চড়ক উৎসব দেখতে পদ্মাপাড়ে মানুষের ঢল

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২২; সময়: ১১:২৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরের পদ্মা পাড়ে এবারই প্রথম চড়ক পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তাইতো পূজা দেখতে নেমেছে হাজার হাজার মানুষের ঢল। সোমবার রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি এলাকার পদ্মা সার্বজনীন শিব মন্দিরে চলছে চড়ক পূজার এই উৎসব।

কথায় আছে, বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই কথাটা যে কতখানি সত্যি তা আমরা সকলেই জানি। উৎসব শুরু হয় পয়লা বৈশাখ দিয়ে, আর শেষ হয় চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে। প্রতিটি উৎসবই কিছু না কিছু মাঙ্গলিক বার্তা বহন করে। বাঙালীর এই সমস্ত উৎসবের মধ্যে চৈত্র সংক্রান্তি ও চড়কের পুজো বেশ বিখ্যাত।

এটি মূলত বাঙালী হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষ দিন বা চৈত্র সংক্রান্তিতে এই উৎসব পালিত হয়। চড়কের ঠিক আগের দিন নীলষষ্ঠী পালিত হয়। আর, নববর্ষের প্রথম দু’তিন দিনব্যাপী চড়ক পূজার উৎসবও চলে। এই পূজার বিভিন্ন নাম রয়েছে নীল পূজা, গম্ভীরা পূজা, শিবের গাজন ইত্যাদি। এবছর ১৪ এপ্রিল পড়েছে চড়ক পূজা। কিন্তু জানেন কি এই চড়ক পূজার উদ্ভব কীভাবে?

চড়ক কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা মুনির নানা মত। এর সঠিক ইতিহাস এখনও তেমন পরিষ্কার নয়। তবে প্রচলিত রয়েছে, রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর ১৪৮৫ সালে এই পুজোর প্রচলন করেন। তবে রাজ পরিবারের লোকজন এই পুজো আরম্ভ করলেও চড়ক পুজো কখনও রাজবাড়ির পুজো ছিল না, বরং এটি ছিল হিন্দু সমাজের লোকসংস্কৃতি।

তবে সব পুজোয় ব্রাহ্মণ প্রয়োজন হলেও, এই পুজোর ক্ষেত্রে কিন্তু নিয়ম একেবারেই আলাদা। শোনা যায়, চড়ক পুজোর সন্ন্যাসীরা প্রত্যেকেই ছিলেন হিন্দু ধর্মের তথাকথিত নীচু সম্প্রদায়ের লোক। তাই এই পূজায় এখনও কোনও ব্রাহ্মণের প্রয়োজন পড়ে না।

চড়ক পূজার আগের দিন চড়ক গাছকে ভাল করে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। তারপর জলভরা একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ রাখা হয়, যা ‘বুড়োশিব’ নামে পরিচিত। এই পূজো করেন পতিত ব্রাহ্মণরা। চড়কগাছে সন্ন্যাসীদের চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তার পিঠে, হাতে, পায়ে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গে জ্বলন্ত বাণ শলাকা ঢুকিয়ে দেওয়ার রীতিও রয়েছে।

এছাড়াও, কুমিরের পুজো, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, গায়ে ধারালো জিনিস ফোটানো, ধারালো কিছুর ওপর লাফানো, শিবের বিয়ে, অগ্নিনৃত্য, ইত্যাদি এই পুজোর বিশেষ অঙ্গ হিসেবে মনে করা হয়।

চড়ক পুজোর উৎসবে যারা অংশ নেয়, তারা বিভিন্ন রকমের দৈহিক যন্ত্রণা সহ্য করে মনোরঞ্জন করে, যা ধর্মের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করা হয়। এই সব পুজোর মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের ওপর বিশ্বাস। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর, নদীয়া, তারকেশ্বর, বাঁকুড়া, হুগলী-এর বেশ কয়েকটি গ্রামে এই উৎসব পালিত হয়।

এছাড়াও আরও অনেক জায়গায় চড়ক পূজা প্রচলন রয়েছে। মূলত গ্রামাঞ্চলে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। চড়কের জন্য বিশেষ মেলাও বসে।

সাধারণত চৈত্রের শেষ দিনে ও বৈশাখের প্রথম দু-তিন দিনব্যাপী চড়ক পূজার উৎসব চলে। এটি চৈত্র মাসে পালিত হিন্দু দেবতা শিবের গাজন উৎসবের একটি অঙ্গ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে যা চড়ক সংক্রান্তির মেলা নামে অভিহিত। কিন্তু রাজশাহী শহরে এই উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেনো গ্রাম-বাংলার চিরাচরিত সেই ঐতিহ্য ফুটে ওঠেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • করোনার সামাজিক সংক্রমণের শঙ্কা
  • এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পশুবাহী বিশেষ ট্রেন
  • সব শহরে রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • করোনা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ৬ নির্দেশনা
  • রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য বীমা সুবিধা চালু
  • পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিতে কমিশন গঠনের নির্দেশ
  • রাজশাহীতে শেয়ালের কামড়ে ২৭ জন জখম
  • রাজশাহীসহ ১২ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
  • যুক্তরাষ্ট্রে লরির ভেতর থেকে ৪৬ মরদেহ উদ্ধার
  • রাজশাহীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ ভূমি মালিক পেলেন ২২ কোটি টাকা
  • জমি নিয়ে হয়রানির শিকার ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ বসাক
  • পদ্মা সেতুর ওপর গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে জরিমানা
  • রাজশাহীতে দিন-দুপুরে আ.লীগ নেতাকে অপহরণ
  • রাজশাহীতে রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিক্ষোভে আনসারের বাঁধা, ধস্তাধস্তি
  • সন্ত্রাসী হামলায় মেক্সিকোতে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত
  • উপে