সুজানগরে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২২; সময়: ৭:০৯ pm |
সুজানগরে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান

এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : পাবনার সুজানগরের ৭৪ নং শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ একটি সেমিপাকা ঘরে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের এ ঘরটি এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে একটি সেমিপাকা ঘর এবং ২০০৭ সালে ৩ কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে পাকা একতলা ভবনের ১টি কক্ষ ব্যবহূত হয় প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের জন্য, অপর দুইটি কক্ষ এবং বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ সেমিপাকা ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইশতাধিক । শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবন্তী আক্তার জানায়, বিদ্যালয়ের ফাটলধরা শ্রেণীকক্ষে ক্লাস করতে ভয় হয়। বৃষ্টির সময়ে উপরের টিন দিয়ে ছুঁয়ে পানি পড়ে মেঝেতে এছাড়া দরজা জানালাগুলো ভাঙা থাকায় বৃষ্টি হলে বাতাসের তোড়ে শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। এ কারণে অনেক সময় স্কুলে আসি না।শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই ব্যক্তিমালিকানা জমিতে কোন ধরণের নিয়মনীতি না মেনে স্থানীয় প্রভাবশালীমহল পুকুর খনন করে সেখানে মাছ চাষ করায় পুকুরের পাড় ভেঙ্গে বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘরটি আরও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে যে কোন সময় ঘরটি ভেঙ্গে পরতে পারে ।

এ কারণে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম জানান, সেমিপাকা ঘরটির শ্রেণি কক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অবস্থা দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘর জেনেও পাঠদান চালু রাখার স্বার্থে সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরাও । এ বিষয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রায়হান উদ্দিন খান জানান, বিস্তৃত ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরটি। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না। ঘরটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটি আমাদের তদারকিতে আছে।

জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.রওশন আলী জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিদ্যালয়ের ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বলা হয়েছে।

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখতে এবং নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা সে বিষয়ে অতি দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

এদিকে বিদ্যালয়েযেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুঘর্টনা । তাই বিদ্যালয়ের এ দুরাবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • রাজশাহীতে অনুমোদন বাতিলের পরও সেই কলেজে ভর্তি নিচ্ছে শিক্ষার্থী
  • মহাদেবপুরে জাল সনদে ১১ বছর শিক্ষকতা করার অভিযোগ
  • ববিতে ‘বঙ্গবন্ধুর আইন ও মানবাধিকার’ শীর্ষক ওয়েবিনার
  • রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা চলমান, কেন্দ্রের বাহিরে অভিভাবকদের ঢল
  • শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ইবি শাখা ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল
  • সহপাঠীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঢাবি ছাত্র বহিষ্কার
  • প্রক্সিকাণ্ডের ‘মূল হোতা’ রাবি ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় বহিষ্কার
  • ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে নবগঠিত শাখা ছাত্রলীগ কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • শিবগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি
  • বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে নবগঠিত ইবি শাখা ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি
  • রাবিতে পারফমেন্স আর্ট পরিবেশন
  • রাবি এ ইউনিটে প্রথম হওয়া তানভির আহমেদের ফলাফল বাতিল
  • রাবিতে প্রক্সি দিয়ে প্রথম স্থান অতঃপর
  • রাবির ভর্তি যুদ্ধেও হেরে গেলেন বেলায়েত
  • মাড়োয়ারী স্কুল এন্ড কলেজে বহিরাগতদের আনাগোনা
  • উপরে