র‌্যাব স্টাইলে অভিযান চালাবে এপিবিএন

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২২; সময়: ১২:০৯ pm |
খবর > জাতীয় / লিড
র‌্যাব স্টাইলে অভিযান চালাবে এপিবিএন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এজন্য এরই মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা গার্ড সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন পুলিশের এই ইউনিটের কর্মকর্তারা। কাজে গতি আনতে সংস্থাটির জনবল প্রায় তিনগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং সশস্ত্র অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামানো হচ্ছে পুলিশের একমাত্র নারী ইউনিটকে। ওই ইউনিটটি এপিবিএন-১১ হিসাবে পরিচিত। এপিবিএনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এপিবিএন-১১ এর কমান্ডিং অফিসার ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহীনা আমিন বলেন, ‘এপিবিএনের অধ্যাদেশ দিয়েই র‌্যাব গঠন করা হয়। দুটি সংস্থার কাজের ধরনও একই। পার্থক্য শুরু তদন্তের ক্ষেত্রে। প্রতিষ্ঠার পর আইন সংশোধন করে র‌্যাব তদন্তের ক্ষমতা নিয়েছে। কিন্তু এপিবিএনের তদন্ত ক্ষমতা নেই। এটি ছাড়া র‌্যাব বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিট যেসব কাজ করছে আইনগতভাবে এপিবিএন সবই করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন কম।’

তিনি বলেন, ‘কাজের মাধ্যমেই র‌্যাব স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়েছে। আমরাও অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই। পাশাপাশি বাহিনী হিসাবে এর পরিচিত বাড়াতে চাই। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের আভিযানিক কাজে নেতৃত্ব দিতে আমরা প্রস্তুত। ইতোমধ্যে বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু সেগুলো তুলনামূলক ছোট অভিযান। এ কারণে সেগুলো আলোচনায় আসেনি। অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকের বড় চালান এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করেছি। এ ধরনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট এপিবিএন। ১৯৭৬ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। আইন অনুযায়ী পাঁচটি ম্যান্ডেট রয়েছে এ বাহিনীর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের মতো এর মূল কাজ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা। দ্বিতীয় ম্যান্ডেট : অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক প্রভৃতি উদ্ধার। তৃতীয়ত : সশস্ত্র অপরাধী চক্র দমন করবে। চতুর্থত : আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য ইউনিটকে সহায়তা করা।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক দেওয়া নিরাপত্তাসংক্রান্ত যে কোনো দায়িত্ব পালন করা সংস্থাটির কাজ। এসব দায়িত্বের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার এবং সশস্ত্র অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এ বিষয়ে এপিবিএনের খুব একটা সফলতা নেই। বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার এলাকায় এপিবিএনের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালন করেন শুধু তারাই এ সংক্রান্ত কাজ করছেন।

এপিবিএনের অন্যান্য ইউনিটগুলো সাধারণত এসব কাজ করে না। সম্প্রতি এপিবিএনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব কাজে নারী ইউনিটসহ অন্যান্য ইউনিটকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এপিবিএনের নারী ইউনিট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে দেশে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় নারী পুলিশের সংখ্যাও পর্যাপ্ত ছিল না। ওই পরিস্থিতিতে সরকার আইনশৃঙ্খল বাহিনীতে একটি নারী পুলিশ ইউনিটের বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করে। এরপর ওই সময় জুনে এপিবিএনের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন যেখানে নারী পুলিশের প্রয়োজন হবে, তখন সেখানেই এই ইউনিটের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এর মূল কাজ হলো অভিযান পরিচালনা করা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশে এপিবিএনের ১৬টি ব্যাটালিয়ন আছে। এছাড়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসপিবিএন) দুটি ইউনিটও এপিবিএনের অধীনে কাজ করে। এসপিবিএনের প্রধান হলেন ডিআইজি পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা। তিনি এপিবিএন প্রধানের (অতিরিক্ত আইজিপি) অধীনে দায়িত্বে পালন করেন।

আরও জানা যায়, ঢাকায় এপিবিএনের ছয়টি ব্যাটালিয়ন আছে। এগুলো হলো-এপিবিএন ১, ৫, ৮, ১১, ১২ এবং ১৩। এগুলোর মধ্যে এপিবিএন-১ উত্তরা এলাকায় দায়িত্ব পালন করে। ৫ নম্বর ব্যাটালিয়ন সংসদ ভবন এবং সচিবালয় এলাকায় কাজ করে। ১১ নম্বর ব্যাটালিয়ন যে কোনো ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম এবং চেকপোস্ট পারিচালনা করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ডিউটি পালন করে এ ইউনিট। এপিবিএন ১২ সুপ্রিমকোর্টে এবং ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়ন বিমানবন্দরে কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এপিবিএনের প্রতিটি ইউনিটে বতর্মানে মঞ্জুরিকৃত জনবল সাড়ে ৩০০। কিন্তু কর্মরত ২৫০ থেকে ৩০০ এর মধ্যে। এ জনবলের সংখ্যা প্রায় তিনগুণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এপিবিএনের প্রতিটি ইউনিটে জনবল হবে সাড়ে ৮০০। প্রায় ৬ মাস আগে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এপিবিএন সদর দপ্তর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। যাচাই শেষে সদর দপ্তর সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন।

এপিবিএনের এএসপি রুনা লায়লা জানান, ‘গত পুলিশ সপ্তাহে অস্ত্র এবং চোরাচালন উদ্ধারে এপিবিএন প্রথম হয়েছে। অভূতপূর্ব এই সাফল্যে আমরা নিজেরাও এতে অবাক হয়েছি। এটা শুধু কক্সবাজার এবং সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এপিবিএন সদস্যদের সাফল্য। যদি সব ব্যাটালিয়ন একযোগে এ ধরনের অভিযান চালায় তাহলে নিশ্চয় ইউনিট হিসাবে এপিবিএনের সফলতা হবে আরও অনেক বেশি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • কুষ্টিয়ায় ফিলিং স্টেশনে আগুন, নিহত ২
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করার চিন্তা
  • সারা বিশ্বে তেলের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে : তথ্যমন্ত্রী
  • রাজশাহীতে বাসের ধাক্কায় বাইকে আগুন, প্রাণে বাঁচলেন চালক
  • ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ শিকার রোহিঙ্গা নেতারা
  • অবৈধ ৫০৭ মানি চেঞ্জারের ব্যবসা বন্ধে ব্যবস্থা
  • ‘সেপ্টেম্বর থেকে আ.লীগের দখলে থাকবে রাজপথ’
  • খেলাপি ঋণ ছাড়াল সোয়া লাখ কোটি টাকা
  • এক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সমন্বয় হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
  • শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রবেশে লাগবে টিকা সনদ
  • পদ্মা সেতুতে বসানো হলো অত্যাধুনিক ক্যামেরা
  • দখলকৃত পরমাণু কেন্দ্র থেকে রাশিয়ার হামলা, নিহত ১৩
  • বাগমারায় হবে আরও ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক
  • দেশে কত দিনের জ্বালানি তেল মজুত জানাল বিপিসি
  • ভাইদের বিরুদ্ধে বোনের কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
  • উপরে