রাইফেল-তলোয়ার প্রসঙ্গ: ক্ষমা চাইলেন অনুতপ্ত সিইসি

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২২; সময়: ৩:১৮ pm |
রাইফেল-তলোয়ার প্রসঙ্গ: ক্ষমা চাইলেন অনুতপ্ত সিইসি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম দিনের সংলাপে নির্বাচনে কেউ তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ালে তা প্রতিরোধ করতে রাইফেল নিয়ে দাঁড়াতে হবে- এমন বক্তব্য দেওয়ায় অনুতপ্ত হয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এমন বক্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। সিইসি বলেছেন, আমরা কখনও কখনও ভুল করে ফেলি। এজন্য আমি অনুতপ্ত। আমাকে ক্ষমা করবেন।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপে এই কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, আমাদের কিছু শক্তি থাকবে, সেগুলো আমরা নির্বাচনে প্রয়োগ করবো। কিন্তু প্রতিটি কেন্দ্রে তো আমরা যেতে পারবো না। কেন্দ্রে আপনাদের অবস্থান নিতে হবে। একান্তভাবে কামনা করবো যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, শক্তিশালী পার্টি থাকবে, দুর্বল পার্টি থাকবে। এখন শক্তিশালী পার্টির একজন, দুর্বল পার্টির তিনজন যদি থাকে তাহলে সম্ভাব্য যে সহিংসতা সেটা অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আপনারা যেটা বারবার বলছেন অর্থশক্তি, পেশিশক্তি এসবের সঙ্গে অস্ত্রশক্তি; বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে পরশু দিন যা বলেছি তা নিয়ে- সেটা হলো কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে বন্দুক নিয়ে আসবেন। এখন আপনাকে বুঝতে হবে যে, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কথাটা কখনও মিন করে বলতে পারেন না।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমি হয়তো অল্প শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত মানুষও এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। ববি হাজ্জাজের কথার পিটে হেসে বললাম, বন্দুক নিয়ে দাঁড়াবেন। এটা হচ্ছে কথার পিঠে কথা। এটা কখনোই সিইসি মিন করতে পারে না। যদি মিন করতে পারতাম তবে আমি প্রতিনিয়ত বলতাম আপনারা অস্ত্র সংগ্রহ করুন। আপনারা নিজেদের শক্তিশালী করুন। আমরা অনেক সময় হিউমার বা কৌতুক করে ফেলি।

সিইসি বলেন, আমরা মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। যতগুলো আলোচনা করেছি, আমরা কোনো রাখঢাক করিনি। আমাদের কথা ও ছবি বাইরে স্ক্রিন দেওয়া আছে, সেখানে যায়। এখন আমাদের সাংবাদিকরা কেন এটা করলেন, বুঝে নাকি না বুঝে! আমার শ্রদ্ধা তাদের প্রতি এখনও আছে। কিন্তু এটা করে আমার মর্যাদাটা একেবারেই ক্ষুণ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপনারা বিষয়টি বিশ্বাস করছেন, আমার বাবা বেঁচে থাকলেও বিশ্বাস করতেন যে, আমার ছেলে এমন বাজে পরামর্শ দিল কেন! আমার মাও বলতেন বাবা এত খারাপ পরামর্শ দিলে কেন? আমি এজন্য বলবো, কখনও কখনও আমরা ভুল করে থাকি, এজন্য আমি অনুতপ্ত। আমি হিউমার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এটাকে যদি ওইভাবে প্রচার না করে বস্তুনিষ্ঠভাবে বলা হতো, হিউমার করেছেন। আমি এটা মিন করিনি। এজন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমরা সৎ, আমার সহকর্মীরা আছেন। সবাই কঠোর অবস্থানে আছেন। সবাই সৎ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা সর্বাত্মভাবে সে চেষ্টা করবো।

দলগুলোর উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। সিইসি হিসেবে অনুরোধ করবো আপনারাও আন্তদলীয় সংলাপ করেন, মিটিং করেন। কিছু কিছু প্রশ্নে মোটাদাগে ঐক্যমতে পৌঁছার চেষ্টার করেন। কারণ এটা কিন্তু বড় ধরনের সমস্যা। অর্থশক্তি, পেশিশক্তির যে কথা আসছে। সেটা চট করে সমাধান করা সমঝোতা না থাকলে ইসির পক্ষে একা কষ্টসাধ্য হতে পারে। সেজন্য আপনাদের সহায়তা কামনা করছি।

সিইসি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। আইন অনুসরণ করতে আমরা বাধ্য। সরকারের সীমা কতটুকু হবে, সেগুলো নিয়ে সরকারের কাছে উপস্থাপন করুন। আমি দ্বিমত-একমত পোষণ করছি না। আমরা চাই সুন্দর নির্বাচন। সব দেশেই নির্বাচনকালীন সরকার রুটিন ওয়ার্ক করে। বর্তমান সরকার যারা আছেন, তারা রুটিন ওয়ার্ক করতে পারেন। উনাদের আমরা বাধ্য করতে পারবো না।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা দিয়েই কিন্তু সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। সংসদ গঠন করবেন। আর সেই সংসদ ওঠে আসবে কেবিনেট বা সরকার ওঠে আসবে। সেদিক থেকে গুরুত্ব অপরিসীম। সেই লক্ষ্যে যেটা প্রাসঙ্গিক, একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ, অংশগ্রহমূলক নির্বাচন, যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদেরর ভোট দিতে পারবেন। অনেক সময় তর্ক-বিতর্ক হয় যে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে না। আমরা বিষয়টাই আলোচনা করবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে