মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তাণ্ডব, বাস্তচ্যুত হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২২; সময়: ১:৪৮ pm |
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তাণ্ডব, বাস্তচ্যুত হাজারো মানুষ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আবার দমন-পীড়নের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে আতঙ্কে বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।

বৃহস্পতিবার ঐ অঞ্চলের সালিঙ্গি শহরে নতুন করে অভিযান চালানো হয়। সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, ইয়ে খার এবং শ্বে হতাউক গ্রামের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে প্রায় ১৫০ সেনা সদস্য।

সালিঙ্গির এক বাসিন্দা বলেন, গত মাসে জান্তা বাহিনী এখানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। যারা প্রাণ নিয়ে পালাতে পেরেছিলেন তারা কয়েকদিন আগে ফিরেছেন। এর মধ্যে আবার হামলা চালালো সেনারা।

খবরে বলা হয়েছে, ইয়ে খার এবং শ্বে হতাউকে সব মিলিয়ে আড়াই শতাধিক ঘর আছে। সেনা সদস্যদের লাগানো আগুনে কতগুলো ঘরে পুড়ে গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে এ হিসাব বের করতে পারেনি গ্রামবাসী। সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য দ্রুত খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

গত জুনেও সালিঙ্গি শহরে সামরিক অভিযানে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। যাদের অনেকে এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

সালিঙ্গিকে মিয়ানমারের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সু চি’র সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর থেকে দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ছোট বড় বিভিন্ন গোষ্ঠী। সাবেক সেনা, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন হওয়া এসব গোষ্ঠীগুলো প্রায় সময় সেনা বহরে হামলা চালিয়ে আসছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচ) তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সাগাইং অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে। অভ্যুত্থানের আগে মিয়ানমারে অনেক বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা ছিল এবং জাতিসংঘের সংস্থা ধারণা করছে, দেশটির ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সু চির সরকার পতনের আগে ২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার, উখিয়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে