ভারতীয় গম রপ্তানিতে আমিরাতের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২২; সময়: ৪:০০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভারত থেকে আনা গম ও গমের আটার রপ্তানি এবং পুনরায় রপ্তানি চার মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। বুধবার আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ওয়ামের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে ব্যাঘাতের কারণে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে গমের রপ্তানিতে ভারতের অনুমোদন রয়েছে।

এর আগে, গত ১৩ মে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী ভারত এই খাদ্যশস্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবসায়ীরা কেবল সরকারি অনুমোদন নিয়ে নতুন রপ্তানি চুক্তি করতে পারবে। নিষিদ্ধ করার পরও তখন থেকে ভারত ৪ লাখ ৬৯ হাজার ২০২ টন গম রপ্তানি করেছে।

সেই সময় দেশটির সরকারি আদেশে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে যেসব ঋণপত্র ইস্যু হয়েছে এবং যেসব দেশ খাদ্যনিরাপত্তার জন্য রপ্তানির অনুরোধ জানিয়েছে, সেই দেশগুলোতে গম রপ্তানির অনুমতি দেবে নয়াদিল্লি।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দরিদ্র এই দেশটিতে মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি খরা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এর প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারেও; দেশটির কিছু কিছু অঞ্চলে গমের দাম বেড়েছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা কোনও কোনও এলাকায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক দাম বৃদ্ধির কারণে দেশটির কিছু কৃষক সরকারের কাছে গম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে এই খাদ্যশস্য বিক্রি করছে। এর ফলে সম্ভাব্য যেকোনও দুর্ভিক্ষ এড়াতে এবং মহামারিতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া লাখ লাখ পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ২ কোটি টন গম মজুতের পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির সরকার চিন্তিত।

আমিরাতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ মের আগে আমিরাতে আনা যেসব গম কোম্পানিগুলো রপ্তানি এবং পুনরায় রপ্তানি করতে চায়, তাদের অবশ্যই অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রথমে আবেদন করতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারত একটি সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশের সব পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক বাণিজ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নামের এই চুক্তি গত ১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে