নামাজের ইহ ও পরকালীন উপকার

প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২২; সময়: ১০:০০ am |
খবর > ধর্ম
নামাজের ইহ ও পরকালীন উপকার

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নামাজ একটি শারীরিক ইবাদত। এটি ইসলামের একটি স্তম্ভ (বুখারি-মুসলিম)। যথাসময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের ওপর ফরজ করা হয়েছে। (সূরা নিসা-১০৩)। এটি আদায় করার দ্বারা ইহজাগতিক কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি রয়েছে। আল্লাহ পাক কুরআনুল কারিমে নামাজ সম্পর্কে প্রায় ১০৯টি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যা থেকে নামাজের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়। আল্লাহ পাক বলেন, নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত-৪৫)।

নিম্নে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নামাজের মূল্যায়ন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো-

সময়ানুবর্তিতা

নামাজ মানুষকে সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয় ও সময় সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। প্রখ্যাত সাংবাদিক, স্বাধীনচেতা, ভারতীয় নেতা, দেওয়ান শিং মাফতুন তিনি তার প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচারিত গ্রন্থ রিয়াসাতে লিখেছেন, নামাজ এমন একটি আমল যা মানুষকে সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয়।

শৃঙ্খলা

নামাজের কাতারে এক ধরনের শৃঙ্খলা দৃশ্যমান। আমাদের ওপর কোনো ধরনের বল প্রয়োগ ছাড়ায় সেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দ্যে সারিবদ্ধ হয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যায় যা আমাদের শৃঙ্খলা শিক্ষা দেয়। এটি শৃঙ্খলা শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম।

সামাজিক শিক্ষা

একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চাইলে সমাজের প্রত্যেক মানুষকে পরস্পর সম্প্রীতি ও সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে চলতে হবে। আমরা লক্ষ করলে দেখতে পাই, নামাজে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, বর্ণ বৈষম্য ও বিভিন্ন ভেদাভেদ ভুলে মিলেমিশে দাঁড়িয়ে যাই। তাই নামাজ সামাজিক শিক্ষা গ্রহণের অন্যতম গুরু।

মনোযোগ ও স্থিরতা

প্রত্যেকটি কাজের জন্য গভীর মনোযোগ ও স্থিরতা থাকা চাই। আর যে কাজে গভীর মনোযোগ ও স্থিরতার অভাব রয়েছে সে কাজে পরিপূর্ণ ফল পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। একজন মুমিন যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন তাকে বিভিন্ন চিন্তা দূরে রেখে শুধু আল্লাহর ধ্যান মনে স্থির রেখে ও মনোযোগের সঙ্গে নামাজের প্রত্যেকটি ধাপ ভালোভাবে সম্পাদন করতে হয়। আর নামাজের মাধ্যমেই গভীর মনোযোগ ও স্থিরতা অনুশীলন করা সম্ভব।

বিনয়ী হওয়া

বান্দা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য নামাজে বিনয়ী হয়ে দাঁড়ায়। আর এখান থেকেই কীভাবে বিনয়ী হতে হয় তার শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।

অলসতা দূরীকরণ

আমরা যখন ঘুমিয়ে যাই আমাদের দেহ মন অলস হয়ে যায় তবে আজান শুনে সব অলসতা দূর করে ফজরের নামাজে যাই। এ নামাজই আমাদের অলসতার বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে শিখায়।

নামাজ উৎকৃষ্ট ব্যায়াম

প্রখ্যাত আমেরিকান ডাক্তার বার্থম জোযিফ এক সাক্ষাৎকারে নামাজ ও ইসলাম সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নামাজ হলো একটি পরিপূর্ণ ও উপযুক্ত শরীরচর্চা।

শরীর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায়

আমরা সারা রাত ঘুমিয়ে থাকি। তখন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হয় নিস্তেজ, অবসাদগ্রস্ত ও বিষণ্ন। সঠিক রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাই শরীরে এমন এক ব্যায়ামের প্রয়োজন যাতে রক্ত পূর্ণ শরীরে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয় এবং শরীর নতুনভাবে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায় তাই তাহাজ্জুদ ও ফজর নামাজ দ্বারা আমাদের সেই ব্যায়াম সম্পন্ন হয়।

পরকালীন কল্যাণগুলো

আল্লাহ পাক বলেন, যারা নিজেদের নামাজের হেফাজত করে তারাই জান্নাতে সম্মানের পাত্র হইবে। (সূরা মাআরিজ, আয়াত নং ৩৫)। এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি নামাজের ইহতিমাম করে আল্লাহ পাক তাকে পাঁচটি পুরস্কার দান করেন । ১. তার রিজিকের অভাব দূর করে দেন। ২. কবরের আজাব দূর করে দেন। ৩. বিজলির মতো দ্রুত বেগে পুলসিরাত পার করিয়ে দেবেন। ৪. ডান হাতে আমলনামা দেবেন ৫. বিনা হিসাবে জান্নাত দেবেন। নবি করিম (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করিবে আমি তাহাকে নিজ জিম্মাদারিতে জান্নাতে প্রবেশ করাব। (ইবনে মাযাহ, আবু দাউদ, নাসাঈ)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, নবি করিম (সা.) একদিন নামাজ সম্পর্কে আলোচনাকালে ইরশাদ করলেন-যে ব্যক্তি নামাজের ইহতিমাম করবে কেয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নুর হইবে এবং হিসাবের সময় দলিল হইবে এবং নাজাতের উপায় হইবে (মুসনাদে আহমাদ)।

হতবাক এক ফিজিওথেরাপিস্ট

একজন পাকিস্তানি ডাক্তার (ডা. মাজেদ যামান উসমানী) ইউরোপে ফিজিওথেরাপিতে উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য গমন করেন। সেখানে তাকে হুবহু নামাজের মতো একটি ব্যায়াম পড়ানো হলো তখন তিনি ওই ব্যায়াম দেখে হতবাক হয়ে পড়লেন। অশ্চর্য! আমরা তো এতদিন পর্যন্ত নামাজকে শুধু ধর্মীয় কর্তব্য মনে করে আসছিলাম। কিন্তু এখন তো দেখছি এর মধ্যে অশ্চর্যজনক রহস্য আছে। এর দ্বারা বড় বড় রোগ-ব্যাধি নিঃশেষ হয়ে যায়। এ ব্যায়াম দ্বারা যে যে রোগ নিরাময় হয় ডাক্তার সাহেব তার একটি তালিকা দিলেন।

১. মানসিক রোগ (Mental Disease) ২. স্নায়োবিক রোগ (Nerv Disease) ৩. অস্থিরতা, ডিপ্রেশন, ব্যাকুলতার রোগ ৪. মনস্তাত্ত্বিক রোগ (Psychiatric Disease) ৫. হার্ট-এর রোগ (Heart Disease) ৬. জোড়া রোগ (Arthritis) ৭. ইউরিক অ্যাসিড থেকে সৃষ্ট রোগ (Diseases Due to Uric Acid) ৮. পাকস্থলী ও আলসার রোগ (Stomach Ulcer) ৯. ডায়াবেটিস ও তার প্রভাব (Suger and Its After Effects) ১০. চক্ষু ও গলা রোগ (Eye and E.N.T.Diseases)।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে