বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান লেখা কফিল পেলেন বাড়ি

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২২; সময়: ১১:৪০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে আট বছর ধরে রিকশা চালান কফিল উদ্দিন। রিকশা চালানোর সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিজের লেখা গান যাত্রীদের গেয়ে শোনান।

বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ২১টি গান রয়েছে তাঁর ভান্ডারে। পেটের দায়ে রিকশা চালালেও তাঁর বঙ্গবন্ধুপ্রেম আকৃষ্ট করেছে মানুষকে। এই গান গেয়েই কপাল খুলেছে তাঁর।

দরিদ্র রিকশাচালক কফিল পেয়েছেন সরকারি একটি বাড়ি। বাঁশখালীর চাম্বলের নতুন বাড়িতে এখন পরিবার নিয়ে সুখেই বসবাস করছেন তিনি।

নগরের অলিগলিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রিকশাচালক কফিলের গান গেয়ে বেড়ানো নিয়ে ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপর বেসরকারি একটি টেলিভিশনে তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হন রিকশাচালক কফিল।

সংবাদ ও ভাইরালের বিষয়টি বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, ইউএনও সাইদুজ্জামান চৌধুরীর নজরে পড়ে। শহর থেকে বাঁশখালীতে ডাক পড়ে তাঁর।

সেখানে কফিলের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান শোনেন তাঁরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর স্বরচিত গান শুনে মুগ্ধ হয়ে কফিলকে একটি সরকারি বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর গত ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে বাঁশখালীর চাম্বলের পাহাড়ি এলাকায় নতুন নির্মিত একটি বাড়ি ও দুই শতক জায়গার একটি দলিল উপহার পান কফিল।

কফিলের পাশাপাশি বাঁশখালীতে এবার ১২০ পরিবারকে নতুন ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। বাঁশখালীর গণ্ডামারায় তাঁর জন্মস্থান হলেও সেখানে থাকার মতো বাড়ি না থাকায় শহরে একটা ভাড়া বাসায় থাকেন। রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই সংসার চলত তাঁর।

কফিল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে রিকশা চালাচ্ছি। রিকশা চালানোর সময় মনের শান্তির জন্য স্বরচিত গান গেয়ে যাত্রীদের আনন্দ দিই। আমার গাওয়া গান নিয়ে পত্রিকা ও টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর তা ভাইরাল হয়। যতদিন বেঁচে থাকব বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান গেয়ে যাব।’

রিকশা চালিয়ে তিনি দিনে তিনশ থেকে চারশ টাকা আয় করেন। একশ টাকা রিকশার জমা দেওয়ার পর যা থাকে, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।

তাঁর আয় থেকে নিজের খরচ রেখে বাকি টাকা বাঁশখালীর গ্রামের বাড়িতে থাকা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কফিল মেজো। আয় বেশি না হওয়ায় রিকশা চালানো শেষে রাতে নগরীর বহদ্দারহাটের হাসানের রিকশা গ্যারেজেই ঘুমান তিনি।

২৩ বছরের তরুণ কফিল উদ্দিন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা লালিবাড়ির আকতার হোসেনের ছেলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গানের মধ্যে আছে- ‘আমরা জাতে বাঙালি… তাজা বুকের রক্ত ঢালি। পাঞ্জাবির লয় যুদ্ধ করি…।’ ‘লাল সবুজের পতাকা জিয়ান… যত দেখি একনজর…। তখনই কাঁদে মন-নান বঙ্গবন্ধুর লায়…।’ ‘একাত্তরে স্বাধীনতায় আমরা জয় করিলাম বঙ্গবন্ধুরে… আমরা ভুলব না শেখ মুজিবুরের কথা রে। আমরা ভুলব না শেখ হাসিনার কথা রে…।’ ‘বঙ্গবন্ধুর মাঝি আঁই… তোরা কন কন জাবি আয়। তোরা কন কন জাবি আঁর নৌকায়…।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে