নিহত আল-জাওয়াহিরি ছিলেন লাদেনের ডান হাত

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২২; সময়: ৯:৩৩ am |
নিহত আল-জাওয়াহিরি ছিলেন লাদেনের ডান হাত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মার্কিন হামলায় নিহত আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত হওয়ার পর আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠাতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

ওসামা বিন লাদেন যে সময় বেঁচে ছিলেন তখন জাওয়াহিরিকে আল-কায়েদার দ্বিতীয় প্রধান মনে করা হতো। তিনি ছিলেন পেশায় শল্যচিকিৎসক। তাকে আল-কায়েদার তাত্ত্বিক গুরু বলেও মনে করা হতো। তিনি মিশরের ইসলামি জিহাদ নামক উগ্রবাদী সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে চলানো হামলায় জাওয়াহিরিই ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী। মূলত, আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ও আল-জাওয়াহিরি একসাথে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের আক্রমণের আয়োজন করেন। ওই হামলায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরির মাথার মূল্য ছিলো ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাওয়াহিরিকে হত্যার বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ বলেছেন, কাবুলে চালানো এ হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এভাবে জাওয়াহিরিকে হত্যা করার নিন্দা করেছে।

তবে এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন যে কাবুলে আল-জাওয়াহিরির উপস্থিতি ‘দোহা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ যা ওয়াশিংটন ও তালেবান ২০২০ সালে স্বাক্ষর করেছিল।

ওই চুক্তিটি আল-কায়েদা ও আইএসআইএল (আইএসআইএস) এর মতো গোষ্ঠীগুলোকে আফগান মাটিতে কাজ করার অনুমতি না দেওয়ার জন্য তালেবানের কাছ থেকে গ্যারান্টির বিনিময়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশী বাহিনী প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত করেছিল। এরপর তারা মার্কিন বাহিনীকে ৩১ আগস্টের সময়সীমার ঠিক আগে প্রত্যাহার করে নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান ঘটে।

এছাড়া জাওয়াহিরিকে হত্যার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও সহিংসতার প্রমাণ রয়েছে। এখন ন্যায় বিচার হয়েছে এবং ওই উগ্রবাদী নেতা আর বেঁচে নেই।

বাইডেন জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরিকে হত্যার জন্য হামলা করতে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য কয়েকমাস পরিকল্পনা করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে জাওয়াহিরিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকায় হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য বিচারের বিষয়টি সুরাহা হবে।

বাইডেন বলেন, এ বিচারের জন্য কত দিন সময় লেগেছে সেটা বড় বিষয় নয়। জাওয়াহিরি কোথায় লুকিয়ে ছিলো সেটাও কোনো ব্যাপার নয়। কারণ কেউ যদি আমেরিকার জনগণের জন্য হুমকি হয়, তাহলে আমেরিকা তাকে খুঁজে বের করবে।

জাওয়াহিরিকে হত্যার বর্ণনায় এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।’

ওই কর্মকর্তারা আরও বলছেন, যখন মার্কিন ড্রোন থেকে দু’টি মিসাইল হামলা চালানো হয় তখন জাওয়াহিরি একটি সেফ হাইজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • সিআইডি প্রধান হলেন মোহাম্মদ আলী মিয়া
  • ক্রিমিয়ায় বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো রুশ সামরিক ঘাঁটি
  • বাড়ার তুলনায় না কমলেও, কমেছে ডলারের দাম
  • গুচ্ছের ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ
  • উত্তরা দুর্ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শতভাগ দায়ী: সড়ক পরিবহন সচিব
  • গার্ডার পড়ে নিহত রুবেলের মরদেহ নিয়ে ৭ স্ত্রীর ‘টানাটানি’
  • মধ্যবয়সে সূর্য, ভবিষ্যতে কী হবে বললেন বিজ্ঞানীরা
  • স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
  • তেলের সাথে পানি মেশানোয় পাম্প মালিককে জরিমানা
  • পরিত্যক্ত বাড়িতে মিললো স্কুলছাত্রের মরদেহ
  • রাজশাহীতে বাবার হাতে ছেলে খুন
  • পাবনায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
  • নিয়ামতপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১
  • আফগানিস্তানে বন্যা ও ভূমিধসে ৩১ জনের মৃত্যু
  • বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ২
  • উপরে