নানা কৌশলেও ঠেকানো যাচ্ছে না দরপতন

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২২; সময়: ১:০৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নিত্যপণ্যের মূল্যের বাজারে যখন আগুন; তখন শেয়ারবাজারে শেয়ারের দর হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। টানা সপ্তম দিনে দরপতন ঠেকাতে যত রকম কৌশল হাতে ছিল- তার সবই প্রয়োগ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু তার ফলও শূন্য।

লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২২৪ পয়েন্টে নেমেছিল।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেনে আসা ৩৬৫ শেয়ারের মধ্যে ২৯৪টি বা ৮০ শতাংশ দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। বিপরীতে দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৪৩টি বা ১১ শতাংশ শেয়ার।

এর মধ্যে ২৮ শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। শেয়ার দরে সার্কিট ব্রেকার হলো- নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত দরে কেনাবেচা হতে পারবে, তার নিয়ম। দরপতন ঠেকাতে নিচের সার্কিট ব্রেকার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সকাল ১০টায় দিনের স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর মাত্র ১০ মিনিটে সূচকটি ৬৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২৪৪ পয়েন্টে নেমেছিল। দরপতন ঠেকিয়ে দিতে লেনদেন শুরুর আগের প্রি-ওপেনিং সেশনে কেউ যাতে গতকালের তুলনায় কম দরে শেয়ার বিক্রির আদেশ না বসায়- তার কড়া আদেশ ছিল বিএসইসি থেকে।

এমনকি কোনো ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক তার গ্রাহকদের (বিনিয়োগকারী) কাছ থেকে স্বাক্ষরসহ লিখিত বিক্রির আদেশ না নিয়ে শেয়ার বিক্রির আদেশ না বসান- তারও কড়া নির্দেশ দিয়েছিল বিএসইসি।

সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগের প্রি-ওপেনিং মার্কেটের শেয়ার কেনা ও বেচার অর্ডারগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ফু-ওয়াং সিরামিক, ইন্টারনাশনাল লিজিংসহ ২/৪টি ব্যতিক্রম ছাড়া সব শেয়ারের বিক্রির আদেশ ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি দরে। কিন্তু ক্রেতাদের থেকে ওই গতকালের তুলনায় কম দরেই ক্রয় আদেশ বসিয়েছিলেন।

ফলে আগের দিনের থেকে কম দরে শেয়ার বিক্রির আদেশ বসানো ঠেকানো গেলেও ক্রেতার সাড়া না পেয়ে লেনদেন শুরুর পরই বিক্রেতারাও কম দরে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন। তাতে টানা সপ্তম দিনে দরপতন শুরু হয়।

আজকের শুরুর লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেলা ১০টা ১২ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ৭৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল।

এ সময় সূচক পতনের কারণ ছিল- রেনাটা, স্কয়ার ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, ডেলটা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক, রবি, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কোম্পানির মত ‘হেভি-ওয়েট’ শেয়ারের দরপতন।

শুধু এসব শেয়ারের দরপতনে সূচক হারিয়েছিল ৪২ পয়েন্ট। এর মধ্যে রেনাটার শেয়ারদর ১৩৫১ টাকা থেকে ১২৮৫ টাকায় নামায় সূচক হারিয়েছিল প্রায় ১৫ পয়েন্ট।

শুরুর ব্যাপক দরপতনের পর আইসিবিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে শেয়ার কিনে পতন ঠেকাতে সক্রিয় হয় সংশ্লিষ্টরা।

যেসব শেয়ারে সূচকের বড় পতন হচ্ছিল, সেসব শেয়ার কিনে পতন ঠেকানোর কৌশল নেওয়া হয়। যেমন- রেনাটার দর এসময় বেড়ে ১৩০৫ টাকায় ওঠে।

স্কয়ার ফার্মার দর ২১৪ থেকে ফের ২১৬ টাকায়, বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকোর দর ৫৩৫ টাকা থেকে ৫৩৯ টাকায় উঠে আসে।

এ অবস্থায় সকাল ১০টায় ডিএসইএক্স সূচকের পতন মাত্র ৯ পয়েন্টে নেমে আসে। এ সময় সূচক উঠে আসে ৬৩০০ পয়েন্ট। এ সময় পর্যন্ত লেনদেনে আসা ৩৩৫ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩১টিকে দর বেড়ে, ১৪৬টি দর হারিয়ে এবং ৫৮টিকে দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

কিন্তু এ অবস্থায় ১০টা ১২মিনিট থেকে ১০টা ৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত বজায় রাখা গেছে। এরপর ফের দরপতন শুরু হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ দরপতন চলছিল।

গত ১০ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা ছয় কার্যদিবসের দরপতনে ডিএসইএক্স সূচকের এরই মধ্যে ৩৮৮ পয়েন্ট বা ৬.৮০ শতাংশ পতন হয়েছে। চলতি দরপতন শুরু হয়েছিল গত বছরের ১০ অক্টোবরের পর।

২০২০ সালের জুলাই থেকে ওই সময় পর্যন্ত অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধির পর মুনাফা তুলে নিতে বড় ও কৌশলী বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি জুয়াড়ি চক্র শেয়ার বিক্রি শুরু করলে দরপতনের সূচনা হয়।

মাঝে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দরপতনকে ত্বরান্নিত করে। এখন শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে অনেকের মধ্যে বাংলাদেশেও এমন সংকট তৈরির শঙ্কা করছেন। এতে বিনিয়োগকারীরা ভীত হতে পারেন বলে মনে করছেন।

সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি এ শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সামনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। এটি হলে ব্যবসায় মুনাফা কমার শঙ্কা আছে।

এসব কারণেও বিনিয়োগকারীরা আগাম সতর্কতা হিসেবে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টায় আছেন। এ কারণে দরপতন ত্বরান্নিত হচ্ছে বলে মনে করেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে