ইউরোপ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ছে বিরল রোগ মাঙ্কিপক্স

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২২; সময়: ১১:১০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আফ্রিকা থেকে ছড়ানো মাঙ্কিপক্স নামে একটি বিরল রোগ যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা, স্পেন, পর্তুগাল এবং ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে।

এই রোগ প্রথম ছড়িয়েছিল একটি বানর থেকে। এরপর ১৯৭০ সাল থেকে আফ্রিকার ১০টি দেশে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বানর, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি এমনকি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত বিছানাপত্র থেকেও এই ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের প্রভাব বেশ মৃদু। এর বৈশিষ্ট্য জল বসন্তের মতোই এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বিরল এই রোগের সর্বশেষ কেস ধরা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যানাডায় মাঙ্কিপক্সের ১৩টি কেসের ঘটনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করে দেখছে।

পর্তুগালে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ ব্যক্তি এবং স্পেনে আরও সাতজন সংক্রমিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ব্রিটেনে আক্রান্ত হয়েছেন মোট নয় জন।

এই রোগ ছড়ায় মাঙ্কিপক্স নামে এক ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি অনেকটা জল বসন্তের ভাইরাসের মতো।

তবে এর ক্ষতিকারক প্রভাব কম এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সংক্রমণের হারও কম। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার নিরক্ষীয় বনাঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।

মাঙ্কিপক্স দু’ধরনের হয়ে থাকে- মধ্য আফ্রিকান এবং পশ্চিম আফ্রিকান। ব্রিটেনে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন যে দু’ব্যক্তি, তারা সম্প্রতি নাইজেরিয়া সফর করেছেন। সম্ভবত তারা পশ্চিম আফ্রিকা ধরনের মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তৃতীয় যে ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি রোগীদের কাছ থেকে এই ভাইরাস পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, মাথাব্যথা, হাড়ের জয়েন্ট এবং মাংসপেশিতে ব্যথা এবং দেহে অবসাদ।

জ্বর শুরু হওয়ার পর দেহে গুটি দেখা দেয়। এসব গুটি শুরুতে দেখা দেয় মুখে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে হাত এবং পায়ের পাতাসহ দেহের সব জায়গায়।

এই গুটির জন্য রোগী দেহে খুব চুলকানি হয়। পরে গুটি থেকে ক্ষত দেখা দেয়। গুটি বসন্তের মতোই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও দেহে এসব ক্ষত চিহ্ন রয়ে যায়।

সংক্রমিত রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে, ত্বকের ক্ষত থেকে এবং নাক, মুখ ও চোখের ভেতর দিয়ে এই ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই ভাইরাসে রোগী শনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। সেটাই ছিল এই ভাইরাস আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম কেস। যুক্তরাষ্ট্রে এপর্যন্ত ৮১টি কেস ধরা পড়েছে।

মাঙ্কিপক্সের সবচেয়ে বড় প্রকোপ দেখা দেয় নাইজেরিয়াতে, ২০১৭ সালে। দেশটিতে মাঙ্কিপক্সের প্রথম কেস ধরা পড়ার ৪০ বছর পর। এতে ১৭২ জন আক্রান্ত হন।

এই ভাইরাসের কোন চিকিৎসা নেই। তবে যে কোন প্রাদুর্ভাবের মতোই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে এর প্রকোপ রোধ করা যায়।

গুটি বসন্তের টিকা ৮৫ শতাংশ কার্যকর বলে দেখা গেছে। মাঙ্কিপক্সের জন্য এখন এই টিকাই ব্যবহার করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • সাম্প্রদায়িকতার জেরে হিন্দু দর্জিকে হত্যা, রাজস্থানে রেড এলার্ট
  • ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি, প্রাণ গেল যুবকের
  • বিশ্বে মোট শনাক্ত ছাড়াল ৫৫ কোটি, মৃত্যু আরও ১৩২৬
  • ব্যাংকে গোলাগুলি, নিহত ২
  • পোস্তগোলা ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারীদের জন্য সুখবর
  • ছেলের প্রেমের দায়ে মাকে পুড়িয়ে হত্যা
  • শতবর্ষী ব্যক্তিকে ৫ বছরের জেল
  • ঈদে যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রস্তুত পদ্মা সেতু
  • ইভিএমের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান আ.লীগের
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
  • ফের মাস্ক বাধ্যতামূলক
  • রাজশাহীতে ২য় বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকের চ্যাম্পিয়ন রাইমা রেঞ্জার্স
  • শিবগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে হত্যা
  • শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার ৩
  • করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,০৮৭
  • উপে