প্রতিবন্ধী ভাতিজিকে হত্যার দায়ে চাচাসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২২; সময়: ৩:০৬ pm |
প্রতিবন্ধী ভাতিজিকে হত্যার দায়ে চাচাসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের প্রতিবন্ধী ভাতিজি চায়না খাতুন (১১) কে হত্যার দায়ে চাচা সাদ্দাম হোসেন (৩৩) ও মেম্বর আকবর আলী (৪৪) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মোঃ নাজির।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জেলার বেলকুচি থানার ছোট বেড়া খারুয়া এলাকায় আসামী সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত তার চাচাত ভাইদের সাথে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

বিরোধের কারণে আসামী সাদ্দাম হোসেন তার চাচাত ভাইদের শায়েস্তা করতে আপন বড় ভাই এর বাক প্রতিবন্ধী কণ্যা চায়না খাতুন কে হত্যার পরিকল্পনা করে স্থানীয় মেম্বর অপর আসামী আকবর আলীর সাথে পরামর্শ করলে তিনি ঘটনা ঘটানোর জন্য বলেন এবং পরবর্তীতে দেখবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।

২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভাতিজী চায়না খাতুন আসামী সাদ্দাম হোসেনের বাসায় বেড়াতে আসলে রাত্রে সাদ্দাম হোসেন তার পিতার ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাতিজী চায়না খাতুন কে বাড়ির বাইরে এনে গলা টিপে হত্যা করে তার লাশ কাধে করে চরের ভেতর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ছোরা দিয়ে কাটেন। পরদিন বেড়া খারুয়ার চরে নিয়ে চায়না খাতুনের লাশ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে চায়না খাতুনের পিতা জহুরুল প্রামানিক বাড়িতে এসে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বেলকুচি থানা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষকে ফাসানোর জন্য আসামী মেম্বর আকবর আলীর প্ররোচনায় চাচা সাদ্দাম হোসেন ভাতিজী চায়না খাতুন কে হত্যা করেন।

আসামী সাদ্দাম হোসেন ও আকবর আলী শিশু চায়না খাতুন কে হত্যার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ১১ জন স্বাক্ষী উপস্থাপনে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আসামী সাদ্দাম হোসেন ও আকবর আলী কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদন্ড দন্ডিত করে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে