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারজনের মধ্যে এখলাসুর ও ডা. সমীর যে দুই শিক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন, তাঁদের খাতা বাতিল করা হয়। কিন্তু জান্নাতুল মেহজাবিন ও বায়েজিদ খান যাঁদের হয়ে পরীক্ষায় বসেন, তাঁদের খাতা বাতিল হয়নি। ফলে তানভীর আহমেদ ‘এ’ ইউনিটের গ্রুপ-২-এ প্রথম হন। প্রক্সি ভাড়া নেওয়া শিক্ষার্থী ইশরাত জাহানও পাস করেন। তাঁর স্কোর ৪৬ দশমিক ৯০। ইশরাতের পরীক্ষা দিয়েছেন জান্নাতুল মেহজাবিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘ইশরাত জাহানের যে স্কোর, তাতে ভর্তির সুযোগ হবে না। তবে তানভীরের বিষয়টি নজরে আসার পরই উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কো-অর্ডিনেটর জরুরি সভায় বসেন। সেখানে তানভীরের ফল বাতিল করা হয়, যেহেতু এটা প্রমাণিত যে তাঁর পরীক্ষা বায়েজিদ দিয়েছিল।’
প্রদীপ কুমার পাণ্ডে আরও বলেন, ‘আর কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এ রকম আরও পাওয়া গেলে সেই ফলও বাতিল করা হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে ফল প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। সেখানে উপাচার্য বলেন, ‘ঘোষিত এই ফলাফলে মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন হয়েছে।’

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘এ’ ইউনিটে চারটি শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গ্রুপ-১-এ পাসের হার ৪৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। সর্বোচ্চ নম্বর ৮২ দশমিক ৮০। গ্রুপ-২-এ পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, সর্বোচ্চ নম্বর ৯২ দশমিক ৭৫। গ্রুপ-৩-এ পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৩, সর্বোচ্চ নম্বর ৯৩ দশমিক ১৫। গ্রুপ-৪-এ পাসের হার ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ নম্বর ৮৪ দশমিক ৬৫। এই পরীক্ষায় অংশ নেন ৬১ হাজার ৯০ জন শিক্ষার্থী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে