ইউক্রেনে যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ ডেকে আনবে

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২২; সময়: ১০:৩৩ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টানা প্রায় তিন মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। আর এই আগ্রাসনের কারণে আসন্ন মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জাতিসংঘ।

এমনকি এর কারণে বছরের পর বছর ধরে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ চলতে পারে বলেও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে চালানো রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর এই হামলা শুরুর পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম। আর এতেই বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়। এমনকি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলছেন, চলমান এই যুদ্ধের কারণে খাদ্যদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দাম বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে আরও খারাপ করে তুলেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের রপ্তানি কার্যক্রম যদি যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয় তবে বিশ্ব দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে এবং সেটি বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে।

বিবিসি বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান এই যুদ্ধ পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ থাকা ইউক্রেনের এসব বন্দর থেকে একসময় প্রচুর পরিমাণে সূর্যমুখী তেলের পাশাপাশি ভুট্টা এবং গমের মতো খাদ্য রপ্তানি হতো।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় ইউক্রেনীয় রপ্তানি বন্ধের পর বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ কমে গেছে এবং ইউক্রেনের বিকল্প পণ্য ও উৎসগুলোরও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে কথা বলার সময় আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, চলমান এই সংঘাত লাখ লাখ মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে অপুষ্টি, ব্যাপক ক্ষুধা এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা একসাথে কাজ করি তাহলে আমাদের পৃথিবীতে এখনও যথেষ্ট খাবার আছে। কিন্তু যদি আমরা আজ এই সমস্যার সমাধান না করি তাহলে আমরা আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হবো।’

জাতিসংঘের মহাসচিব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইউক্রেনের খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক করা ছাড়া সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান নেই। একইসঙ্গে রাশিয়া ও বেলারুশের উৎপাদিত সারকে বিশ্ব বাজারে ফের প্রবেশ করতে না দিলেও খাদ্য সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হবে না।

আন্তেনিও গুতেরেস আরও বলেন, খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক স্তরে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় রাশিয়া এবং ইউক্রেনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র সাথে ‘ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ’ রক্ষা করছেন তিনি।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষায়, ‘জটিল নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়ে কাজ করতে হলে সব পক্ষেরই সদিচ্ছা প্রয়োজন।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • শেখ হাসিনার প্রশংসায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
  • দারিদ্র্যের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ : জয়
  • দুর্ঘটনায় চার শিক্ষক নিহত শোকে স্তব্ধ পরিবার
  • অঙ্কুরেই শেষ শিক্ষক লেলিনের স্বপ্ন
  • সংকটের মুখে মৃৎ শিল্প
  • স্কুল-কলেজে মাস্ক পরার নির্দেশ
  • এবার দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু
  • কালের স্বাক্ষী গান্ধী আশ্রম হতে পারে সম্ভাবনার পর্যটন কেন্দ্র
  • রাজশাহী-কক্সবাজার রুটে চালু হচ্ছে বিমান
  • এবার দেশসেরা স্কুল রাজশাহীর পিএন
  • রাজশাহীতে এবার ওজনে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু
  • ২৮ বছর পর যেভাবে দেখা মিলল বাবা-ছেলের
  • সব থানায় চালু হচ্ছে অনলাইন জিডি
  • সিলেটজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
  • পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিলের নেপথ্যে যেভাবে কলকাঠি নেড়েছেন ড. ইউনূস
  • উপে