তাইওয়ানকে ঘিরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তুঙ্গে

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২২; সময়: ৪:৪৫ pm |
তাইওয়ানকে ঘিরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তুঙ্গে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চীনের হুমকি ও সামরিক মহড়ার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা দানা বাঁধছে। এতে করে তাইওয়ান ইস্যুতে কার্যত তুঙ্গে উঠেছে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের সংঘাত।

ইউক্রেন সংকট সামাল দিতে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত আরও বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, এমন আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। এমন সংকটের স্ফুলিঙ্গ হতে পারে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর।

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে ওয়াশিংটন এতোকাল তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখে এসেছে। কিন্তু চীনের বেড়ে চলা আগ্রাসী মনোভাবের মুখে এবার বাইডেন প্রশাসন প্রকাশ্যে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াতে এতো বড় ঝুঁকি নেয় কি না, আপাতত সে বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

পেলোসি এরই মধ্যে তার এশিয়া সফরের শুরুতে সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছেছেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত পেলোসির সফর তালিকায় শুধু সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাম রয়েছে। তবে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর নিয়ে চরম হুমকি দিয়েছে বেইজিং।

এদিকে তাইওয়ানের কাছে বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। গত শনিবার চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মাঝে শক্তি প্রদর্শন করেছে চীনা নৌ-বাহিনী। বিমান বাহিনীও রোববার তাইওয়ানের কাছে নজরদারি চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে ‘ইউএসএস রোনান্ড রেগান’ নামের একটি রণতরী পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে পূর্ব-পরিকল্পিত হিসেবে বর্ণনা করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার পর চীন এমন চরম পদক্ষেপ নিতে আরও ‘সাহস’ পেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সপ্তাহে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে দেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

টেলিফোনে শি বাইডেনকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে। চীন তাইওয়ানের ওপর সরাসরি হামলা চালালে ওয়াশিংটন সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনেরও কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন পরিস্থিতি শান্ত করতে শুক্রবার বলেছিলেন যে, তাইওয়ানের প্রশ্নে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য সত্ত্বেও গত প্রায় চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ফলে তাইওয়ানের মানুষ উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পেরেছেন।

তবে চীনের বর্তমান হুমকির মুখে ওয়াশিংটন মাথা নত করবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে